অ্যাপলের ট্রাম্প কার্ড কি তবে ‘এম১ আল্ট্রা’?
সম্প্রতি এম১ প্রসেসর লাইনআপে “শেষ একটা চিপ” এনেছে অ্যাপল। নিজস্ব নকশার সিলিকন চিপ নিয়ে গেল বছর থেকেই আলোচনায় ছিল প্রতিষ্ঠানটি; এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী চিপটির সক্ষমতা এক লাফে দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়ে চমকে দিয়েছে আইফোন নির্মাতা।
৮ মার্চের ‘পিক পারফর্মেন্স’ আয়োজনে নতুন ‘এম১ আল্ট্রা’ চিপ দেখিয়েছে অ্যাপল। এম১ লাইনআপের নতুন সদস্যটির বাজারে অভিষেক হবে নতুন ‘ম্যাক স্টুডিও’র সবচেয়ে ব্যয়বহুল কনফিগারেশনের মাধ্যমে। কিন্তু দামের বদলে গুরুত্ব পাচ্ছে চিপটির নকশা এবং এর কার্যক্ষমতা নিয়ে অ্যাপলের প্রতিশ্রুতি।
পেশাদারী পর্যায়ের ভিডিও এডিটিং বা গ্রাফিক ডিজাইনের মতো যে কাজগুলো কম্পিউটারের উপর ব্যাপক চাপ ফেলে, এম১ আল্ট্রা সেই কাজগুলো একেবারেই সহজ করে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে অ্যাপল।
‘এম১ আল্ট্রা’ আদতে এক সঙ্গে জুড়ে দেওয়া দুটি ‘এম১ ম্যাক্স’ চিপ। দুই চিপের সিলিকন ডাই-এর সংযোগ স্থাপন করে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে চিপ দুটি। অ্যাপল এ প্রক্রিয়াকে অ্যাপল আখ্যা দিচ্ছে ‘আল্ট্রাফিউশন’ বলে।
ফলে এক লাফে দ্বিগুণ হয়েছে চিপের কম্পিউটিং ক্ষমতা। ‘৬টি হাই-পারফর্মেন্স সিপিইউ কোর আছে এম১ আল্ট্রায়; আরো আছে চারটি এফিশিয়েন্সি কোর এবং ৬৪ কোরের সমন্বিত জিপিইউ। ১২৮ জিবি র্যাম সমর্থন করবে চিপটি।
আর্স টেকনিকার প্রতিবেদন বলছে, এম১ আল্ট্রার নকশা করতে সম্ভবত এএমডি’র রাইজেন চিপ নির্মাণ প্রক্রিয়া অনুসরণে করছে অ্যাপল। এক্ষেত্রে একাধিক সিলিকন ডাই ব্যবহার করে বড় চিপ বানায় বানায় এএমডি।
এম১ চিপের মতো এম১ আল্ট্রা উৎপাদনেও টিএসএমসি’র ৫ ন্যানোমিটার প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানিয়েছে সাইটটি।
কম্পিউটিং সক্ষমতা বিশ্লেষণ করতে চাইলে এম১ ম্যাক্সের খুঁটিনাটি দ্বিগুণ করলেই ধারণা মিলবে এম১ আল্ট্রার সক্ষমতা নিয়ে। প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৮০০ জিবি মেমোরি ব্যান্ডউইথ মিলবে এম১ আল্ট্রায়; আরো থাকবে ৩২ কোরের নিউরাল ইঞ্জিন।
এম১ আল্ট্রার সঙ্গে নতুন ‘ম্যাক স্টুডিও’ কম্পিউটারের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। এটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল কনফিগারেশনে থাকবে এম১ আল্ট্রা; আরো থাকবে ৬৪জিবি র্যাম এবং ১ টেরাবাইট এসএসডি। অ্যাপল এই কনফিগারেশনের ম্যাক স্টুডিও’র সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করেছে তিন হাজার ৯৯৯ ডলার।
