বিভিন্ন দেশের এআই নীতিতে দুর্বলতা দূর করতে জাতিসংঘের উদ্যোগ

কিছু এআই কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’র মতো একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা তৈরির প্রস্তাব জুন মাসে দিলে তাতে সমর্থন জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Nov 2023, 11:18 AM
Updated : 1 Nov 2023, 11:18 AM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি এবং সম্ভবনাকে আরও নিবিড়ভাবে যাচাই করে বিশ্বব্যাপী সরকার এবং প্রাইভেট সেক্টরের জন্য রূপরেখা তৈরি করবে জাতিসংঘ।

আন্তর্জাতিকভাবে এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে এ বিষয়ক সংকটসগুলো শনাক্তে গত সপ্তাহে ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করেছে জাতিসংঘ। এই কমিটি বছরের শেষ নাগাদ একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং আগামী বছর একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের প্রযুক্তি দূত আমানদিপ সিং গিল।

“বিভিন্ন দেশে প্রচলিত নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলো একত্রে মিলিয়ে আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে, যেন আমরা সীমাবদ্ধতাগুলো বের করে সেগুলো নিরসন করতে পারি এবং যেন কোন ফাঁক-ফোকড় রয়ে না যায়।”--  বলেন গিল।

এআই থেকে শুরু করে নিউরাল টেকনোলজিস পর্যন্ত হাল আমলের নানা প্রযুক্তিগত বিষয়কে জাতিসংঘের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়ে গত বছর গিলকে নিয়োগ দেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস।

দ্রুতগতিতে বিকশিত হতে থাকা প্রযুক্তিগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

‘অ্যাডভান্সড এআই’ তৈরিতে কোম্পানিগুলোর একটি আচরণবিধি তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে শিল্পোন্নত শীর্ষ সাত দেশের জোট জি৭। এদিকে ইউরোপ যখন এআই নীতিমালা প্রণয়ণের দ্বারপ্রান্তে, তারমধ্যেই সোমবার এআই নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এ সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক এআই নিরাপত্তা সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের এআই বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের দেওয়া প্রস্তাবনা আগামী বছর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের সম্মেলনে আলোচিত হবে বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স লিখেছে তাদের প্রতিবেদনে।

কিছু এআই কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’র মতো একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা তৈরির প্রস্তাব জুন মাসে দিলে তাতে সমর্থন জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।

বিভিন্ন দেশে কীভাবে নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ডগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে, অথবা সেগুলোর মধ্যে কোনো পরিমার্জনের প্রয়োজন আছে কি না- সেসব নিয়ে দেশগুলোর আইন প্রণেতাদের একযোগে আলোচনার পথ করে দিচ্ছে জাতিসংঘ।

এআইবিষয়ক এই পরিষদের সহ-সভাপতি হিসাবে রয়েছেন স্পেনের ডিজিটাল মন্ত্রী কার্মে আর্টিগাস এবং আলফাবেটের জেমস মানিয়াকা। তাদের মধ্যে অন্তত তিনটি সভা এবং বেশ কিছু আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।