তথ্য ফাঁসের অভিযোগে ওপেনএআই থেকে বরখাস্ত তিন কর্মী
গেল কয়েক মাসে ওপেনএআইয়ের বিভিন্ন এআই মডেল কোনো প্রম্পট বা নির্দেশনা ছাড়াই নিজে থেকে বিভিন্ন সাইটে হ্যাকিং চালিয়েছে।
গোপন তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে ফাঁস করার অভিযোগে নিজেদের নিরাপত্তা টিম থেকে তিন কর্মীকে বরখাস্ত করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি ওপেনএআই।
এরইমধ্যে নিজেদের তৈরি প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা কোম্পানিটি।
গেল কয়েক মাসে ওপেনএআই স্বীকার করেছে, তাদের এআই মডেলগুলো কোনো প্রম্পট বা নির্দেশনা ছাড়াই নিজে থেকে বিভিন্ন সাইটে হ্যাকিং চালিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে, একটি জার্মান কোডিং ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সরকারি ওয়েবসাইট, অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি ওয়েবসাইট, এআই কোম্পানি ‘হাগিং ফেইস’ ও অন্তত আরও চারটি সেবা।
মডেলগুলোকে ইন্টারনেট ব্যবহারের অবাধ সুযোগ না দেওয়ার পরও পরীক্ষামূলক পরিবেশগুলোতে এআইয়ের মধ্যে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ দেখা গেছে।
এসব ঘটনা ও সেগুলো যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে তা নিয়ে ওপেনএআই এখন তীব্র সংশয় ও উদ্বেগের মুখে রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এআই সেইফটি নিয়ে কাজ করে এমন একটি থার্ড পার্টি কোম্পানির সঙ্গে গোপন তথ্য শেয়ার করার অভিযোগে ওপেনএআই তাদের সেইফটি টিম থেকে তিন কর্মীকে বরখাস্ত করেছে।
বিষয়টি এতটাই পরস্পরবিরোধী যে বিশ্বাস করাও যেন কঠিন!
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে ওপেনএআইয়ের একজন প্রতিনিধি বলেছেন, “কোম্পানির সংবেদনশীল তথ্য প্রবেশ ও পরিচালনা সংক্রান্ত আমাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করার কারণে আমরা তিনজন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি।
“আমাদের তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে, এ ব্যক্তিরা কোম্পানির নির্ধারিত প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে সংবেদনশীল তথ্য ভুলভাবে হ্যান্ডেল করেছেন, যা আমাদের নীতিমালা ও কাজের জন্য জরুরি পারস্পরিক বিশ্বাসের পরিপন্থী।”
এ নির্দিষ্ট ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায়নি। তবে এটা পুরোপুরি সম্ভব যে, ওপেনএআইয়ের কাছে ওই কর্মীদের বরখাস্ত করার মতো যথেষ্ট বৈধ কারণ ছিল।
ঠিক এমন একটা সময়ে এ তথ্য সামনে এল যখন নিজেদের তৈরি এআই পরিষেবাগুলোই তাদের মেনে চলার কথা এমন সব নীতিমালা লঙ্ঘন করছে।
এমন অবস্থায়, নিরাপত্তা কর্মীদের বরখাস্ত করা সম্ভবত কোম্পানিটির ইমেজের জন্য খুবই নেতিবাচক হবে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
