এলভিসের ২৭৪ গান চুরি, মামলা অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে
কোনো সংগীতশিল্পীর উত্তরাধিকারী কোম্পানির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো এআই কোম্পারির বিরুদ্ধে এত বড় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
অনুমতি ছাড়া গান ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের অভিযোগে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মার্কিন সংগীত কিংবদন্তি এলভিস প্রিসলির গানের উত্তরাধিকারীরা।
সংগীত সাময়িকী বিলবোর্ড প্রতিবেদনে লিখেছে, শুক্রবার মামলাটি দায়ের করেছে প্রিসলির সংগীত ও কাজের লাইসেন্সের মালিক কোম্পানি ‘অথেনটিক ব্র্যান্ডস গ্রুপ’।
অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে প্রিসলির মোট ২৭৪টি গানের কপিরাইট বা স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে তারা।
এর আগে ‘রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’ বা আরআইএএ এবং সনি, ইউনিভার্সাল ও ওয়ার্নার রেকর্ডসের মতো বড় মিউজিক লেবেলগুলো এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের দাবি জানিয়ে একাধিক মামলা করেছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, কোনো সংগীতশিল্পীর উত্তরাধিকারী কোম্পানির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো এআই কোম্পারির বিরুদ্ধে এত বড় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মামলার রায় নির্ধারণ করে দিতে পারে, বিভিন্ন এআই কোম্পানি ভবিষ্যতে কীভাবে মিউজিক ক্যাটালগগুলো ব্যবহারের সুযোগ পাবে বা আদৌ পারবে কি না।
মামলার নথিতে বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী রিচার্ড বুশ বলেছেন, “এলভিস বাদীরা এমন বিবাদীর বিরুদ্ধে তাদের এই একচেটিয়া অধিকার সুরক্ষায় মামলাটি দায়ের করেছেন, যারা নজিরবিহীন মাত্রায় কপিরাইট লঙ্ঘন করে পুরো ব্যবসায়িক মডেল দাঁড় করিয়েছে।”
মামলায় দাবি করা হয়েছে, “শুরু থেকেই অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ক্লড ইন্টারনেটে থাকা প্রায় সব ক্যাটালগের সবকটি গানের স্বত্বাধিকারওয়ালা উপাদান কপিরাইট লঙ্ঘন করে আউটপুট হিসেবে তৈরি করে আসছে।”
মামলায় অ্যানথ্রপিককে তাদের এআই মডেল প্রশিক্ষণে প্রিসলির ২৭৪টি গান ব্যবহারের জন্য অভিযুক্ত করেছে স্বত্বাধিকারীরা।
এসব গানের মধ্যে রয়েছে ‘ক্যান্ট হেল্প ফলিং ইন লাভ’, ‘অল শুক আপ’ ও ‘এ লিটল লেস কনভারসেশন’-এর মতো কালজয়ী সৃষ্টি।
প্রতিটি কপিরাইট লঙ্ঘিত গানের জন্য দেড় লাখ ডলার করে মোট প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন বাদীরা।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, “ধরা পড়ার পর কপিরাইট লঙ্ঘিত আউটপুট আটকে রাখতে অ্যানথ্রপিকের গার্ডরেইল বা সুরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হলেও তা ছিল অকার্যকর।
“কোম্পানিটির এই ব্যবস্থা যে সংগীত কপিরাইট লঙ্ঘন ঠেকাতে অক্ষম তা জানার পরও কোম্পানিটি ব্যবস্থা নেয়নি, যার থেকে প্রমাণ মেলে, অ্যানথ্রপিক জেনেশুনেই অন্যদের সংগীতকর্মের কপিরাইট লঙ্ঘন করে চলেছে ও ইচ্ছা করেই তা চালিয়ে যাচ্ছে।”
এআই মিউজিক প্ল্যাটফর্মগুলো বিপুল পরিমাণ রেকর্ড করা গান বিশ্লেষণের মাধ্যমে গানের সুর, কাঠামো ও ভাবপ্রকাশ শেখে।
এরপর ব্যবহারকারীদের লেখা বা মুখের নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব এআই-জেনারেটেড সংগীত তৈরির সুযোগ দেয়।
সংগীতশিল্পীরা বারবার বলে আসছেন, তাদের অনুমতি ছাড়াই এআই মডেলগুলো তাদের গান ও কণ্ঠ ব্যবহার করছে।
পাশাপাশি, এআই দিয়ে তৈরি মানহীন মিউজিক শেষ পর্যন্ত মানুষদের তৈরি গানের জায়গা দখল করে নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
কিছু এআই বট মিউজিক স্ট্রিম প্ল্যাটফর্মগুলোতে জীবিত শিল্পীদের ছদ্মবেশ নিতে শুরু করেছে।
গেল সপ্তাহেই জনপ্রিয় মিউজিক স্ট্রিম প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই বলেছে, গেল এক বছরে ব্যবহারকারীদের রেকমেন্ডেশন তালিকা এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের ও অনাকাঙ্ক্ষিত গান থেকে তারা প্রায় ৫ কোটি গান সরিয়ে নিয়েছে।
