১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

উইকি ঘটনা স্বীকার করে স্বচ্ছতার তাগিদ ওপেনএআইয়ের

এ বছরের শুরুতে ওপেনএআইয়ের একদল এআই এজেন্ট যৌথভাবে সম্পাদিত জার্মান উইকি সাইট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ‘হাইজ্যাক’ করেছিল।

উইকি ঘটনা স্বীকার করে স্বচ্ছতার তাগিদ ওপেনএআইয়ের
আই প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও ব্যবহারের সময় যে ধরনের মিসঅ্যালাইনমেন্ট বা অনভিপ্রেত আচরণ সামনে আসে তা রিপোর্টের জন্য এ খাতে এখনও কোনো স্পষ্ট মানদণ্ড তৈরি হয়নি। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Sep 2026, 02:58 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টদের উইকি সাইট অপব্যবহারের ঘটনা স্বীকার করেছে ওপেনএআই। তারা বলেছে, এআইয়ের এ ধরনের অনিচ্ছাকৃত আচরণ ঠেকাতে পুরো প্রযুক্তি খাতে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও স্পষ্ট মানদণ্ড জরুরি।

শনিবার চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানিটি বলেছে, তাদের নিজস্ব কিছু এজেন্ট জার্মান উইকি সাইটগুলোকে নিজেদের মধ্যে কথা বলার তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম বা ‘ইম্প্রম্পটু মেসেজ বোর্ড’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। আর এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ওপেনএআইয়ের এ বিবৃতি সামনে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এ বছরের শুরুতে ওপেনএআইয়ের একদল এআই এজেন্ট যৌথভাবে সম্পাদিত এক জার্মান সাইট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বা ‘হাইজ্যাক’ করেছে।

পরবর্তীতে পরীক্ষা চলাকালীন প্রতারণা করা ও অন্যান্য অননুমোদিত কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সাইটটিকে তারা কৌশলগত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ যখন বিশ্বজুড়ে তীব্র আকার ধারণ নিয়েছে ঠিক তখনই এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

জুলাইয়ের ঘটনার পর এমন উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, ওই সময় ওপেনএআইয়ের কিছু এআই এজেন্ট নির্ধারিত পরীক্ষার পরিবেশ বা ‘টেস্টিং এনভায়রনমেন্ট’ থেকে ‘পালিয়ে’ জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেইস-এর সিস্টেমে সফলভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল।

ওই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতা ও গবেষকরা অটোনমাস বিভিন্ন এআই সিস্টেমের ওপর আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন।

এর আগে, রয়টার্স প্রতিবেদনে বলেছিল, ওপেনএআইয়ের কর্মকর্তারা জার্মানির ঘটনাটি সম্পর্কে কয়েক সপ্তাহ আগেই জেনেছিলেন। তবে হাগিং ফেইসের সিস্টেমে অনুপ্রবেশের ঘটনার কারণে তৈরি জটিলতা ও তার পরিণতি সামলাতে গিয়ে শীর্ষ নির্বাহীরা বিষয়টি চেপে যান ও জনসম্মুখে এ তথ্য জানানো থেকে দূরে থাকেন।

এদিকে, বিষয়টিকে ‘উইকি ইনসিডেন্ট’ বা উইকি সংক্রান্ত ঘটনা বলে বর্ণনা করেছে ওপেনএআই।

তবে, এ বিষয়ে তারা আগে থেকে কী জানত বা রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগে কেন তারা বিষয়টি নিয়ে জনসম্মুখে কথা বলতে এত দিন অপেক্ষা করল যে বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি কোম্পানিটি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে ওপেনএআই বলেছে, এআইয়ের আচরণগত ত্রুটির বা ‘মিসঅ্যালাইনমেন্ট’ ঘটনার ক্ষেত্রে ওপেনএআই ও অন্যান্য কোম্পানিকে আরও বেশি স্বচ্ছ হতে হবে।

“মডেলের সক্ষমতার এ নতুন পর্যায়ে আমাদের মিসঅ্যালাইনমেন্ট প্রকাশ করার প্রক্রিয়া আরও প্রসারিত করা প্রয়োজন।”

ওপেনএআই বলেছে, এআই প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও ব্যবহারের সময় যে ধরনের মিসঅ্যালাইনমেন্ট বা অনভিপ্রেত আচরণ সামনে আসে তা রিপোর্টের জন্য পুরো শিল্প খাতে এখনও কোনো স্পষ্ট মানদণ্ড তৈরি হয়নি।

এসব বিষয় নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডজনখানেক সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে তারা কাজ করছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ওপেনএআই।

আরও পড়ুন…

জার্মান সাইটেও হ্যাকিং চালিয়েছিল ওপেনএআই এজেন্ট