Published : 16 Aug 2025, 03:32 PM
ব্যাকটেরিয়া থেকে জৈব রং তৈরি করছে গ্রিনডাই নামের বাংলাদেশি এক স্টার্টআপ। রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে এই রং পোশাক শিল্পে হতে পারে টেকসই প্রাকৃতিক বিকল্প। পরীক্ষাগারে সফলভাবে রং আহরণ করার গল্প শোনালেন গ্রিনডাই প্রতিষ্ঠাতা তানজিব আহমেদ অমি।
শহরের রাস্তাঘাট থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে সেটিকে নতুন রূপ দিচ্ছে আরেক উদ্যোগ গার্বেজম্যান। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে করেছে স্বচ্ছ ও ট্রেসএবল। প্লাস্টিক বর্জ্যকে কুচি কুচি করে বানানো হয় চিপস, যা একটি টেক্সটাইল কারখানায় সরবরাহ করার পর সেখানে তৈরি হচ্ছে সিনথেটিক ফাইবার। এই প্রক্রিয়া দেখালেন উদ্যোক্তা ফাহিম শুভ।
এইরকম ১৬টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হল বৃহস্পতিবারের এক আয়োজনে যেগুলো সরাসরি প্রভাব রাখবে দেশের পেশাক শিল্পে। ‘নিডল অ্যাক্সেলারেটর’ নামে এ আয়োজনের প্রথম পর্বে সারা দেশ থেকে অংশ নেয় সাড়ে চার হাজার উদ্ভাবনী প্রকল্প। সেখান থেকে একাধিক ধাপ পার হয়ে এই প্রকল্পগুলো এখন আরও বড় পরিসরে কর্মযজ্ঞ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি শুরু হচ্ছে এ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্ব।
নিডল অ্যাক্সেলারেটরের নকশাকার এরাদ কাওসার বললেন, বিকল্প উপকরণ, জৈব রং, সহায়ক প্রযুক্তি, সার্কুলার ফ্যাশন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি—এই পাঁচ ক্ষেত্রে কাজ করছে তাদের কর্মসূচি।
ঢাকার একটি হোটেলের বল রুমে এ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পগুলো দেখে আইসিডিডিআর,বি নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, “আগে মনে করা হত, ব্যাকটেরিয়া শুধু ক্ষতি করে। এখন ব্যাকটেরিয়া দিয়েই পোশাক শিল্পের জন্য রং তৈরি হচ্ছে—এটাই উদ্ভাবনের শক্তি।”
নিডল অ্যাক্সেলারেটরের উদ্যোক্তা কোম্পানি ‘বিল্ড বাংলাদেশে’র প্রেসিডেন্ট ফারহাদুর রেজা বলেন, “আমরা শুধু দারিদ্র্য দূর করছি না, সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করছি এবং বিনিয়োগগ্রহীতাকে বিনিয়োগকারীতে পরিণত করছি। আমাদের লক্ষ্য একশো কোটি মানুষের সহায়তায় একশো কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন।”
এই কর্মসূচি এইচঅ্যান্ডএম ফাউন্ডেশন (সুইডেন) ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘অপরাজিতা’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। প্রথম পর্যায়ে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যথাক্রমে এক হাজার চারশ ৯৬ ও দুই হাজার পাঁচশ ৯৪টি স্টার্টআপ আইডিয়া নিয়ে কাজ করেছে নিডল অ্যাক্সেলারেটর। এর মধ্যে ২১টি উদ্যোগ প্রি-সিড তহবিল পেয়েছে। ইমপ্রেস গ্রুপের উদ্যোগে বিল্ড বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন নতুন উদ্যোক্তা, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের নেতারা, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা।
দ্বিতীয় পর্যায়ে আরএমজি এঞ্জেল নেটওয়ার্কের সহায়তায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নতুন উদ্যোক্তাদের দ্রুত বিকাশ এবং বিশ্ব টেকসই টেক্সটাইল খাতে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার কথা বললেন বিল্ড বাংলাদেশের এরাদ কাওসার।