১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যেভাবে ইন্টারনেট থেকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সরাবেন

ইন্টারনেট থেকে নিজের তথ্য সরানোর প্রথম ধাপ হল পুরানো অ্যাকাউন্টগুলো খুঁজে বের করা ও মুছে ফেলা।

যেভাবে ইন্টারনেট থেকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সরাবেন
ইন্টারনেট থেকে ব্যক্তিগত তথ্য পুরোপুরিভাবে মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব। ছবি ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Jul 2025, 08:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:24 PM

প্রযুক্তির এ যুগে যে কারও তথ্যই ইন্টারনেটে খুঁজলে পাওয়া সম্ভব। কম হোক বা বেশি এসব তথ্য সামাজিক মাধ্যম বা অন্যান্য সাইটে একটু খুঁজলেই মিলে যাচ্ছে। অনেকেই ইন্টারনেটে নিজের তথ্য রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না এবং চেষ্টা করেন এগুলো সরিয়ে ফেলার।  

গত চার দশক ধরে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহার হয়ে আসছে এবং সময়ের সঙ্গে তা বেড়েই চলছে। সেখান থেকে কারও তথ্য পুরোপুরিভাবে মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট টেকরেডার। 

তবে যতটা সম্ভব তথ্য মুছে ফেলার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে-

পুরানো বা ব্যবহার করা হয়না এমন অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলুন

ইন্টারনেট থেকে নিজের তথ্য সরানোর প্রথম ধাপ হল পুরানো অ্যাকাউন্টগুলো খুঁজে বের করা ও মুছে ফেলা। যদি কিছু অ্যাকাউন্টের কথা ভুলে যান তাহলে ‘সেমাইন’ এর মত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজের ইমেইল দিয়ে তৈরি সব অ্যাকউন্ট দেখতে পাবেন। এরপর প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে থাকা অ্যাকাউন্টগুলো নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করে মুছে ফেলতে পারবেন। 

ভিপিএন ব্যবহার করুন

ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহারকারীর অনলাইন পরিচয় গোপন করে এবং সংবেদনশীল তথ্য এনক্রিপ্ট করে ফেলে। ভালো মানের ভিপিএন ব্যবহারকারীর অবস্থানও গোপন করে এবং ডেটা এনক্রিপ্ট করে। এটি থার্ড পার্টির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সম্ভাবনা কমায়।  

ব্যক্তিগত ব্রাউজার ব্যবহার করুন

গুগল ক্রোম, সাফারি ও মজিলা ফায়ারফক্স বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার। এ ব্রাউজারগুলোতে ‘পার্সোনাল মোড’ রয়েছে, এটি ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং হিস্ট্রি সংরক্ষণ না করেই ব্রাউজ করার সুযোগ দেয়। ‘ব্রেভ’ এর মতো বিশেষায়িত ব্যক্তিগত ব্রাউজারও ব্যবহার করা যেতে পারে, এটি নিজ থেকেই থার্ড পার্টি অ্যাপ ও কুকিজ বন্ধ করে দেয়।  

পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলুন

ইন্টারনেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি সহজ পদক্ষেপ হল পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলা। এ নেটওয়ার্কগুলো প্রায়ই অনিরাপদ ও হ্যাকারদের মোক্ষম অস্ত্র হয়। যদি এ ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা ছাড়া কোনো উপায় না থাকে তাহলে সবসময় ভিপিএন ব্যবহার করুন। 

তথ্য অপসারণ সেবা নিতে পারেন

ওয়েব থেকে নিজের তথ্য ট্র্যাক করা ও তা মুছে ফেলা ক্লান্তিকর মনে হতে পারে। কিছু পেশাদার ডেটা অপসারণ সেবা ব্যক্তির হয়ে কাজগুলো করে দেয়। এক্সপার্টদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ওয়েবসাইটগুলো থেকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা ও মুছে ফেলতে পারবেন।  

থার্ড পার্টি কুকিজ বন্ধ করুন

যখন ওয়েব ব্রাউজ করা হয় তখন সাইটগুলো ব্যবহারকারীর ব্রাউজারে ‘কুকিজ’ নামে ছোট একটি ডেটা ব্লক ইনস্টল করে। এই কুকিজ সাইটগুলোকে ব্যবহারকারীর ডেটা যেমন লগইন ও ক্রেডিট কার্ড বিবরণ মনে রাখতে সাহায্য করে। এ সংরক্ষণ গোপনীয়তা ঝুঁকি তৈরি করে। এ ঝুঁকি কমাতে নিজের ব্রাউজারের কুকিজ বন্ধ করতে পারেন। 

এনক্রিপ্ট করে এমন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করুন

এনক্রিপ্ট করে এমন মেসেজিং অ্যাপগুলো সংবেদনশীল তথ্যকে অন্যদের নজর থেকে রক্ষা করে। অ্যাপগুলো মেসেজকে এমনভাবে কোডে রূপান্তর করে যা কেবল প্রাপক ডিভাইসই ডিক্রিপ্ট করতে পারে। ‘সিগনাল’ ও ‘ওয়াটসঅ্যাপ’ এর মত এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন করে এমন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।     

নিজের ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিটি’ নিয়ে সতর্ক থাকুন

অনলাইনে যত বেশি সময় ব্যয় করা হয় ততবেশি তথ্য প্রকাশের ঝুঁকি থাকে, যার অপব্যবহার হতে পারে। সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার অন্যতম উপায় হল সামাজিক মাধ্যম। তাই ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও এ ধরনের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার সীমিত করুন। যদি সম্ভব হয় সামাজিক মাধ্যম একেবারেই এড়িয়ে চলুন।