০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

অ্যানেসথেসিয়া কি মানুষের চেতনার রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছে?

মানব ইতিহাসের সিংহভাগ সময়ই অঙ্গহানির মতো জটিল অস্ত্রোপচার করা হত রোগীকে জাগিয়ে রেখে। ১৮৪৬ সালে অ্যানেসথেসিয়ার প্রবর্তন চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে।

অ্যানেসথেসিয়া কি মানুষের চেতনার রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছে?

বর্তমানে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে অ্যানেসথেসিয়ার আওতায় সাড়ে ৩০ কোটিরও বেশি অস্ত্রোপচার হয়। ছবি: ম্যাগনিফিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 02:30 PM

Updated : 01 Oct 2026, 02:30 PM

অস্ত্রোপচারের সময় মানুষের চেতনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া অ্যানেসথেসিয়া কীভাবে কাজ করে তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও এসব রহস্যময় ওষুধের প্রভাব নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো মস্তিষ্কের মৌলিক কার্যপ্রণালী ও চেতনার উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে।

১৭৯৭ সালে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল হোরাটিও নেলসনের ডান হাত কেটে ফেলতে হয়েছিল। জীবন বাঁচাতে ওই অস্ত্রোপচার করা হলেও সে সময় তাকে চেতনানাশক বা অ্যানেসথেসিয়া হিসেবে কেবল এক ঢোক রাম পান করতে দেওয়া হয়েছিল।

মানব ইতিহাসের সিংহভাগ সময়ই অঙ্গহানির মতো জটিল অস্ত্রোপচার করা হত রোগীকে পুরোপুরি জাগিয়ে রেখে। অবশেষে ১৮৪৬ সালে অ্যানেসথেসিয়ার প্রবর্তন চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে।

এর মাধ্যমে যে কোনো সময়, যে কোনো স্থানে ও যে কোনো মানুষের চেতনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয়। অ্যানেসথেসিয়া সে সময় থাকলে হয়ত অ্যাডমিরাল নেলসনকেও ব্যথা সহ্য করে অস্ত্রোপচার করাতে হত না ও পরের দিন সকালেই তিনি দিব্যি নাস্তা করতে পারতেন।

বর্তমানে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে অ্যানেসথেসিয়ার আওতায় ৩৫ কোটিরও বেশি অস্ত্রোপচার হয়। তবে এসব রহস্যময় ওষুধ ঠিক কীভাবে মানুষদের ঘুম পাড়ায় বা অচেতন করে তা স্পষ্ট নয়।

সাম্প্রতিক কিছু সূত্র বিজ্ঞানীদের মস্তিষ্কের মৌলিক কার্যপ্রণালী সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। এসব গবেষণা চেতনার মূল উৎস সম্পর্কেও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সার্বজনীন ঘুম

অ্যানেসথেসিয়া বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কিছু ওষুধ সরাসরি ব্যথা নিবারণ করে, আবার কিছু ওষুধ মানুষকে ঘুম ঘুম ভাব ও শিথিলতা এনে দেয়।

সাধারণ অ্যানেসথেসিয়া বা জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া এক ধাপ এগিয়ে কাজ করে। এসব ওষুধ মানুষকে পুরোপুরি অচেতন করে। ফলে আশপাশে কি ঘটছে সে বিষয়ে রোগীর বিন্দুমাত্র জ্ঞান থাকে না।

অচেতন অবস্থা তৈরি করতে পারে এমন বহু ধরনের অ্যানেসথেসিয়া রয়েছে। এর মধ্যে জেননের মতো আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ক্রিয় গ্যাস থেকে শুরু করে প্রপোফলের মতো ওষুধ রয়েছে, যা বর্তমানে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়ায় বহুল ব্যবহৃত।

সাধারণ অ্যানেসথেসিয়ার রাসায়নিক গঠন একেকটির একেক রকম হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রেই মূল কাজটি মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ বা নার্ভ সেলগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যাহত করা, যাতে তারা একে অপরের সঙ্গে ‘কথা বলতে’ না পারে।

‘ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং’ বা এমআরআই স্ক্যানে দেখা গেছে, এর ফলে মস্তিষ্কের সার্বিক কার্যক্রমে বড় ধরনের পতন ঘটে। তবে ঠিক কীভাবে এর পরিণতি হিসেবে একজন রোগী অচেতন হয়ে পড়েন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রথমত, অ্যানেসথেসিয়ার মাধ্যমে তৈরি অচেতনতার জন্য পুরো মস্তিষ্কের পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া জরুরি কি না তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু অংশ অন্যদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ‘ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন’-এর ‘বায়োফিজিক্স অ্যান্ড অ্যানেসথেটিকস’ বিভাগের অধ্যাপক নিক ফ্র্যাংকস বলেছেন, “পুরো মস্তিষ্ক বন্ধ হয়ে গেলেও মস্তিষ্ক এতটাই ‘ইন্টারকানেক্টেড’ যে, সার্বিক এই শাটডাউন বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ চিহ্নিত করা কঠিন।

“ব্রেন স্ক্যান করলে দেখা যায় যে নির্দিষ্ট কিছু অংশ তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল ও সেগুলোই সবার আগে বন্ধ হয়ে যায়। প্রশ্ন জাগে, তবে কি এসব অংশই সার্বিক শাটডাউন ঘটাতে ভূমিকা রাখছে?”

ফ্র্যাংকস মস্তিষ্কের গভীরের ডিম্বাকৃতির একটি গঠন ‘থ্যালামাস’-এর প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে কেন্দ্রীয় হাব বা যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

কাউকে সাধারণ অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর মস্তিষ্কের এ অংশটি সবার আগে শক্তি হারাতে বা নিষ্ক্রিয় হতে দেখা যায়। থ্যালামাস ঘুম শুরু করা ও তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাহলে কি অ্যানেসথেসিয়া মস্তিষ্কের নিজস্ব ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী সার্কিট বা পথকে ‘হাইজ্যাক’ বা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাজ করে?

ফ্র্যাংকস বলেছেন, “আপনি যদি কোনো প্রাণীকে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে অচেতন করার পর থ্যালামাসের খুব নির্দিষ্ট একটি অংশে উদ্দীপনা দেন তবে প্রাণীটিকে জাগিয়ে তুলতে পারবেন।”

গবেষণায় দেখা গেছে, কোমায় থাকা কিছু মানুষকেও থ্যালামাসে উদ্দীপনা দিয়ে জাগিয়ে তোলা সম্ভব। ফলে এটা জাগরণের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। তবে এর পেছনের মূল প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

অন্যান্য বিজ্ঞানীদের অনুমান, মস্তিষ্কের বাইরের কুঁচকানো আস্তরণ বা ‘সেরিব্রাল কর্টেক্স’ হচ্ছে চেতনার মূল আবাস ও এখানেই অ্যানেসথেসিয়া তার প্রধান প্রভাব ফেলে। তবে এর সঙ্গে মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশও জড়িত রয়েছে।

যেমন, ‘ফ্রন্টাল’ ও ‘প্যারাইটাল লোব’। ললাটের ঠিক পেছনে অবস্থিত ‘ফ্রন্টাল লোব’ জটিল চিন্তাভাবনার মতো উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করে।

অন্যদিকে, একটু পেছনের দিকে থাকা প্যারাইটাল লোব স্পর্শের মতো সংবেদনশীল তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে জড়িত।

অচেতন ও সচেতনতার মধ্যে ‘তৃতীয় এক অবস্থা’

ঘুম বা জাগরণের পাশাপাশি মানুষের মস্তিষ্ক এমন এক মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকতে পারে, যা এই দুয়ের কোনোটিই নয়, বিশেষ করে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো তেমনই কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অধিকাংশ মানুষের কাছেই অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার মানে পুরোপুরি চেতনা হারিয়ে ফেলা ও অস্ত্রোপচারের সময়কার সব স্মৃতি মুছে যাওয়া। তবে সবার ক্ষেত্রে বিষয়টি এক রকম নয়।

প্রতি ১৫ হাজার রোগীর মধ্যে আনুমানিক ১ জন রোগী অস্ত্রোপচারের পর তাদের অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন ঘটনা মনে রাখতে পারেন, যা ‘অ্যাক্সিডেন্টাল অ্যাওয়ারনেস’ বা আকস্মিক সজাগ থাকা নামে পরিচিত।

‘অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি হসপিটাল’-এর কনসালট্যান্ট অ্যানেসথেটিস্ট জয়দিপ পন্ডিত বলেছেন, এ ধরনের ব্যক্তিরা ঘুম ও জাগরণ বা চেতনা ও অচেতনতার মধ্যে কোথাও একটি ‘তৃতীয় অবস্থা’ অনুভব করেন।

পরীক্ষামূলকভাবে পন্ডিত কিছু রোগীকে অ্যানেসথেসিয়ার সঙ্গে পেশী শিথিলকারী বা ‘মাসল রিলাক্সেন্ট’ দেন। তবে হাতের পেশী যেন অবশ না হয় সেজন্য ‘ট্যুরনিকেট’ ব্যবহার করেছেন তিনি।

এর ফলে অচেতন রোগীরা চাইলে তাদের হাত নাড়াতে পারতেন। তিনি বলেছেন, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীরা কোনো ধরনের সজাগ থাকা বা ব্যথার লক্ষণ না দেখালেও তাদের এক তৃতীয়াংশই নির্দেশন্মতো গবেষকদের আঙুল চেপে ধরেছিলেন।

জয়দিপের ভাষ্য, এটা চেতনার একটি তৃতীয় স্তরের অস্তিত্বেরই ইঙ্গিত দিয়েছে।

চেতনার অনন্যতা

চেতনার প্রচলিত ‘কঠিন সমস্যা’ এখনও বিজ্ঞানের অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য। তবে এ ক্ষমতা হারিয়ে গেলে মস্তিষ্কে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে তা পর্যবেক্ষণ করা এর প্রাইভেসি উন্মোচনে সাহায্য করছে।

স্বাভাবিক ঘুমেও চেতনা লোপ পায়, তবে, অ্যানেসথেসিয়া যে কোনো মুহূর্তে কৃত্রিমভাবে এই চেতনা বন্ধ করে দিতে পারে বলে এ নিয়ে গবেষণা করা সহজ হয়।

মানুষের সচেতন অভিজ্ঞতার অনন্যতার কথাই ধরা যাক। এটা সর্বজনস্বীকৃত যে, প্রতিটি মানুষ বা প্রাণীর সচেতন অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও স্বতন্ত্র।

অ্যানেসথেসিয়া এ প্রক্রিয়াটিতে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজ’-এর স্নায়ুবিজ্ঞানী আন্দ্রেয়া লুপ্পি।

‘ফাংশনাল এমআরআই’ স্ক্যানের মাধ্যমে তিনি অ্যানেসথেসিয়া নেওয়ার পর মানুষের মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করেছেন, যাতে ওষুধগুলোর প্রভাব বোঝা যায়।

লুপ্পি খতিয়ে দেখেছিলেন ‘ফাংশনাল কানেক্টিভিটি’ বা কার্যকরী সংযোগের ওপর, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চল কীভাবে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে তা পরিমাপ করে। এই ধরনের স্নায়বিক কার্যকলাপের ধরন এতটাই নির্দিষ্ট হয় যে, তা মানুষের পরিচয় নির্ধারণের ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বা আঙুলের ছাপ হিসেবে কাজ করতে পারে।

তবে লুপ্পি ও তার সহকর্মীরা বলছেন, অ্যানেসথেসিয়ার প্রভাবে প্রতিটি মানুষের মস্তিষ্ক ‘স্বাতন্ত্র হারায়’ ও একে অপরের সঙ্গে মিল বাড়তে থাকে। অ্যানেসথেসিয়ায় আচ্ছন্ন মানুষের মস্তিষ্ক অন্যান্য প্রাইমেট প্রাণীদের মস্তিষ্কের পর্যায়ের মত আচরণ করে।

এর মাধ্যমে প্রমাণ মেলে, অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মানব মস্তিষ্কের যে অংশগুলো বিবর্তনের দিক থেকে সবচেয়ে নবীন, সেগুলোয় বেশি প্রভাব পড়ে।

লুপ্পির অনুমান, অ্যানেসথেসিয়ার মূল বৈশিষ্ট্য এটা মস্তিষ্কের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোকে একে অপরের সঙ্গে কথা বলা থেকে দূরে রাখে। জাগ্রত অবস্থায় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চল সরাসরি যুক্ত না থাকলেও পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। তবে অ্যানেসথেসিয়াগ্রস্ত মস্তিষ্কে এটা বিরল, যেখানে কেবল সরাসরি সংযোগওয়ালা অঞ্চলগুলোকেই ‘কথা বলতে’ দেখা যায়।

২০২৪ সালের এক গবেষণায় লুপ্পি লিখেছিলেন, “জাগরণের সময় চেতনার ধারা আমাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্যাটার্নের মধ্য দিয়ে পথ দেখায়।”

এর বিপরীতে, অ্যানেসথেসিয়ার সময় মস্তিষ্কের কার্যক্রম হালছাড়া বা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।

লুপ্পির এসব গবেষণা এই ধারণাকে সমর্থন করে যে, চেতনা মস্তিষ্কের কোনো নির্দিষ্ট একক অঞ্চলের কার্যক্রমের ফল নয়, বরং এমন এক নেটওয়ার্ক, যা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় অংশের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।

যেমন, একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্র্যাশ করে পুরো সরকার ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া।

লুপ্পি বলেছেন, ‘এলএসডি’ ও ‘সাইলোসাইবিন’ বা ম্যাজিক মাশরুমের মতো বিভিন্ন সাইকেডেলিক ড্রাগ কীভাবে চেতনাকে পরিবর্তন করে তা বুঝতেও অ্যানেসথেসিয়া সহায়ক হতে পারে।

অ্যানেসথেসিয়া যেখানে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যকার যোগাযোগ কমিয়ে দেয়, বিভিন্ন সাইকেডেলিক ড্রাগ সেখানে ঠিক তার উল্টো কাজ করে, সেগুলো মস্তিষ্কে যোগাযোগের নতুন পথ খুলে দেয়।

মানব মস্তিষ্কের ঠিক কোথায় চেতনার বাস সে বিষয়ে এখনও অনেক কিছু জানার বাকি রয়ে গেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ‘স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র অ্যানেসথেসিওলজি, ‘পেরিওপারেটিভ অ্যান্ড পেইন মেডিসিন’-এর সহযোগী অধ্যাপক বরিস হেইফেটস বলেছেন, “চেতনা সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সচেতন অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজ করে তা কেউ যদি বুঝিয়ে দিতে পারে তবে দয়া করে আমাকে জানাবেন। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী হব।”