১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আসন্ন ফোল্ডএবল আইফোনে কী কী থাকতে পারে?

ডিভাইসটি বন্ধ অবস্থায় প্রায় নয় দশমিক পাঁচ মিমি পুরু হবে অর্থাৎ প্রতিটি অংশ পাঁচ মিমিরও কম যা এখন পর্যন্ত যেকোনো আইফোনের চেয়ে পাতলা।

আসন্ন ফোল্ডএবল আইফোনে কী কী থাকতে পারে?
ফোল্ডএবল আইফোনের কাল্পনিক চেহারা। ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2025, 02:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:11 PM

ফোল্ডএবল আইফোন নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনার মধ্যেই নতুন তথ্য মিলল ডিভাইসটি নিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাপলের এ ডিভাইসটিতে মোট চারটি ক্যামেরা থাকতে পারে। একটি সামনের স্ক্রিনে, একটি ভেতরে আর দুটি পেছনে। 

বায়োমেট্রিক্সের জন্য টাচ আইডি ব্যবহার করা হবে এবং কানেক্টিভিটির জন্য অ্যাপলের নিজস্ব সেলুলার মডেম।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের মার্ক গারম্যান তার ‘পাওয়ার অন’  নিউজলেটারে লিখেছেন, ফোল্ডএবল আইফোন অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ফোল্ডএবল ডিভাইসের মতই একটি বইয়ের মত খুলবে। এরপর একটি বড় ডিসপ্লে দেখা যাবে।  

ভাঁজ করা অবস্থায় ফোনটি ঠিক একটি সাধারণ আইফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে। ভাঁজ করা অবস্থায় এর সামনের দিকে পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চির একটি টাচস্ক্রিন থাকবে সঙ্গে থাকবে একটি ফ্রন্ট-ফেইসিং ক্যামেরা। 

সর্বোচ্চ মানের ছবি তোলার জন্য একটি হাই রেজুলিউশনের মেইন রিয়ার ক্যামেরা থাকবে। সেকেন্ড রিয়ার ক্যামেরাটি আল্ট্রা-ওয়াইড অথবা টেলিফটো লেন্স হতে পারে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।

ডিভাইসটির ভাঁজ খোলা হলে আট ইঞ্চির একটি বড় ডিসপ্লে পাওয়া যাবে। তখন ভেতরের ক্যামেরাটি হবে মেইন সেলফি ক্যামেরা। 

ফ্ল্যাগশিপ আইফোনে টাচ আইডির ব্যবহার কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে কারণ সাম্প্রতিক সব আইফোনই ফেইস আইডিতে চলে গিয়েছে। 

তবে ফোল্ডএবল মডেলের ক্ষেত্রে ডিভাইসের পুরুত্ব কম রাখার বিষয়টি কড়াকড়িভাবে মানা হচ্ছে যেন বন্ধ অবস্থায় ডিভাইসটি বেশি মোটা না হয়। 

অ্যাপল বিশ্লেষক মিং-চি কুও এর আগে বলেছিলেন, ডিভাইসটি বন্ধ অবস্থায় প্রায় নয় দশমিক পাঁচ মিমি পুরু হবে অর্থাৎ প্রতিটি অংশ পাঁচ মিমিরও কম যা এখন পর্যন্ত তৈরি হওয়া যে কোনো আইফোনের চেয়ে পাতলা।

ফেইস আইডির জন্য প্রয়োজনীয় ‘ট্রুডেপথ ক্যামেরা’ এত পাতলা বডিতে বসানো যাবে না তাই অ্যাপল সাইড বাটনে টাচ আইডি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ব্যবহার করবে। এতে সহজে লক খোলা এবং যাচাই করা সম্ভব।

অ্যাপলের সি১ মডেম প্রথম দেখা গিয়েছিল আইফোন ১৬ই মডেলে। একই চিপ থাকবে পাতলা আইফোন ১৭ এয়ার মডেলেও। আগামী বছর আসছে নতুন প্রজন্মের সি২ মডেম, এটি দ্রুতগতির কানেক্টিভিটি দেবে। এই সি২ মডেমই থাকবে ফোল্ডএবল আইফোনে। 

গুঞ্জন রয়েছে, ২০২৫ সালের আইফোন ১৭ এয়ার এবং ২০২৬ সালের ফোল্ডএবল আইফোন দুটোই সিম কার্ড স্লট ছাড়া আসবে যেখানে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিক্রি হওয়া আইফোনগুলোতে সিম স্লট থাকে।

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডএবল ডিভািইস হওয়ায় এটি নিঃসন্দেহে আলোচিত হবে। তবে জনপ্রিয়তা নির্ভর করবে মূল্যের ওপর। বর্তমানে হাই-এন্ড অ্যান্ড্রয়েড ফোল্ডএবল ফোনের দাম প্রায় এক হাজার আটশ ডলারের ওপরে, তাই অ্যাপলের ডিভাইস এর চেয়ে সস্তা হবে বলে আশা করা উচিত নয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট ‘নাইন টু ফাইভ ম্যাক’।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ফোল্ডএবল আইফোন শুধু কালো ও সাদা রঙে আসবে। সরবরাহকারীরা আগামী বছর শুরুর দিকেই উৎপাদন বাড়ানো শুরু করবে আর বাজারে ছাড়বে শরতে।

অর্থাৎ এই ফোল্ডএবল আসছে ২০২৬ সালে। তার পরের বছর অ্যাপল স্ট্যান্ডার্ড প্রো আইফোনকে একেবারে নতুন অল-গ্লাস ডিজাইনে আবার নিয়ে আসবে।

তবে এ বছর পরিবর্তন তুলনামূলক কম। আইফোন ১৭ সিরিজ সামনের দিক থেকে প্রায় হুবহু আইফোন ১৬-এর মতোই দেখতে হবে। পেছনের দিকে থাকবে নতুন আয়তাকার ক্যামেরা মডিউল। আর নতুন আইফোন ১৭ এয়ার হবে লাইনআপের সবচেয়ে চমকপ্রদ সংযোজন কারণ এটি অনেক পাতলা হবে।