Published : 01 Aug 2026, 12:18 PM
নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বটের মাধ্যমে সংঘটিত সাইবার হামলার দায় সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানিকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাম্প্রতিক এক হামলার শিকার কোম্পানি হাগিং ফেইসের প্রধান নির্বাহী ক্লেমঁ দেলাঙ্গ।
এ নিয়ে বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি মাসের শুরুতে ওপেনএআইয়ের একটি নিয়ন্ত্রণহীন বট পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাগিং ফেইসের সিস্টেমে হামলা চালায়। নজিরবিহীন ওই ঘটনার পর কোম্পানিটিকে তাদের তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্কের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছে।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেলাঙ্গ বলেন, তার কোম্পানি ছোট একটি স্টার্টআপ হওয়ায় তারা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে না। তবে এ ধরনের হামলা বেআইনি এবং সেটি ভবিষ্যতেও বেআইনিই থাকা উচিত।
“সবাইকে মনে রাখতে হবে, সাইবার হামলা একটি অপরাধ এবং এটি বেআইনি।”
দেলাঙ্গের আশা, যেসব কোম্পানির ভুলের কারণে এ ধরনের হামলা ঘটে, আইনগত কাঠামো তাদের ‘জবাবদিহির আওতায়’ আনবে।
তিনি আরও বলেন, অন্য কোম্পানির ওপর সাইবার হামলাকে ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।
তার এই মন্তব্যের পরই ক্লড চ্যাটবট নির্মাতা অ্যানথ্রপিকও স্বীকার করেছে, গত কয়েক মাসে একই ধরনের পরিস্থিতিতে তাদের একটি বট তিনটি কোম্পানির ওপর হামলা চালিয়েছিল।
শুক্রবার অ্যানথ্রপিক বলেছে, সাম্প্রতিক ওপেনএআই ঘটনার পর পর্যালোচনা চালিয়ে তারা জানতে পারে, তাদের বট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অতিক্রম করে বেরিয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোতে হামলা চালিয়েছিল।
উভয় ঘটনাতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নির্মাতা কোম্পানিগুলো অনেক পরে জানতে পারে যে তাদের মডেলগুলো ইন্টারনেটে ঘুরে বিভিন্ন কোম্পানির ওপর হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষকেরা এসব মডেলের হ্যাকিং সক্ষমতা পরীক্ষা করছিলেন। সেই পরীক্ষার সময় মডেলগুলো আপাতদৃষ্টিতে নিরাপদ ‘স্যান্ডবক্স’ পরিবেশ ভেঙে ইন্টারনেটে গিয়ে গবেষকদের দেওয়া কাজ সম্পন্ন করার উপায় খুঁজতে হামলা চালায়।
এ ধরনের নজিরবিহীন ঘটনার পর সাইবার নিরাপত্তা ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এজেন্টের হামলার দায় শেষ পর্যন্ত কার ওপর বর্তাবে।
পিলার সিকিউরিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্মাতা ডর সারিগ বলেন, “এজেন্টভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যর্থতা যন্ত্রের গতিতে ঘটে, কিন্তু প্রকৃত দায় নির্ধারণ এখনও মামলার গতিতেই এগোয়।”
তার মতে, জবাবদিহির বিষয়টি ইতোমধ্যে ‘অস্পষ্ট’ হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, “এখন শিল্পখাত কিছুটা ছাড় দিচ্ছে। কিন্তু প্রথমবার কোনো স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট বাস্তব তথ্য, প্রকৃত বাদী এবং আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে জড়িত কোনো অনুপ্রবেশ ঘটালে দায়বদ্ধতা আর কেবল অ্যাকাডেমিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “তখন শুধু প্রযুক্তিগত সুরক্ষাব্যবস্থা নয়, আইনী কাঠামোরও কঠিন পরীক্ষা হবে।”
এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সাইবার হামলার ঘটনার পর প্রযুক্তিটির জন্য আরও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও তদারকির দাবি জোরালো হয়েছে। ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেন, সাম্প্রতিক সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার পর ওয়াশিংটন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন সরঞ্জামের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এর আগে হাগিং ফেইসের সহপ্রতিষ্ঠাতা টমাস উলফ বিবিসিকে বলেছিলেন, এই ঘটনা পুরো শিল্পখাতের জন্য “একটি সতর্কবার্তা”।
অন্যদিকে, নিজের কোম্পানির বট নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঘটনার পর ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান বলেন, “হয়তো আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কিছুটা কমাতে হতে পারে।” তবে, তিনি তার কোম্পানির গবেষণার গতি কমানোর কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও ওপেনএআই নতুন করে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে এর আগে কোম্পানিটির এক মুখপাত্র বলেছিলেন, “আমরা বুঝতে পারছি, এই ঘটনা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও নানা ধরনের অনুমানভিত্তিক তথ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আমাদের শেখা বিষয়গুলো নিয়ে একটি প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা করছি।”