৫ এপ্রিলের মধ্যে টিকটক বিক্রি না হলে সে মেয়াদ তিনি বাড়িয়ে দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
Published : 05 Apr 2025, 04:03 PM
প্রযুক্তি আর অর্থনীতির যেন ভলিবল খেলা চলছে চীন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। আর এর মধ্যে বল হয়ে একবার এ কোর্টে আরেকবার ওই কোর্টে গিয়ে পড়ছে টিকটক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন রাজস্ব নীতির জবাবে চীন জানিয়ে দিয়েছে, চীনের ওপর ওই নীতি প্রয়োগ করলে টিকটক বিক্রির অনুমোদন মিলবে না। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স বলছে, এর পরপরই টিকটক বিক্রির বাধ্যবাধকতা ফের ৭৫ দিনের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রে আগের প্রশাসন গত বছর ১৯ জানুয়ারির মধ্যে অ্যাপটি বিক্রির জন্য একটি বিল পাস করেছিল, যাতে সই করে তা আইনে পরিণত করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
তবে, এর বছর ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেই ওই মেয়াদ ৭৫ দিনের জন্য বাড়িয়ে এক নির্বাহী আদেশে সই করেন ডনাল্ড ট্রাম্প।
সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৫ এপ্রিল, শনিবার। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নানা দেশসহ চীনের ওপরও নতুন বাড়তি শুল্ক আরোপ করে এবং সেটিও কার্যকর হয় ৫ এপ্রিলের প্রথম প্রহরেই।
নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রাম্প কার্যত তার আগের ধারাবাহিকতাই বজায় রাখলেন। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ৫ এপ্রিলের মধ্যে টিকটক বিক্রি করতে না হলে সে মেয়াদ তিনি বাড়িয়ে দিতে পারেন।
আগে যা হয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল ‘প্রটেকটিং আমেরিকানস ফ্রম ফরেন অ্যাডভারসারি কন্ট্রোলড অ্যাপলিকেশন অ্যাক্ট’ নামের একটি বিলে সই করলে যুক্তরাষ্ট্রে হুমকির মুখে পড়ে টিকটক।
ওই আইনে বলা হয়, চীনা মূল কোম্পানি বাইটড্যান্স টিকটকে তাদের অংশীদারত্ব ছয় মাসের মধ্যে কোনো আমেরিকান কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেবে, নয়ত যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপটিকে নিষিদ্ধ হতে হবে।
টিকটক ওই আইন আটকাতে ৭ মে আদালতে যায়, তাদের আবেদনে বলা হয়, এ ধরনের আইন বাকস্বাধীনতার অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এরপর ২ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্র সরকার টিকটকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, চীনা এই সোশাল মিডিয়া কোম্পানি অবৈধভাবে শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করছে এবং অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার চেষ্টা করলে তাতে সাড়া দিচ্ছে না।
৬ ডিসেম্বর ফেডারেল আপিল আদালত টিকটকের মামলা খারিজ করে দেয়। ফলে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারির মধ্যে বাইটড্যান্সের শেয়ার বিক্রি না করলে টিকটক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আরো জোরালো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ২৭ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টকে তার শপথ না হওয়া পর্যন্ত টিকটক নিষিদ্ধের আইনটি পেছানোর অনুরোধ করেন। তার আইনজীবী বলেন, প্রেসিডেন্ট ‘রাজনৈতিক উপায়ে’ এ সমস্যা সমাধানের একটি সুযোগ চান।
এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে টিকটক। টিকটক এবং কন্টেন্ট নির্মাতাদের আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন, টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে যুক্তরাষ্ট্রে এ প্ল্যাটফর্মের ১৭ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর বাকস্বাধীনতা লঙ্ঘিত হবে।
কিন্তু শুক্রবার দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বাইডেনের করা আইনকে সমর্থন দিলে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়।
আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ১৯ জানুয়ারি; অর্থাৎ ট্রাম্পের নতুন মেয়াদ শুরুর ঠিক আগের দিন।
নিষেধাজ্ঞা কি কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই?
বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার জন্য নিষিদ্ধ বা অনুপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনার মুখোমুখি হচ্ছে ভিডিওভিত্তিক জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম টিকটক।
প্রায় পাঁচ বছর আগেই, ২০২০ সালের জুনে ভারত অ্যাপটির ওপরে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ ছাড়া, ইরান, সেনেগাল, নেপাল, আফগানিস্তান ও সোমালিয়াও নাগরিকদের চীনা কোম্পানি বাইটড্যান্স মালিকানাধীন অ্যাপটি ব্যবহারে বাধা দিচ্ছে।
২০২৩ সালের মার্চে যুক্তরাজ্যও সরকারি ডিভাইসে নিষিদ্ধ করে টিকটক।
এদিকে, খোদ চীনেও নেই টিকটক, যার অর্থ বিশ্বজুড়ে টিকটক ব্যবহার করতে পারেন না এমন মানুষের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে তিনশ কোটিরও বেশি।