Published : 08 Aug 2026, 02:35 PM
বিশ্বজুড়ে ঘূর্ণিঝড়ের আরও সূক্ষ্ম ও নিখুঁত আগাম সতর্কতা দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইচালিত আবহাওয়া মডেলে উন্মোচন করেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল।
অন্যান্য গবেষক ও বিজ্ঞানীরা যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সম্ভাব্য দুর্যোগ ঠেকাতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য ‘ওয়েদারনেক্সট’ নামের নতুন এআই মডেলটির সোর্স কোড গুগল উন্মুক্ত করে দিয়েছে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
মডেলটি তৈরিতে সাফল্য দেখিয়েছেন গুগল ডিপমাইন্ড ও গুগল রিসার্চের বিজ্ঞানীরা। মডেলটির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার’, ‘সিআইআরএ’ ও যুক্তরাজ্যের ‘মেট অফিস’সহ বিশ্বের একাধিক আবহাওয়া সংস্থা যৌথভাবে কাজ করেছে।
অন্যান্য গবেষক ও বিজ্ঞানীরা যাতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার ও এর উন্নয়ন করতে পারেন সেজন্য প্রকল্পটি ওপেন সোর্স প্রজেক্টের জন্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘গিটহাব’-এ হোস্ট করা হচ্ছে।
এই সংক্রান্ত বিস্তারিত গবেষণা প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোনের পথ ও এর তীব্রতা দুটি বিষয় একসঙ্গে নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া এতদিন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ, ঝড়ের গতিপথ নির্ধারণের জন্য বৈশ্বিক আবহাওয়ার বড় তথ্য ও এর তীব্রতা বোঝার জন্য কেন্দ্রস্থলের তাপমাত্রা ও চাপের বিশেষ স্থানীয় ডেটা প্রয়োজন।
‘ওয়েদারনেক্সট’ মডেলটি আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার থেকে প্রায় ২০ টেরাবাইট বৈশ্বিক বায়ুমণ্ডলীয় ডেটা ও ঘূর্ণিঝড়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফলে, মডেলটি একইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ এবং তা কতটা শক্তিশালী হতে পারে উভয় বিষয়েই সূক্ষ্ম ও নিখুঁত পূর্বাভাস দিতে পারে।
বিবৃতিতে গবেষকরা বলেছেন, “আমরা এখন টিপিইউ-এর সাহায্যে কেবল এক মিনিটেরও কম সময়ে ১৫ দিনের আবহাওয়া পূর্বাভাস তৈরি করতে পারি, যা সম্ভাব্য বিধ্বংসী ও চরম দুর্যোগের বিভিন্ন ঝুঁকি দ্রুত ও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে আবহাওয়াবিদদের সহায়তা করবে।”
গেল বছর ওয়েদারনেক্সটের দ্বিতীয় সংস্করণ উন্মোচন করেছিল গুগল। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যা বা ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড’ আগেভাগে চিহ্নিত করতেও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের গবেষণা দলটি।