০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সুরিয়াভানশির জন্য ‘পরীক্ষিত কম্বিনেশন’ বদলাতে চান না গাম্ভির

‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা বাইরের শোরগোলের ওপর ভিত্তি করে একাদশ সাজানো হয় না’, বললেন ভারতের প্রধান কোচ।

সুরিয়াভানশির জন্য ‘পরীক্ষিত কম্বিনেশন’ বদলাতে চান না গাম্ভির

বৈভাব সুরিয়াভানশির (ডানে) সঙ্গে গৌতাম গাম্ভির। ছবি: বিসিসিআই

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Oct 2026, 07:51 PM

Updated : 05 Oct 2026, 07:51 PM

ভারতের একাদশে বৈভাব সুরিয়াভানশির নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছেই। তাকে কেন খেলানো হচ্ছে না, এমন প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হচ্ছে প্রধান কোচ গৌতাম গাম্ভিরকে। তবে বাইরের আলোচনাকে পাত্তা না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল সাবেক এই ব্যাটসম্যান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভালো করা সাঞ্জু স্যামসন ও আভিশেক শার্মার জায়গা হুট করে অন্য কাউকে খেলাতে চান না তারা।

অনেক আলোচনার পর গত জুন-জুলাইয়ের আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের দলে প্রথমবার ডাক পান সুরিয়াভানশি। পরে ইংলিশদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। যদিও শুরুটা ভালো হয়নি। ইংল্যান্ডে তিনটি টি-টোয়েন্টিতে করতে পারেন কেবল ৪২ রান।

এরপর জিম্বাবুয়ে সফরেও সুযোগ দেওয়া হয় সুরিয়াভানশিকে। সেখানে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। প্রথম ম্যাচেই ফিফটি করে গড়েন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে পঞ্চাশ ছোঁয়ার রেকর্ড। সিরিজের শেষ ম্যাচে খেলেন ৮১ রানের ইনিংস। সিরিজ সেরার পুরস্কার ওঠে তারই হাতে।

ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও দলে ছিলেন সুরিয়াভানশি। তবে এক ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি তিনি। তার জায়গায় একাদশে ফেরানো হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরা হওয়া স্যামসনকে। জাপানের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও সুযোগ পাননি সুরিয়াভানশি।

এশিয়ান গেমসের সেমি-ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাকে ফেরানো হয় একাদশে। ওই ম্যাচে ৩৮ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে করেন ১৫ রান। ওই দুই ম্যাচের একাদশে ছিলেন স্যামসনও।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মঙ্গলবার শুরু হবে ভারতের পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজের দলেও আছেন ১৫ বছর বয়সী সুরিয়াভানশি। তবে কয়টা ম্যাচে সুযোগ পাবেন তিনি, সেটা সময়ই বলবে।

সুরিয়াভানশিকে নিয়ে গত মাসের মাঝামাঝিতে গাম্ভির স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘আরও অপেক্ষা করতে হবে এই ক্রিকেটারকে।’ তার সেই কথা এই আলোচনায় যোগ করে নতুন মাত্রা। জিও স্টারে ‘ফলো দা ব্লুজ: গৌতাম গাম্ভির আনফিল্টার্ড’ অনুষ্ঠানে সুরিয়াভানশির প্রসঙ্গে ফের কথা বলেন তিনি।

“এটা (ছন্দে থাকা কাউকে বাইরে রাখা) আমার জন্যও নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। হ্যাঁ, সে ভালো ফর্মে ছিল, তবে আমি তাকে বুঝিয়েছি যে, যারা লম্বা সময় ধরে ভালো করে আসছে তাদের কারণে মাঝেমধ্যে তাকে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

“আরেকটা বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা বাইরের শোরগোলের ওপর ভিত্তি করে একাদশ সাজানো হয় না। এটা নির্ভর করে ড্রেসিং রুমে কারা আছে, কোচ ও অধিনায়কের সিদ্ধান্ত- অর্থাৎ কারা ম্যাচ জেতাতে পারবে, সেরা একাদশ কোনটি এবং কারা দীর্ঘদিন ধরে ভালো খেলে আসছে সেটার ওপর।”

এরপর গাম্ভির তুলে ধরার চেষ্টা করেন এই দলে স্যামসন ও আভিশেকের অবদানের কথা।

“এখন যদি বৈভাব খেলে, তাহলে আভিশেক বা সাঞ্জু- যাকেই বাদ দেওয়া হবে, তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করাটা বেশ কঠিন হবে। গত দেড়-দুই বছর ধরে যে কম্বিনেশন দারুণ প্রভাব ফেলেছে, সেটাকে তো হুট করে উপেক্ষা করা যায় না।

“মাত্র তিন-চারটি ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পরই তাদের বাদ দিয়ে কোনো প্রতিভাবান ও ভালো ফর্মে থাকা তরুণ খেলোয়াড়কে খেলানো ঠিক হবে না। তাই অনেক সময় সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, কারণ আমরা ড্রেসিং রুমে সেই আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।”

সুরিয়াভানশিকে নিয়ে সাবেক ক্রিকেটার, বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ক্রিকেট ভক্তদের সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হচ্ছেন গাম্ভির। তবে এতে মোটেও বিচলিত নন তিনি। বললেন, দলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত সবসময়ই নিতে প্রস্তুত তারা।

“জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়াটা তো আমার জন্য খুবই সহজ, কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন কাজ। আর আমরা সাঞ্জু ও আভিশেককে রেখে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। ইতিহাসে এমন কোনো দল নেই যারা এক বিশ্বকাপ থেকে পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছে এবং আবারও শিরোপা জিতেছে।

“হঠাৎ কোনো একটি খারাপ সিরিজ বা তিনটা বাজে ম্যাচের কারণে কেউ খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যায় না কিংবা আমাদের দলটাও খারাপ হয়ে যায় না। তাই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”