Published : 30 Aug 2026, 10:13 AM
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অ্যাপ তালিকার গভীরে চোখ মেলালে অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স বা এএসআই নামের এক সেবার উপস্থিতি চোখে পড়ে, যা শুনতেই যতটা গুরুগম্ভীর মনে হয়, ঠিক ততটাই অস্পষ্ট এর কাজের পরিধি।
চাইলে ফিচারটি নিষ্ক্রিয় বা ‘ডিসএবল’ করার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে এমনটা ফোনে কোনো সাধারণ অ্যাপ হিসেবে কাজ করে না, বরং ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় যোগ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও স্বয়ংক্রিয় সুবিধা।
গুগলের তৈরি সিস্টেমটি অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমে বিভিন্ন ফিচার সচল রাখতে মূল ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে গুগল পিক্সেলসহ বিভিন্ন আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এ ফিচার গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
মার্কিন সার্চ জায়ান্টটি বলেছে, ফোনের ‘লাইভ ক্যাপশন’, গান শনাক্তের ‘নাও প্লেইং’, চোখ রাখলে স্ক্রিন সচল রাখার ‘স্ক্রিন অ্যাটেনশন’ ও স্বয়ংক্রিয় ‘স্মার্ট অটো-রোটেট’ ফিচারের নেপথ্যে কাজ করে এ সিস্টেম।
এর বাইরে দ্রুত কপি-পেস্ট, মেসেজ ও নোটিফিকেশনে প্রয়োজনীয় শর্টকাট পরামর্শ দেওয়া এবং অ্যাপ অনুসন্ধানের মতো বিভিন্ন কাজও এ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্সের কাজ কী?
নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির বিষয়ে গুগলের ভাষ্য, এএসআই সার্ভিসটি অ্যান্ড্রয়েডের ‘প্রাইভেট কম্পিউট কোর’-এর ভেতরে থেকে পরিচালিত হয়। ফলে এ অন-ডিভাইস মেশিন লার্নিং ফিচারের ইন্টারনেট ব্যবহারে সরাসরি কোনো সংযোগ থাকে না।
কোনো ধরনের আপডেটের প্রয়োজন হলে তা কেবল ‘প্রাইভেট কম্পিউট সার্ভিসেস’-এর নিরাপদ কাঠামোর মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়।
বিবৃতিতে গুগল বলেছে, “স্মার্ট পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য এএসআই বিভিন্ন সিস্টেম পারমিশন ব্যবহার করে থাকে। যার মধ্যে ঘন ঘন যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের নাম ও তথ্য অনুসন্ধানের সুবিধার্থে কনটাক্ট তালিকার এক্সেস নেওয়া হয়।”
তবে, ফোনের লোকেশন বা অবস্থান সংক্রান্ত তথ্যের এক্সেস এএসআই কেন চায়, সে বিষয়ে টেক জায়ান্টটির অফিশিয়াল সাপোর্ট পেইজে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।
তথ্য সুরক্ষায় উদ্বেগের বিষয়ে গুগল বলেছে, এএসআই ও গুগলের আপডেটেড অন-ডিভাইস এআই মডেল জেমিনাই, যা ‘এআইকোর’ সিস্টেমে কাজ করে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা সার্ভিস।
ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন সেটিংস-এর ‘অ্যাপস’ অপশনে গিয়ে চাইলে সিস্টেমটি বন্ধ করে দিতে পারেন। তবে এএসআই নিষ্ক্রিয় করলে অ্যান্ড্রয়েডের অনেক সুবিধাজনক স্মার্ট ফিচার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
অ্যাপ তালিকা থেকে অন্য দশটি সাধারণ অ্যাপের মতো এ সিস্টেমকে সরাসরি আনইনস্টল করার সুযোগ না থাকলেও নির্দিষ্ট ফিচারের পারমিশন সীমিত রাখার সুবিধা রয়েছে অ্যান্ড্রয়েডে।
অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স বন্ধ করলে কী হবে?
অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স বা এএসআই বন্ধ করে দিলে ব্যহারকারীর স্মার্টফোনটি হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দেবে না। তবে সিস্টেমটি নিষ্ক্রিয় করলে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা বেশ কিছু কার্যকর ও স্মার্ট ফিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
প্রযুক্তি সাইট অ্যান্ড্রয়েড অথরিটির এক প্রতিবেদন বলছে, এএসআই সার্ভিসটি বন্ধ করে দেওয়ার পরও ফোনের মৌলিক ও জরুরি ফিচারগুলো স্বাভাবিকভাবেই সচল থাকে। তবে এটি বন্ধ করলে পিক্সেলসহ অন্যান্য ফোনে থাকা ‘নাও প্লেইং’ বা ‘লাইভ ক্যাপশন’-এর মতো ফিচারগুলো আর কাজ করে না।
এ সেবাটি বন্ধ রাখলে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেনি গুগল।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ফিচারটি নিষ্ক্রিয় করলে ঠিক কোন কোন ফিচার বন্ধ হবে তারও কোনো সর্বজনীন তালিকা দেয়নি প্রযুক্তি কোম্পানিটি।
গুগল কেবল বলেছে, “এএসআই বন্ধ করা ফোনের জন্য কোনো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে না।”
তবে, বিষয়টাকে মূল সুইচ বন্ধ রাখার সঙ্গে তুলনা করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সিস্টেমটি বন্ধের মাধ্যমে না দেখেই এর নিয়ন্ত্রণকক্ষের সব সংযোগ একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরো সার্ভিসটি বন্ধ না করে নির্দিষ্ট কোনো ফিচার বা পারমিশন বাধা দেওয়া আরও নিরাপদ সমাধান হতে পারে।
এ দিকে, গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম ইন্টেলিজেন্স যদি বারবার ত্রুটি দেখায় বা বন্ধ হয়ে যায় তবে তা চিরতরে নিষ্ক্রিয় না করে গুগল কিছু সাধারণ সমাধান অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে। যেমন, ফোন রিস্টার্ট করা, নতুন করে আপডেট করা, অ্যাপটি ‘ফোর্স স্টপ’ করা ও ক্যাশ তথ্য মুছে ফেলা।
গুগল প্লে স্টোরের তথ্য অনুসারে, বিশ্বজুড়ে এএসআই সেবার ডাউনলোড সংখ্যা এরইমধ্যে ৫০০ কোটি ছাড়িয়েছে।