এবার পিসিতেই এআই চালাবে মাইক্রোসফট-এনভিডিয়া
ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ তৈরির খরচ বাড়িয়ে দেওয়া মেমোরি চিপের তীব্র সংকটের পর নতুন এসব ডিভাইসের দাম কত হবে এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ক্লাউডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ব্যক্তিগত কম্পিউটারকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালুর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট ও চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়া।
এনভিডিয়ার চিপচালিত নতুন এক ল্যাপটপ উন্মোচন করেছে মাইক্রোসফট।
রয়টার্স লিখেছে, কোড লেখার মতো জটিল বিভিন্ন কাজ ক্লাউডের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি সম্পন্ন করার জন্য উইন্ডোজকে শক্তিশালী এক এআই প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করার লক্ষ্য রয়েছে এ উদ্যোগের পেছনে।
মাইক্রোসফটের জন্য পদক্ষেপটি এমন এক কৌশলগত বাজি, যার মাধ্যমে তাদের ব্যয়বহুল অ্যাজিউর ক্লাউড কম্পিউটিং ডেটা সেন্টারের কিছু কাজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির শক্তিশালী উইন্ডোজ কম্পিউটারগুলোতে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
পিসি বাজারে এ সফটওয়্যার জায়ান্টের বরাবরই শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। আর, এ বাজারে ক্রেতারাই হার্ডওয়্যারের খরচ বহন করে।
দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলও তাদের নতুন ম্যাক কম্পিউটারের মাধ্যমে এই বাজার দখলের লড়াইয়ে নেমেছে।
অন্যদিকে, উইন্ডোজ পিসি বাজারে প্রবেশ করতে পারলে এনভিডিয়া তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইনটেল ও এএমডি’র একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে এমন অন্যতম প্রধান একটি বাজারে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারবে।
স্যান ফ্রান্সিসকোতে মাইক্রোসফট আয়োজিত ইভেন্টটিকে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ও সারফেস হার্ডওয়্যার লাইনের বড় আপডেট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পিসি অপারেটিং সিস্টেম নির্মাতা ও এআই চিপ নির্মাতা কোম্পানির বহু বছরের যৌথ কাজের ফল এই ইভেন্ট।
এর মাধ্যমে কোড লেখা বা জটিল ব্যবসায়িক প্রকল্পের মতো কাজগুলো সরাসরি ডেস্কটপ ও ল্যাপটপে নিয়ে এসেছে, যা গত জুনে ঘোষিত এনভিডিয়ার ‘আরটিএক্স স্পার্ক’ চিপের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।
মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সাত্যিয়া নাদেলা ও এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং একই মঞ্চে হাজির হয়ে নতুন এ ল্যাপটপের নাম ঘোষণা করেছেন, যার নাম ‘সারফেস ল্যাপটপ আল্ট্রা’।
মাইক্রোসফট ও এনভিডিয়ার সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে এমন দীর্ঘমেয়াদী এআই সিস্টেম বা ‘এজেন্টগুলোকে’ নিরাপদে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে সীমাবদ্ধ রাখা যে সম্ভব, তা প্রমাণ করা।
এনভিডিয়া এরইমধ্যে এআই হাব হাগিং ফেইস-এ হ্যাকিংয়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, অ্যাপলও ম্যাক কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভে এআই এজেন্টগুলোর সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও কঠোর করার উপায় খুঁজছে।
তবে বিশ্লেষরা বলছেন, ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ তৈরির খরচ বাড়িয়ে দেওয়া মেমোরি চিপের তীব্র সংকটের পর নতুন এসব ডিভাইসের দাম কত হবে এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
দুই বছর আগে মাইক্রোসফট যখন খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে পিসিতে এআই চালুর ধারণাটি সামনে এনেছিল তখন বেশিরভাগ ল্যাপটপের দাম দুই হাজার ডলারের নিচে ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় এনভিডিয়া ‘ডিজিএক্স স্পার্ক’ নামের এআই ডেস্কটপ মেশিনের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ হাজার ৯৫০ ডলার হয়েছে। এর মূল কারণ এর ১২৮ গিগাবাইট মেমোরির চিপের আকাশচুম্বী খরচ।
‘মুর ইনসাইটস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’র বিশ্লেষক অ্যানশেল স্যাগ বলেছেন, মেমোরির উচ্চদাম অ্যাপল ও মাইক্রোসফট উভয় কোম্পানির প্রচেষ্টাকেই বাধাগ্রস্ত করছে।
দুই বছর আগে ‘সফটওয়্যার প্রস্তুত ছিল না, কিন্তু হার্ডওয়্যার ছিল। এখন সফটওয়্যার প্রস্তুত হলেও স্থানীয়ভাবে তা চালানোর জন্য হার্ডওয়্যারের দাম বড্ড বেশি’ বলেও মনে করেন স্যাগ।
“ফলে, পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, কেবল পর্যাপ্ত বাজেট থাকা লোকজনই স্থানীয়ভাবে এআই ব্যবহারের সামর্থ্য রাখছেন।”
