Published : 27 Jul 2025, 03:37 PM
দুদিন আগেই এক জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কম ভরসার বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্র্যান্ড হিসেবে উঠে এসেছে টেসলার নাম। এমন হতাশাজনক খবরের মধ্যেই এবার আশার বার্তা নিয়ে এলো যুক্তরাজ্য থেকে পাওয়া একটি সফল পরীক্ষা।
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেসলা সম্প্রতি ব্রিটেনের সড়কে চালিয়েছে স্ব-চালিত বা সেলফ ড্রাইভিং গাড়ির পরীক্ষা। কোম্পানিটি দুটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায়— একটি মডেল ৩ গাড়ি চালকের হস্তক্ষেপ ছাড়াই লন্ডনের কেন্দ্রস্থল এবং সুইন্ডনের বিখ্যাত ‘ম্যাজিক রাউন্ডআবাউট’ অতিক্রম করছে।
লন্ডনে ধারণ করা তিন মিনিটের ভিডিওতে গাড়িটিকে দেখা যায় পথের কাজ ও জটিল ট্রাফিক সামলে চলতে, বিগ বেন, বাকিংহাম প্যালেস ও ডাউনিং স্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশ দিয়ে নির্বিঘ্নে ছুটে যেতে।
টেসলার দাবি, পরীক্ষায় ব্যবহৃত গাড়িটি ঠিক সেই একই হার্ডওয়্যার ব্যবহার করছে, যা গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা গাড়িতেও থাকে। তবে সফটওয়্যারটি এখনো কেবল টেসলার ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ।
ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট বলছে, টেসলা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে তাদের 'পর্যবেক্ষণবিহীন পূর্ণ স্বচালিত প্রযুক্তি'র ব্যবহারের জন্য সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।
মোটরিং গবেষণা সংস্থা RAC ফাউন্ডেশন-এর পরিচালক স্টিভ গুডিং বলেন,
“স্বচালিত প্রযুক্তি যুক্তরাজ্যের সড়কের জটিলতা ও বৈচিত্র্য সামলাতে পারবে না—এমন ভাবা ভুল। ম্যাজিক রাউন্ডআবাউট অতিক্রম করা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার, সেটা মানুষ হোক বা যন্ত্র।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “নিয়ন্ত্রকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে এই প্রযুক্তি প্রতিদিন, যে কোনো পরিস্থিতিতে নিরাপদে চলতে সক্ষম, বিশেষ করে যখন আশপাশে থাকা অন্য চালকেরা নিয়ম না মানার প্রবণতায় থাকে।”
ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, কোম্পানিটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে তাদের পর্যবেক্ষণবিহীন পূর্ণ স্ব-চালিত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মোটরিং গবেষণা সংস্থা আরএসি ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্টিভ গুডিং বলেন, “ড্রাইভারবিহীন প্রযুক্তি যুক্তরাজ্যের সড়কের জটিলতা ও বৈচিত্র্য সামলাতে পারবে না এমনটা ভাবা ভুল হবে। ম্যাজিক রাউন্ডআবাউট সফলভাবে অতিক্রম করতে পারা যে কোনো ব্যক্তি বা প্রযুক্তির জন্যই প্রশংসনীয় বিষয়।
“নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য যাত্রীদের মনে একটি উদ্বেগ রয়েছে তা হলো কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এই যানবাহনগুলো যে কোনো পরিস্থিতি সামলিয়ে চলাচল করতে পারবে, এমনকি যখন আশপাশের মানব চালকেরা নিয়ম মানতে কম আগ্রহী থাকে।
“স্ব-চালিত যানবাহনগুলোকে যে নিয়ন্ত্রক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে তা কেবল কোনো নির্দিষ্ট দিনে আমাদের সড়কে চলতে পারা নয় বরং প্রতিদিন সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির সমন্বয়ে চলতে পারার সক্ষমতা প্রমাণ করা।”
এদিকে সোমবার ব্রিটিশ সরকার ভবিষ্যতে স্ব-চালিত ট্যাক্সির জন্য কী কী নিয়ম থাকা উচিত, তা নিয়ে জনমত গ্রহণের উদ্যোগ শুরু করেছে।
অন্যদিকে ইলন মাস্ক সতর্ক করে বলেন, “কোম্পানিটি সামনে ‘কঠিন কয়েকটি সময়ের’ মুখোমুখি হতে পারে, কারণ শেয়ারের দাম অসম্ভবরকম পড়ে গিয়েছে। টেসলা এখন গাড়ি বিক্রির পরিবর্তে স্ব-চালিত ট্যাক্সি পরিষেবার দিকে বেশি মনোযোগী হচ্ছে।”
তবে সর্বশেষ প্রান্তিকে টেসলার আয় ১২ শতাংশ এবং মুনাফা ১৬ শতাংশ কমেছে যা কোম্পানির আরেকটি হতাশাজনক আর্থিক ফলাফল হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ইলন মাস্কের ডানপন্থী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা টেসলার প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন, আর ইউরোপ ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।
টেসলা এখন সাড়ে সাত হাজার ডলারের বৈদ্যুতিক গাড়ির ট্যাক্স ক্রেডিট হারানোর ঝুঁকিতে আছে এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্যাক্স আইনে পরিবর্তনের ফলে অন্যান্য গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়ন্ত্রক ক্রেডিট বিক্রি করেও আগের তুলনায় অনেক কম আয় করতে পারবে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীন ও মেক্সিকোসহ একাধিক দেশের ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছেন তা টেসলার লাখ লাখ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় ডেকে আনবে বলে কোম্পানিটি আয়ের প্রতিবেদনে লিখেছে।