বিষন্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের গায়ের তাপমাত্রা বেশি

গবেষণাটি নতুন প্রশ্ন ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে যে, কীভাবে আমরা হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তিদের তাদের শরীরের তাপমাত্রার উপর নজর দিতে সাহায্য করতে পারি।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Feb 2024, 09:00 AM
Updated : 9 Feb 2024, 09:00 AM

হতাশা ও মানবদেহের তাপমাত্রার মধ্যে একটি কৌতূহলোদ্দীপক সংযোগ খুঁজে পাওয়া গেছে নতুন এক গবেষণায়।

গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তিদের শরীরের তাপমাত্রা বেশি। আর তাদেরকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে নতুন গবেষণাটি।

গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে। আর গবেষণাটির নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি সান ফ্রান্সিসকো (ইউসিএএফ)’-এর গবেষকরা।

তবে বিষন্নতার ফলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে কি না বা মানবদেহের উচ্চ তাপমাত্রা হতাশার উদ্দীপক কি না, তা  নিশ্চিত করে উল্লেখ নেই এতে।

এদিকে, কী কারণে তাপমাত্রার এ বৃদ্ধি হচ্ছে, সে বিষয়টিও স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই গবেষণায়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষন্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাথা ঠাণ্ডা হতে অনেক বেশি সময় লেগে যায় বা তাদের দৈহিক শক্তি খরচের কারণে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়। এমনকি এ দুই কারণের মিশ্রণেও এমনটি ঘটতে পারে।

গবেষণার অংশ হিসেবে গোটা বিশ্বের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের ডেটা সংগ্রহ করেছেন গবেষকরা, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের দৈহিক তাপমাত্রা শনাক্তে বিশেষ এক ডিভাইস ব্যবহার করেছেন তারা। এমনকি প্রতিদিন নিজেদের বিষন্নতার অনুভূতি ও তাপমাত্রার রিডিংও জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

সাত মাস দীর্ঘ এ গবেষণাটির সূচনা ২০২০ সালের শুরুতে, যেখানে ১০৭টি দেশের নাগরিকের ডেটা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

গবেষণাটিতে একটি স্পষ্ট প্যাটার্ন লক্ষ্য করা দেখা গেছে, যেখানে বিষন্নতার তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রাও বেড়েছে।

এ ছাড়াও, গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, যাদের দেহের তাপমাত্রা সারা দিনে খুব বেশি পরিবর্তিত হয় না তাদের বিষন্নতার মাত্রা বেশি থাকতে পারে। তবে এই বিশেষ পর্যবেক্ষণটি চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো শক্তিশালী নয়।

এ গবেষণার প্রধান গবেষক ও ‘ইউসিএসএফ’-এর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অ্যাশলি মেসন বলছেন, বিষন্নতা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নতুন উপায় তুলে ধরতে পারে এ গবেষণা।

তবে অবাক করা বিষয় হল, হট টাব বা সওনার মতো চিকিৎসায় বিষন্নতার সম্ভাব্য লক্ষণ কমতে দেখা গেছে। এর কারণ হতে পারে, এই চিকিৎসাগুলো দেহকে ঘামের মাধ্যমে ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে।

ড. মেসন পরামর্শ দিয়েছেন, ‘আইসবাথের’ মতো দেহ শীতল করার পদ্ধতির তুলনায় দীর্ঘমেয়াদে শরীরের তাপমাত্রা কমতে পারে ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ালে।

গবেষকরা আশাবাদী, তাদের কাজ এমন উদ্ভাবনী চিকিৎসার বিকল্প উপায়গুলোর জন্য সম্ভাবনার পথ দেখাতে পারে, যা বিষন্নতার সঙ্গে লড়াই করা ব্যক্তিদের জন্য সত্যিকারের সহায়তা দিতে পারবে।

এ ছাড়া, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্রও তুলে ধরেছে গবেষণাটি, যা বিষণ্ণতার বিভিন্ন নতুন চিকিৎসার জন্যও সহায়ক হতে পারে।

এই গবেষণার ফলাফল পাওয়া যাবে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সায়েন্টিফিক’-এ।