Published : 04 Feb 2026, 02:11 PM
মালিকানা নিজের হলে এক ঝুড়ি থেকে আপেল তুলে আরেক ঝুড়িতে কমলার পাশে রাখা যেতেই পারে। তবে, বাণিজ্যিক কোম্পানির বেলায় সেটি অত সহজ নয়। সেখানে হিসাব কষার বিষয় আছে, আইন মানার বিষয় আছে। অনেক হিসাব বদলেও যায় চোখের পলকে।
ইলন মাস্ক অনেকগুলো কোম্পানিই প্রতিষ্ঠা করেছেন, কিনেছেনও। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও বড় কোম্পানি স্পেস এক্স কিনে নিয়েছে নতুন এবং সম্ভাবনাময় এআই স্টার্টআপ এক্সএআই কে। আর এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তির সম্পদ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।
এর মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৮০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হলেন।
এ নিয়ে ফোর্বস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, সোমবার সন্ধ্যায় ঘোষিত ওই ক্রয় চুক্তির ফলে মাস্কের সম্পদ একদিনেই প্রায় ৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বেড়েছে। চুক্তির পর একীভূত কোম্পানিদ্বয়ের মোট মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলার।
চুক্তির আগে মাস্ক স্পেসএক্সের আনুমানিক ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন, যার মূল্য ছিল প্রায় ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। একই সময়ে এক্সএআই-এ তার ৪৯ শতাংশ অংশীদারিত্বের মূল্য ছিল প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার। একীভূত হওয়ার পর স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দাঁড়ায় ১ লাখ কোটি ডলার এবং এক্সএআই-এর মূল্যায়ন থাকে ২৫ হাজার কোটি ডলারে। নতুন কাঠামোয় মাস্কের মালিকানা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ, যার মোট মূল্য ফোর্বসের হিসাবে প্রায় ৫৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
বর্তমানে স্পেসএক্সই মাস্কের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এর বাইরে টেসলায় তার ১২ শতাংশ শেয়ারের মূল্য প্রায় ১৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। পাশাপাশি টেসলার স্টক অপশন থেকে আরও প্রায় ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের মালিকানা রয়েছে। টেসলার বিনিয়োগকারীরা নভেম্বরে যে পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে, নির্দিষ্ট কর্মক্ষমতার লক্ষ্য পূরণ হলে সেটি মাস্ককে ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত শেয়ার দিতে পারে।
গত এক বছরেরও কম সময়ে দ্বিতীয়বারের মতো মাস্কের দুটি কোম্পানি একীভূত হলো। গত মার্চে তিনি এক্সএআই ও সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স একীভূত করেন। ওই সময় এক্সএআই-এর মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলার এবং এক্স-এর মূল্যায়ন ছিল প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।
এবার সব কোম্পানি স্পেসএক্সের অধীনে এসেছে এবং মাস্কের নজর সম্ভবত শেয়ার বাজারে স্পেসএক্সকে তালিকাভূক্ত করে আরও মূলধন সংগ্রহ করা। সেটি হলে এগুলো শিগগিরই পাবলিক কোম্পানির নিয়মাবলীর আওতায় পড়বে।
গত চার মাসেই সম্পদের হিসাবে মাস্ক চারটি বড় মাইলফলক পেরোলেন। অক্টোবরে তার সম্পদ প্রথমবার ৫০ হাজার কোটি ডলার ছাড়ায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে স্পেসএক্সের মূল্যায়ন ৮০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছানোর পর তার সম্পদ ৬০ হাজার কোটি ডলার ছাড়ায়। চার দিন পর টেসলার স্টক অপশন সংক্রান্ত আদালতের রায়ের পর তার সম্পদ ৭০ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করে।
বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজের চেয়ে মাস্ক প্রায় ৫৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার এগিয়ে আছেন। পেইজের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এই ব্যবধান বলছে, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার দিকে অন্য সবাইকে বহু পেছনে ফেলে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।