Published : 06 Aug 2025, 07:12 PM
ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে তাদের ভুল ধারণা বা বিভ্রান্তিকে সত্যি বলে ধরে নিয়ে কথা বলছিল চ্যাটজিপিটি। এ সমস্যার সমাধানে চ্যাটজিপিটিতে এবার মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা যোগ করল ওপেনএআই।
বর্তমানে কম্পিউটারের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের ধরনই বদলে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর এ সফটওয়্যারটি। দৈনন্দিন সমস্যার উপকারী পরামর্শ দিলেও চ্যাটবটটি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। মানুষ প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং কেউ কেউ এটিকে গভীর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা সঠিক ও নিরাপদ নয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছিল, কিছু ব্যবহারকারীকে ম্যানিয়া, সাইকোসিস বা মানসিক বিকার, এমনকি মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিতে পারে চ্যাটজিপিটি।
এপ্রিলে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনটিতে এক গবেষণার বরাত দিয়ে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছিলেন, কেউ যখন গভীর মানসিক সংকটে থাকে তখন চ্যাটবট থেকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ বা উপযোগী নয়’ এমন উত্তর পাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা ব্যক্তির সেই মানসিক সমস্যা বা সাইকোটিক পর্বকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সোমবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক পোস্টে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই স্বীকার করেছে, “আমরা সবসময় সঠিকভাবে কাজ করি না।
“এ বছরের শুরুতে এক আপডেটের ফলে আমাদের এআই মডেলটি ব্যবহারকারীর কথায় খুব সহজেই হ্যাঁ বলে দিত বা এমন উত্তর দিত, যা ভদ্র ও ভালো শোনায়। ফলে এটি শুনতে ভালো লাগলেও আসলে সত্য বা কার্যকর সমাধান ছিল না।”
এরপর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা ব্যবহারকারীদের উপযোগী ও দায়িত্বশীলভাবে সাহায্য করতে ওই আপডেটটি ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কিছু পরিবর্তনও এনেছে ওপেনএআই।
কোম্পানিটি পোস্টে বলেছে, সোমবার থেকে যারা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে অনেক সময় ধরে কথা বলবেন তাদের বটটি ভদ্রভাবে মনে করিয়ে দেবে ‘এখন একটু বিশ্রাম নেওয়া ভালো হতে পারে’, যা তাদের বিরতি নিতে উৎসাহিত করবে। ‘জটিল ও বহু ধাপে গঠিত আলাপচারিতা মূল্যায়নের জন্য বিশেষ মানদণ্ড তৈরি করতে’ ৩০টিরও বেশি দেশে ৯০ জনের বেশি চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করেছে তারা।
তবে ওপেনএআই স্বীকার করেছে, বিরল কিছু ক্ষেত্রে এআই মডেল তাদের ‘বিভ্রান্তি বা মানসিক অবস্থা বুঝতে পারেনি’। তারা এখনো তাদের ‘বিভিন্ন এআই মডেলকে উন্নত করার কাজ করছে এবং এমন টুল তৈরি করছে যেগুলো মানসিক কষ্টের বিভিন্ন লক্ষণ ভালোভাবে শনাক্ত করতে পারবে’। ফলে চ্যাটজিপিটি সঠিকভাবে সাড়া দিতে ও প্রয়োজনে মানুষকে প্রামাণ্য উৎসের দিকে নির্দেশনা দেবে’।
কোম্পানিটি আরও বলেছে, চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীদের ‘আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত কি না?’ এমন ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবে না, বরং ব্যবহারকারীকে নিজেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করবে চ্যাটজিপিটি। এজন্য ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন করে তাদেরকে চিন্তা করতে উৎসাহিত ও ভালো-মন্দ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করতে সহায়তা দেবে।
ওপেনএআই বলেছে, “যে ধরনের বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে চ্যাটবট ব্যবহারকারীকে সাহায্য করবে, সেই নতুন নিয়ম বা পদ্ধতি খুব শীঘ্রই চালু হচ্ছে।”