বন্ধ হচ্ছে গুগলের ‘ফায়ারবেইস স্টুডিও’, বিকল্প উপায় কী?
ডেভেলপারদের নিজেদের কাজ ও প্রজেক্ট অন্য কোনো আইডিইতে স্থানান্তরের জন্য ২০২৭ সালের ২২ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে গুগল।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে অ্যাপ উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে ফায়ারবেইস স্টুডিও বন্ধ করেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল।
মার্চেই এই ‘অনলাইন ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট’ বা আইডিই পরিষেবাটি ধাপে ধাপে গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাটি প্রকাশ করেছিল কোম্পানিটি।
গুগলের নিজস্ব এআই মডেল জেমিনাইয়ের প্রসার বাড়াতে গুগল এখন ‘অ্যান্টিগ্র্যাভিটি’ ও ‘গুগল এআই স্টুডিও’র মতো আধুনিক কোডিং টুলগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
গুগলের এ কৌশলে ফায়ারবেইস স্টুডিওর প্রচলিত কাজের ধারায় অভ্যস্ত ডেভেলপাররা কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এরইমধ্যে ২২ জুন থেকে ফায়ারবেইস স্টুডিওতে নতুন ওয়ার্কস্পেস তৈরি ও নতুন করে সাইন-আপের সুবিধা বন্ধ হয়েছে।
তবে ডেভেলপারদের নিজেদের কাজ ও প্রজেক্ট অন্য কোনো আইডিইতে স্থানান্তরের জন্য ২০২৭ সালের ২২ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে গুগল।
নির্ধারিত সময়ের পর সেবাটি পুরোপুরি বন্ধ ও সার্ভারে থাকা অবশিষ্ট সব ডেটা মুছে ফেলা হবে।
তত দিন পর্যন্ত ফায়ারবেইস স্টুডিওতে থাকা ডেভেলপারদের মূল বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা অ্যাপ তৈরির প্রক্রিয়ায় এআইকে ঠিক কীভাবে কাজে লাগাতে চান এবং তার ওপর নির্ভর করে বিকল্প কোনো টুল বেছে নেবেন কি না।
গুগলের সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট ধারায় নতুন মোড়
ডেটাবেইস থেকে শুরু করে ওয়েব হোস্টিং সুবিধার গুগলের ব্যাকএন্ড সার্ভিস ‘ফায়ারবেইস’-এর সঙ্গে সরাসরি যোগ করার লক্ষ্য নিয়ে ফায়ারবেইস স্টুডিওর সূচনা করেছিল গুগল।
২০২৫ সালে আইডিইটি চালুর শুরু থেকেই অ্যাপ উন্নয়নে এআই এজেন্টদের ভূমিকার কথা গুগলের বিবেচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সফটওয়্যার তৈরির ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ধরন দ্রুত বদলেছে।
ফায়ারবেইস স্টুডিওতে একটি এআই চ্যাটবট ব্যবহারের সুযোগ ছিল, যা অ্যাপের প্রোটোটাইপ তৈরি বা ছোটখাটো পরিবর্তনসহ ডেভেলপমেন্টের কাজ সামলাতে পারত। তবে এর মূল অংশ জুড়ে ছিল কোড এডিটিংয়ের প্রচলিত সুবিধা।
২০২৬ সালে এসে অধিকাংশ কোডিং প্রজেক্টই শুরু হচ্ছে প্রম্পটের ওপর ভিত্তি করে। ‘ভাইব কোডিং’-এর ক্রমাগত জনপ্রিয়তার কারণে অনেক ব্যবহারকারী এখন মূল কোড না দেখেই কাজ সম্পন্ন করছেন।
গুগলের আপডেটেড কোডিং টুল ‘অ্যান্টিগ্র্যাভিটি’ ও ‘গুগল এআই স্টুডিও’ উভয়ই এআইনির্ভর কোডিং বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।
মূল ফায়ারবেইস সেবাটি বহাল থাকায় ও উভয় টুলই সহজে এর সঙ্গে যোগ হতে পারায় আলাদা ফায়ারবেইস-কেন্দ্রিক আইডিই’র প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। সেবা বন্ধের ঘোষণায় বিষয়টিকে এভাবেই উপস্থাপন করেছে গুগল।
মার্চে গুগল বলেছিল, “আপনার কাজের ধারাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে এবং অ্যাপ তৈরির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে আমরা ফায়ারবেইস স্টুডিও গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করছি।”
ফায়ারবেস স্টুডিওর বিকল্প কী?
গুগলের ইকোসিস্টেমে যুক্ত থাকতে চাইলে ডেভেলপারদের গুগলের এআই স্টুডিও বা অ্যান্টিগ্র্যাভিটিতে রূপান্তর হতে হবে।
গুগলের ভাষ্য, গুগলের এআই স্টুডিও ‘প্রম্পট থেকে সরাসরি ফুল-স্ট্যাক প্রডাকশন অ্যাপ তৈরির দ্রুততম মাধ্যম’, অর্থাৎ এর ইন্টারফেইসে প্রম্পট ও এআইয়ের সঙ্গে চ্যাটিংকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফায়ারবেইস স্টুডিওর মতোই এটা ওয়েবভিত্তিক টুল, যা যে কোনো ব্রাউজার থেকেই ব্যবহার করা সম্ভব।
অন্যদিকে, অ্যান্টিগ্র্যাভিটি হচ্ছে ডেস্কটপ অ্যাপ, যা সরাসরি পিসিতে চালাতে হয়। এর ইন্টারফেইস এমনভাবে ডিজাইন করা, যাতে ব্যবহারকারীরা কোডের ওপর সরাসরি নজর রাখার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে একাধিক এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে পারেন।
অ্যান্টিগ্র্যাভিটি গুগলের নিজস্ব মডেল ছাড়াও অন্যান্য এআই মডেল সমর্থন করে।
বর্তমানে বেশিরভাগ কোডিং টুলই একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যেখানে ডেভেলপার মূল ভূমিকা পালন করেন ও এআই এজেন্টগুলো প্রাথমিক কোডিং সামলায়।
স্পেসএক্সের মালিকানাধীন ‘কার্সর’ এখন বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এ ছাড়া অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লড কোড’ ও ওপেনএআইয়ের ‘কোডেক্স’ স্বাধীনভাবে কোডিং সুবিধা দিচ্ছে।
তবে প্রজেক্টে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন বা টোকেন খরচের বিষয়টিও জড়িয়ে থাকে। ফলে ফায়ারবেইস স্টুডিও পুরোপুরি বন্ধের পর ডেভেলপাররা কোন টুলে যাবেন তা খরচের হিসাবের পাশাপাশি ইন্টারফেইস ও টুলের ভবিষ্যৎ সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করছে।
