Published : 14 Aug 2026, 10:17 AM
ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা বলেছে, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট বন্ধের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাত লাখ ৫৬ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট সরিয়েছে।
এটি সাম্প্রতিক ঘটনা নয়, বরং দেশটিতে জারি হওয়া কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আইনের প্রেক্ষিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর করার তথ্য প্রকাশ করেছে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিটি।
অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সময় থেকে গত জুন পর্যন্ত ১৬ বছরের কম বয়সী বলে সন্দেহ করা সাত লাখ ৫৬ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট মেটা নিষ্ক্রিয় করার কথা বলেছে বলে উঠে এসেছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।
এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামের চার লাখ ৬২ হাজার এবং ফেইসবুকের দুই লাখ ৯৪ হাজার অ্যাকাউন্ট রয়েছে। জানুয়ারিতে মেটা বলেছিল, তখন পর্যন্ত তারা ইনস্টাগ্রামের তিন লাখ ৩১ হাজার এবং ফেইসবুকের এক লাখ ৭৩ হাজার অ্যাকাউন্ট সরিয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে আরেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্ন্যাপ একাই চার লাখ অ্যাকাউন্ট সরানোর কথা বলেছিল।
গেল ডিসেম্বরে আইনটি পাশ করার পরপরই অস্ট্রেলীয় সরকার মোট ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার কথা বলেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিটি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এই আইন মেনে চলতে তারা আগ্রহী। তবে মেটাসহ অন্য কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম আইনটির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখন এমন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যেগুলো আইন মেনে চলার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি বলে তাদের অভিযোগ। মেটার মালিকানাধীন কিছু প্ল্যাটফর্মও এই সম্ভাব্য ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের তথ্য এবং একাধিক স্বাধীন গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রথম তিন মাসেও ১৬ বছরের কম বয়সী প্রতি ১০ জনের মধ্যে আটজনের বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছিল।
শিশু ও কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সরকার এই যুগান্তকারী আইন প্রস্তাব করে। গত ১০ ডিসেম্বর আইনটি কার্যকর হয়।
শুক্রবার সংসদীয় শুনানি
শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার একটি সংসদীয় তদন্তে মেটা, টিকটক, গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউব এবং স্ন্যাপচ্যাটের প্রতিনিধিদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের কর্মকর্তারাও ওই শুনানিতে অংশ নেবেন।
মেটা এক বিবৃতিতে বলেছে, “আইন প্রয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে থাকবে।”
সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিটি আরও বলেছে, “তরুণদের জন্য নিরাপদ এবং বয়সের উপযোগী অনলাইন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমরা অস্ট্রেলিয়া সরকারের লক্ষ্যকে সমর্থন করি এবং আমরা আইনের অধীনে আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।”
২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় বয়স যাচাই প্রযুক্তির একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, বাজারে থাকা প্রযুক্তিগুলো এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সহায়তা করতে পারে।
মেটাসহ অধিকাংশ বড় প্ল্যাটফর্ম ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে বয়স অনুমানের সফটওয়্যার চালু করেছে। তবে কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, সাধারণত তারা প্রথমে ব্যবহারকারীর বয়স অনুমান করার চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি অনলাইনে কী ধরনের কার্যক্রম চালান, সেই তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
মেটা জানিয়েছে, কোনো অ্যাকাউন্ট ১৬ বছরের কম বয়সী কারও হতে পারে কি না, তা বোঝার জন্য তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। জন্মদিন উদ্যাপনের তথ্য বা স্কুলের শ্রেণির উল্লেখের মতো বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক সূত্রও এতে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
সন্দেহভাজন কম বয়সী অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে অন্য ব্যবহারকারীদের দেওয়া প্রতিবেদনও বিশ্লেষণ করছে কোম্পানিটি।
মেটা আরও জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট কম বয়সের কারণে মুছে দেওয়া হলে, সেই ব্যক্তি যাতে আবার নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আরও চেষ্টা করতে না পারেন, সেই সুযোগও তারা বন্ধ করে দিয়েছে।