Published : 10 Sep 2025, 04:03 PM
ভার্চুয়াল রিয়ালিটি বা ভিআর পণ্য থেকে শিশুদের ক্ষতির তথ্য গোপন করেছে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মেটা– এমনই অভিযোগ করেছেন কোম্পানিটির ভেতরের তথ্য ফাঁসকারী কর্মী বা হুইসেলব্লোয়াররা।
মেটার ছয়জন হুইসেলব্লোয়ার গুরুতর এক অভিযোগ নিয়ে সামনে এসেছেন। তারা বলেছেন, শিশুদের ক্ষতির তথ্য গোপন করেছে ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটি বা ভিআর হেডসেট ও গেইম নির্মাতা কোম্পানিটি।
তাদের অভিযোগ, মেটার নিজস্ব গবেষণায় উঠে এসেছিল, তাদের ভিআর ডিভাইস ও অ্যাপের মাধ্যমে গ্রুমিং, যৌন হয়রানি ও সহিংসতার মতো ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে শিশুদের। তবে গবেষণার এসব ফলাফল কোম্পানিটি মুছে ফেলেছে বা পরিবর্তন করে উপস্থাপন করেছে, যাতে সত্যি প্রকাশ না পায়।
এক বিবৃতিতে কোম্পানির ভিআর গবেষণায় কাজ করা একজন হুইসেলব্লোয়ার বলেছেন, “মেটা জানত, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা তাদের পণ্য বেশি ব্যবহার করছে। এরপরও তারা ভাবল, ‘আরে, শিশুরাই তো বেশি মানুষকে আকৃষ্ট করে,’ আর এভাবেই তারা অর্থ আয় করছিল।
“মেটা নিজেদের অভ্যন্তরীণ দলকে ব্যবহৃত করেছে ওই গবেষণাকে বিকৃত করতে এবং এমন তথ্যও তারা সরিয়ে ফেলেছে, যা তাদের পছন্দ হয়নি।”
জেসন সাটিজান ও অন্যান্য হুইসেলব্লোয়াররা সবাই মেটার বর্তমান বা সাবেক কর্মী। তারাই এ তথ্য ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট কংগ্রেসের সামনে প্রকাশ করেছেন। আর এ খবর প্রথম প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
এবার ওই হুইসেলব্লোয়াররা আমেরিকার সিনেটের বিচার বিভাগীয় উপকমিটির সামনে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সাক্ষাৎকার দেবেন, যেখানে তারা গোপনীয়তা, প্রযুক্তি ও আইনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
এদিকে, মেটার একজন মুখপাত্র দানি লিভার বলেছেন, ২০২২ সাল থেকে কোম্পানিটি নিজেদের ভিআর রিয়ালিটি ল্যাবস-এর জন্য একশ ৮০টি গবেষণা অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তরুণদের নিরাপত্তা ও মঙ্গল সম্পর্কিত বিষয়গুলোও।
তিনি বলেছেন, “এ কয়েকটি উদাহরণকে জোড়া দিয়ে আগে থেকেই তৈরি এক মিথ্যে গল্প বলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, মেটা তাদের বিভিন্ন ভিআর পণ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ সীমিত করার ফিচার ও মা-বাবার জন্য নজরদারি টুলও চালু করেছে।
সোমবার প্রকাশিত হুইসেলব্লোয়ারদের অভিযোগ অনুসারে, নিজেদের বিভিন্ন ভিআর পণ্যে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও অনেক কিছু করতে পারত মেটা। তাদের দাবি, কোম্পানির ম্যানেজাররা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন এমন কোনো গবেষণা না করা হয় যা ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে শিশুদের ক্ষতির প্রমাণ দেখাতে পারে।
ওইরকমই এক ঘটনায় একজন গবেষককে নাকি বলা হয়েছিল ‘অস্বস্তিকর বা খারাপ কিছু দেখলেও চুপ থাকো, মানিয়ে নাও বা ভুলে যাও’।
টেনেসির রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন বলেছেন, মেটার ভিআর পণ্য নিয়ে যেসব তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা থেকে ইঙ্গিত মেলে, কংগ্রেসের উচিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন আইন পাস করা।
এ ছয়জন হুইসেলব্লোয়ারের পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছে ‘হুইসেলব্লোয়ার এইড’ নামের এক অলাভজনক আইন সহায়তা সংগঠন। মঙ্গলবার সিনেটের উপকমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও ফেডারেল ট্রেড কমিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্যও দাখিল করেছেন বর্তমান ও সাবে এই মেটা কর্মীরা।