ট্রাম্পের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নীতির পথ ধরে নাম বদলাচ্ছেন মাস্ক
গেল মাসে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে নাম পরিবর্তনের এই ধারণার সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন ট্রাম্প।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ে নাম বদলে সুপার ইন্টেলিজেন্স করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের কোম্পানির নাম পরিবর্তন করার ঘোষণা দিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক।
‘স্পেসএক্সএআই’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেসএক্সএসআই’ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মাস্ক। তার মতে, নতুন ‘এসআই’ নাম আগেরটির চেয়ে ‘আরও ভালো’।
আমেরিকান ম্যাগজিন ফোর্বস প্রতিবেদনে লিখেছে, গেল সপ্তাহে ডনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ওই আদেশে দেশের সব ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থাকে দাপ্তরিক যোগাযোগে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
ওই নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাহী বিভাগ এখন থেকে সংশ্লিষ্ট যে কোনো ক্ষেত্রে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের ব্যবহার আর কখনোই ‘স্বীকৃতি দেবে না’।
“আজকের এআই সিস্টেমগুলো মানুষের বুদ্ধিমত্তার দিকগুলোকে অনুকরণ বা স্বয়ংক্রিয় করার চেয়ে বেশি কিছু করেছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শব্দটি প্রথম যখন প্রচলনে এসেছিল তখনকার ধারণাকে বহু পেছনে ফেলে এসেছে নতুন এসব প্রযুক্তিগুলো।”
এ প্রতিবেদনে প্রকাশের সময় পর্যন্ত স্পেসএক্সএআই-এর এক্স অ্যাকাউন্টটির নাম পরিবর্তন করা হয়নি।
নাম পরিবর্তন নিয়ে মাস্ক অন্য কোনো তথ্য দেননি এবং পরিবর্তনটি কবে নাগাদ হতে পারে সে বিষয়েও কোনো সম্ভাব্য সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্পেসএক্সএআই।
গেল মাসে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে নাম পরিবর্তনের এই ধারণার সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন ট্রাম্প।
সেখানে একটি জনমত জরিপে তিনি ব্যবহারকারীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এআইয়ের নাম বদলে তারা ‘সুপ্রিম ইন্টেলিজেন্স’, ‘এক্সট্রিম ইন্টেলিজেন্স’ নাকি ‘সুপারিয়র ইন্টেলিজেন্স’ রাখতে চান।
নিজের ওই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘অনেকেই’ মনে করেন এআই একটি ‘অনির্দিষ্ট ও খুবই অমার্জিত’ শব্দ।
ওই প্রথম জরিপে ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিল ‘সুপিরিয়র ইন্টেলিজেন্স’। তবে এর পরের দিনই ট্রাম্প ‘সুপ্রিম ইন্টেলিজেন্স’ অপশনটি বাদ দিয়ে নতুন একটি পোল পোস্ট করেন।
ট্রাম্পের দাবি, ‘সুপ্রিম ইন্টেলিজেন্স’ হেরে যাচ্ছিল ‘সম্ভবত সুপ্রিম কোর্টের সাথে এর সম্পর্কের কারণে’। এরপর দ্বিতীয় সেই পোলে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে আবারও বিজয়ী হয় ‘সুপিরিয়র ইন্টেলিজেন্স’।
তবে এখানেই থামেননি ট্রাম্প। তার পরের দিন তিনি আরেকটি নতুন পোল পোস্ট করেন, যেখানে ‘সুপিরিয়র ইন্টেলিজেন্স’-এর সঙ্গে রাখা হয় সম্পূর্ণ নতুন একটি অপশন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’। শেষ পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’।
অনান্য শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোও ‘এসআই’ ব্র্যান্ডিং অনুসরণ করে এটা গ্রহণ করবে কি না তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর থেকেই স্লোভেনিয়ার ওয়েবসাইটগুলোর জন্য ব্যবহৃত ‘ডটএসআই’ ডোমেইনের চাহিদা বেড়েছে।
রেজিস্ট্রি এসআইয়ের মুখপাত্র ক্লারা হারম্যান বলেছেন, গেল সেপ্টেম্বরে ‘ডটএসআই’-এ ৪৪ হাজার নতুন ওয়েবসাইট রেজিস্টার্ড হয়েছে, যা অগাস্টের তুলনায় ২ হাজার ১৯৯ শতাংশ বেশি।
গেল সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে শীর্ষ এআই কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাস্ক, মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই, গুগলের সুন্দার পিচাই ও প্যালান্টিরের অ্যালেক্স কার্প।
এই বৈঠকে ট্রাম্প ও এআই শীর্ষ কর্তারা যৌথভাবে ‘হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড অন সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এআই কোম্পানিগুলোর জন্য স্বেচ্ছায় কিছু সুরক্ষা বলয় বা গার্ডরেল তৈরি করতেই চুক্তি করা হয়েছে।
চুক্তির বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘সাইবার নিরাপত্তা, জৈব নিরাপত্তা ও রাসায়নিক হুমকি’ পর্যবেক্ষণ করা ও মডেলগুলো যেন ‘অনিচ্ছাকৃত উপায়ে কোনো হ্যাকিং বা প্রযুক্তিগত সিস্টেমে প্রবেশ না করে’ তা নিশ্চিত করা।
পাশাপাশি, ‘সব নিয়ন্ত্রণ, পর্যবেক্ষণ ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত উপায়ে কাজ করছে কি না’ তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পর্যালোচনা বা রিভিউ চালু রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে, রোববার ট্রাম্প নতুন একটি দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’।
তিনি বলেছেন, দলটিকে ‘ফেডারেল সরকারের প্রচেষ্টার সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, যাতে আমেরিকা সুপার ইন্টেলিজেন্স বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়া ধরে রাখতে পারে’।
জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটন, ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, গবেষণা ও প্রকৌশল বিষয়ক প্রতিরক্ষার আন্ডার সেক্রেটারি এমিল মাইকেল ও ‘অফিস অফ পার্সনেল ম্যানেজমেন্ট’-এর পরিচালক স্কট কুপারসহ প্রশাসনের গুটিকয়েক কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এ বিশেষ বাহিনী।
