Published : 05 Aug 2026, 01:24 PM
শিশু যৌন নিপীড়নের কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে সাময়িকভাবে অ্যাপ স্টোর থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপটি সরিয়ে দিয়েছিল অ্যাপল। বিতর্কিত কনটেন্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে ব্লক করার পর একই দিনে অ্যাপটি আবারও বহাল হল।
অ্যাপল বলেছে, টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পর একই দিনে তারা অ্যাপল অ্যাপটি পুনরায় ডাউনলোডের সুযোগ চালু করে দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে অ্যাপলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “অ্যাপ স্টোর পর্যালোচনার সময় আমরা এমন কিছু কনটেন্ট খুঁজে পাই, যা শিশু যৌন নিপীড়ন ঠেকানো সম্পর্কিত আমাদের নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
“অ্যাপটি সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হলেও ডেভেলপাররা দ্রুত সেই আপত্তিকর কনটেন্ট মুছে ফেলে এবং তা পোস্ট করা ব্যবহারকারীকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধের পর অ্যাপটি অ্যাপ স্টোরে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, এর আগে, ২০১৮ সালেও একই ধরনের ঘটনার মুখে পড়েছিল টেলিগ্রাম।
ওই সময় অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ বিষয়টিকে এমন এক ‘অনুপযোগী কনটেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যে সম্পর্কিত উপাদানের কারণে অ্যাপল সাময়িকভাবে টেলিগ্রাম সরিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে টেলিগ্রাম তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তদারকি জোরদার করার পর অ্যাপ স্টোরে অ্যাপটির অবস্থান বহাল করে অ্যাপল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যাপলের বক্তব্যের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করা এক ব্যবহারকারীর পোস্টের উত্তর দিয়েছে টেলিগ্রাম।
এক্স-এ টেলিগ্রামের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, “আমরা নিশ্চিত যে এই নীতি ও অবস্থান ভবিষ্যতে অ্যাপ স্টোরের অন্য সব অ্যাপের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রয়োগ করা হবে, তাই না অ্যাপল?”
বিশ্বজুড়ে মাসিক ১০০ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে টেলিগ্রামের।
প্ল্যাটফর্মটিতে শিশু যৌন নিপীড়নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলার দাবি করে কোম্পানিটি বলেছে, এ বছরই নীতি লঙ্ঘনের কারণে তারা প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার গ্রুপ ও চ্যানেল বন্ধ করেছে।
অ্যাপল ও টেলিগ্রামের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় গেইম ‘ফোর্টনাইট’ নির্মাতা কোম্পানি ‘এপিক গেইমস’-এর প্রধান নির্বাহী টিম সুইনি।
অ্যাপলের সঙ্গে বহু বছর ধরে আইনি লড়াইয়ে থাকা এই শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাপলের নেওয়া সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ সুইনি লিখেছেন, “অ্যাপল দাবি করছে একজন টেলিগ্রাম ব্যবহারকারী ভয়ানক ও বেআইনি কিছু পোস্ট করার কারণে তারা একশো কোটি ব্যবহারকারীর জন্য অ্যাপটির সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল।
“অ্যাপ মুছে ফেলার জন্য এটাই যদি মানদণ্ড হয় তবে আইমেসেজসহ যে কোনো যোগাযোগের অ্যাপ কীভাবে এই বড় পরিসরে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে সে বিষয়ে অ্যাপল কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।”
তবে নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি অ্যাপল।
এদিকে, শিশু যৌন নিপীড়নমূলক উপাদান ও অন্যান্য অবৈধ কনটেন্ট ঠেকানোর ক্ষেত্রে টেলিগ্রামের গাফিলতি নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।
এ বছরের এপ্রিলেই যুক্তরাজ্যের তথ্য যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’ টেলিগ্রামে শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান ছড়ানোর অভিযোগ তদন্ত শুরু করে।
তবে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ অভিযোগ ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন’ বলেছে টেলিগ্রাম। কোম্পানিটির দাবি, ২০১৮ সাল থেকেই তারা অ্যালগরিদম ও শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের প্ল্যাটফর্মে এসব উপাদানের প্রকাশ্য প্রচার ‘প্রায় শূন্যের কোঠায়’ নিয়ে এসেছে।
এর আগে, গেল ফেব্রুয়ারিতেও শিশু নির্যাতন ও উগ্রবাদী সহিংস আচরণ রোধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিতে বিলম্ব করার কারণে অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিগ্রামকে জরিমানা করেছিল।