শিশুদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন বাণিজ্যে লাগাম টানছে গুগল
বয়স, লিঙ্গ বা আগ্রহের ভিত্তিতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, বৈশ্বিকভাবে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য “অবস্থানের তথ্য” ফিচার বন্ধ রাখা হবে।
এ ছাড়াও ১৮ বছর পর্যন্ত বয়স-সংবেদনশীল বিজ্ঞাপন শ্রেণির ধরনও বাড়াবে গুগল এবং ওই বয়স সীমা পর্যন্ত যে ব্যবহারকারীরা রয়েছেন তাদের জন্য নিরাপদ সার্চ ফিল্টার চালু করবে তারা। মঙ্গলবার এ বিষয়গুলো সম্পর্কে এক ব্লগপোস্টে জানিয়েছে গুগল।
সব অনুর্ধ্ব ১৮ ব্যবহারকারী, তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকের জন্য নতুন নীতিও নিয়ে আসছে গুগল। ওই নীতির অধীনে গুগল ইমেজ সার্চ ফলাফল থেকে অল্প বয়সীদের ছবি মুছে দেওয়ার অনুরোধ জানানো যাবে বলে উঠে এসেছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।
অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা, গোপনতা ও ভালো থাকা প্রশ্নে দীর্ঘ সময় ধরেই আইনপ্রণেতা ও নিয়ন্ত্রকদের তোপের মুখে রয়েছে প্রধান সারির অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো।
“কিছু দেশ এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনছে, এবং এই নিয়ন্ত্রণ মেনে চলার সময়টিতে আমরা বৈশ্বিকভাবে শিশু ও কিশোর বয়সীদের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারকারী নিয়ন্ত্রণ তৈরির রাস্তাগুলো খতিয়ে দেখছি।” – বলেছেন গুগলের শিশু ও পরিবার বিভাগের মহা ব্যবস্থাপক মিন্ডি ব্রুকস।
গুগলের ভিডিও-স্ট্রিমিং সাইট ইউটিউব মঙ্গলবার জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর বয়সীদের জন্য ডিফল্ট আপলোড সেটিংসে ‘সর্বোচ্চ গোপনতা অপশন’ নিয়ে আসবে তারা। ওই অপশনে কন্টেন্ট আপলোড করলে শুধু ব্যবহারকারী এবং তাদের নির্বাচিত ব্যক্তিরাই সেটি দেখতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে কন্টেন্ট পাবলিকও করে দিতে পারবেন।
এ ছাড়াও ইউটিউব কিডস অ্যাপ থেকে “অতিমাত্রায় বাণিজ্যিক কন্টেন্ট” মুছে দেবে ইউটিউব। যেমন, “এমন কোনো ভিডিও যা শুধু পণ্য মোড়কীকরণে মনোযোগ দেয় বা সরাসরি শিশুদের অর্থ খরচে উৎসাহী করে।” – বলেছেন সাইটটির শিশু ও পরিবার পণ্য ব্যবস্থাপক পরিচালক জেমস বিজার।
কয়েকদিন আগে অনুর্ধ্ব ১৮ ব্যবহারকারীদের জন্য ফেইসবুকও নিজেদের বিজ্ঞাপন প্রচার নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। তবে, এখনও প্ল্যাটফর্মটি অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের বেলায় বয়স, লিঙ্গ ও অবস্থানের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে দিচ্ছে।
