১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বচালিত গাড়ির ‘রিজনিং’ এআই প্রযুক্তি উন্মোচন এনভিডিয়ার

‘২০২৫ মার্সিডিজ-বেঞ্জ সিএলএ’ মডেলের গাড়িতে প্রথমবারের মতো আলপামায়ো’সহ এনভিডিয়ার সম্পূর্ণ স্বচালিত ‘রিজনিং’ এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে।

স্বচালিত গাড়ির ‘রিজনিং’ এআই প্রযুক্তি উন্মোচন এনভিডিয়ার
হুয়াং বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য একদিন প্রতিটি গাড়ি বা প্রতিটি ট্রাক হবে সম্পূর্ণ স্বচালিত।” ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jan 2026, 10:38 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:31 PM

বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি মেলা সিইএস ২০২৬-এর মঞ্চে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার সাম্প্রতিক খবরাখবর তুলে ধরেছেন কোম্পানিটির সিইও জেনসেন হুয়াং। আর সেখানেই এসেছে নতুন প্রযুক্তির খবর।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত এ মেলায় সোমবার নতুন কিছু বলার চেয়ে কোম্পানির পুরানো বিভিন্ন প্রযুক্তিকেই বেশি ঝালিয়ে নিয়েছেন এনভিডিয়া প্রধান। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

‘আলপামায়ো’ নামের ওপেন-সোর্স ‘রিজনিং’ বা যুক্তিনির্ভর এআই মডেল সিরিজের ঘোষণা দিয়েছে এনভিডিয়া, যা মূলত অটোনমাস বা স্বচালিত গাড়িকে কঠিন ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পথ চলতে সাহায্য করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।

এ সিরিজের মূল আকর্ষণ হচ্ছে ‘আলপামায়ো ১’, যা এক হাজার কোটি প্যারামিটারের এক ‘চেইন-অফ-থট’ সিস্টেম।

এনভিডিয়া বলেছে, মানুষের মতোই বিচার-বুদ্ধি খাটিয়ে গাড়ি চালাতে পারে এই সিস্টেম। মডেলটি যে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিকে ছোট ছোট কয়েকটি সমস্যায় ভাগ করে নেয় এবং তারপর সবচেয়ে নিরাপদ পথটি খুঁজে বের করে। যাত্রাপথের প্রতিটি ধাপে মডেলটি নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তিও ব্যাখ্যা করতে পারে।

পাশাপাশি ‘আলপাসিম’ নামের এক সহযোগী মডেলও এনেছে এনভিডিয়া। মডেলটি ডেভেলপারদের এমন সব কঠিন পরিস্থিতির কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়, যা বাস্তবে খুব একটা দেখা যায় না।

হুয়াং বলেছেন, ‘২০২৫ মার্সিডিজ-বেঞ্জ সিএলএ’ মডেলে প্রথমবারের মতো আলপামায়োসহ এনভিডিয়ার সম্পূর্ণ স্বচালিত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে।

“আমাদের লক্ষ্য একদিন প্রতিটি গাড়ি বা প্রতিটি ট্রাক হবে সম্পূর্ণ স্বচালিত।”

‘আলপামায়ো’র ঘোষণার পর হুয়াংয়ের সঙ্গে মঞ্চে যোগ দেয় ‘স্টার ওয়ার্স জেডি: ফলেন অর্ডার’ গেইমের দুটি ‘বিডি-১’ নামের রোবট। গত বছরের সিইএস মেলাতেও তার সঙ্গে এ দুটি রোবটকে দেখা গিয়েছিল।

এরপর কোম্পানিটির ‘ভেরা রুবিন’ প্রসেসরের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন হুয়াং। ২০২৪ সালে প্রথম এই জিপিইউ আর্কিটেকচারের কথা বলেছিল এনভিডিয়া। এখন এ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুপার কম্পিউটার তৈরির কাজ শুরু করেছে কোম্পানিটি।

‘ভেরা’ সিপিইউ-তে ৮৮টি কাস্টম অলিম্পাস কোর ও ১.৫ টেরাবাইট সিস্টেম মেমোরি রয়েছে, যেখানে মোট ট্রানজিস্টরের সংখ্যা ২২ হাজার সাতশ কোটি।

অন্যদিকে, ‘রুবিন’ জিপিইউ-তে ৩৩ হাজার ছয়শ কোটি ট্রানজিস্টর রয়েছে। প্রতিটি ‘ভেরা রুবিন’ সুপার কম্পিউটারে এ দুটি উপাদানের এক জোড়া করে অংশ থাকবে।

গেইম সংক্রান্ত ঘোষণায় এনভিডিয়ার কনজিউমার জিপিইউ বা গ্রাফিক্স কার্ড নিয়ে তেমন কিছু বলেননি হুয়াং।

তবে সিইএস মেলা চলাকালীন এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। মঙ্গলবার শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ মেলাটি ৯ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত চলবে।