অনলাইনে শিশু পর্নোগ্রাফি ঠেকানোর সিদ্ধান্তে অনড় ইইউ

এ খসড়া নীতিমালায় ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ ব্যবস্থাকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি প্রাইভেসি ও মানবাধিকার সমর্থকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Nov 2023, 11:24 AM
Updated : 23 Nov 2023, 11:24 AM

গুগল, মেটা ও অন্যান্য অনলাইন সেবায় শিশু পর্নোগ্রাফির মতো কনটেন্ট শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে তৈরি খসড়া নীতিমালা নিয়ে একমত হয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিনির্ধারকরা। তাদের দাবি, এর ফলে ‘এন্ড-টু-এন্ড’ এনক্রিপশন ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

গত বছর ‘চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ ম্যাটিরিয়াল (সিএসএএম)’ নামের খসড়া নীতিমালার প্রস্তাব দিয়েছিল ইউরোপীয় কমিশন, যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় অনলাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রাইভেসি সমর্থকদের মধ্যে।

রয়টার্স বলছে, প্রচলিত ঐচ্ছিক যাচাইকরণ ও বিভিন্ন কোম্পানির নজরদারি ব্যবস্থা শিশুদেরকে যথেষ্ট নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার পরপরই এ খসড়া নীতিমালার প্রস্তাব দিয়েছেন ইইউ’র নির্বাহী কর্মকর্তারা।

আগামী বছর নাগাদ খসড়াটি আইনে পরিণত করার আগে এর চূড়ান্ত সংস্করণ প্রকাশ করতে হবে ইইউ’র নীতিনির্ধারকদের।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিভিন্ন মেসেজিং সেবা, অ্যাপ স্টোর ও ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানিকে শিশু পর্নগ্রাফি বলে চিহ্নিত ছবি ও ভিডিও সরিয়ে ফেলতে বাধ্য করার পাশাপাশি সেগুলো পর্যালোচনা করার শর্তও রয়েছে।

শিশু নিপীড়নের মতো ঘটনা ঠেকাতে ইইউ একটি বিশেষ সেন্টার চালু করতে পারে, যা বিশেষজ্ঞদের ‘হাব’ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ পাঠানোর বেলাতেও সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

গণ নজরদারির মতো ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে ‘সিএসএএম’-এর আওতাধীন ঘটনা খুঁজে বের করার ও সেগুলো মোছার ক্ষমতা দেবেন ইইউ’র নীতিনির্ধারকরা। তবে, কেবল শিশু নিপীড়নের সন্দেহ থাকা কনটেন্টগুলোর বেলাতেই এ ক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে।

অন্যদিকে, এমন অপরাধ শনাক্ত করতে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে, সেটি নির্ধারণের সুযোগ পাবে কোম্পানিগুলো। তবে, তা স্বতন্ত্র উপায়ে ও জনসমক্ষে করার বাধ্যবাধকতা থাকছে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

এ খসড়া নীতিমালায় ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ ব্যবস্থাকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি প্রাইভেসি ও মানবাধিকার সমর্থকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

“ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এমন সিদ্ধান্ত চ্যাটিং ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ সরানোর পাশাপাশি কেবল সেইসব সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ও কমিউনিটির ওপর নজরদারি করার সুযোগ দেবে, যাদের ওপর বিচার বিভাগ যুক্তিসংগতভাবে শিশু নিপীড়ন সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে।” --বলেছে ‘ইউরোপিয়ান লিবারেল ইয়ুথ (এলওয়াইএমইসি)’।