১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভুয়া ট্রাভেল এজেন্টরা প্রতারণায় যেভাবে এআই ব্যবহার করে

সেই দিনগুলো আর নেই যখন প্রতারকরা শুধু ভুলে ভরা ইমেইল পাঠাত। আধুনিক প্রতারকরা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এআই ভয়েস ক্লোনিংকে।

ভুয়া ট্রাভেল এজেন্টরা প্রতারণায় যেভাবে এআই ব্যবহার করে
প্রতারকরা এআই ভয়েস ক্লোনিংকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2025, 06:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:21 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি প্রতারণার ফাঁদে পা দিলে বহু কাঙ্খিত ভ্রমণও দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। ভ্রমণ খাতে এআই ব্যবহার করে প্রতাণার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যেখানে আগে প্রতারণা শুধু নকল ওয়েবসাইট তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন পৌঁছেছে আরও ভয়াবহ পর্যায়ে।

অপরাধীরা এখন এআই ব্যবহার করে বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্টদের কণ্ঠ ও পরিচয় ক্লোন করছে, এতে অভিজ্ঞ পর্যটকরাও বিভ্রান্তিতে পরছেন।

সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সাইট ম্যাকাফির এক গবেষণা বলছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ শতাংশ অনলাইন ট্রাভেল স্ক্যামের শিকার হয়েছেন অথবা এমন কাওকে চেনেন যিনি ভ্রমণের খরচ কমাতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ভ্রমণে প্রতারণার নতুন রূপ

সেই দিনগুলো আর নেই যখন প্রতারকরা শুধু ভুলে ভরা ইমেইল পাঠাত। আজকের প্রতারকরা এআই ভয়েস ক্লোনিংকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এ স্ক্যামগুলো সাধারণত যেভাবে করা হয় তা হল:

অপরাধীরা সোশাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট ও অনলাইন ভিডিওতে বৈধ ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর বা বিশেষজ্ঞদের সম্পর্কে অনুসন্ধান করে। তারা প্রচারণামূলক ভিডিও, ওয়েবিনার এমনকি কাস্টমার সার্ভিসের কণ্ঠ সংগ্রহ করে।

সহজেই পাওয়া যায় এমন এআই টুল ব্যবহার করে স্ক্যামাররা এমন ভয়েস ক্লোন তৈরি করে যা পেশাদারদের কথা বলার ধরণ, উচ্চারণ এমনকি আবেগীয় ভঙ্গিকে পুরোপুরি নকল করে। 

ক্লোন করা এসব কণ্ঠস্বর দিয়ে অপরাধীরা ভুক্তোভোগীদের কল করে। প্রায়ই এসব কলে কোনো বিশ্বাসযোগ্য ট্রাভেল এজেন্সির হয়ে ‘এক্সক্লুসিভ’ ডিল দিয়ে থাকে এবং দ্রুত বুকিং করার তাগিদ দেয়।

যেভাব এসব ভুয়া ট্রাভেল এজেন্টদের চিনবেন

যদিও এআই ভয়েস ক্লোনিং এখন অনেক বেশি উন্নত, তবু কিছু সতর্কতা মানলে নিজেকে প্রতারিত হবার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন। 

কন্ঠে অস্বাভাবিক শব্দচয়ন, রোবটের মত ভাষা বা অতিরিক্ত গোছানো উত্তর থাকলে সতর্ক হন। এআই দিয়ে তৈরি কন্ঠ সাধারণত স্বাভাবিক আবেগ প্রকাশ বা চলমান কথা-বার্তার সময় দুর্বল হয়। 

কেউ যদি নিজেকে ট্রাভেল এজেন্ট পরিচয় দিয়ে হঠাৎ ফোন করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করবেন না। ফোন কেটে এজেন্সির অফিশিয়াল নম্বর খুঁজে নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করুন। 

বৈধ ট্রাভেল এজেন্টরা কখনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেয় না এবং সন্দেহজনক পথে টাকা পাঠাতে বলে না। 

সতর্ক থাকতে যা করবেন

ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সির খপ্পর থেকে বাঁচতে হলে প্রযুক্তি, সচেতনতা এবং বুদ্ধি রেখে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে এসব বিষয়গুলো নজরে রাখতে পারেন:

যে কোনো ভ্রমণ পরিকল্পনা বা বুকিং সরকারি বা অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত করুন। 

নিজের ভ্রমণ পরিকল্পনা, ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। 

কোনো অফার সন্দেহজনক মনে হলে নিজের অনুভূতিকে অবহেলা করবেন না। প্রতারণার শিকার হওয়ার চাইতে কোনো ভালো অফার হাতছাড়া করা বরং নিরাপদ।