Published : 04 Sep 2024, 11:42 PM
৯০’র দশকে নাসা একটি পরীক্ষামূলক স্পেস প্লেন নকশা করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল, দামি রকেটের সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে ওঠা। বাতিল হয়ে যাওয়া ওই প্রকল্পটিকে ভিত্তি ধরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে একটি কোম্পানি।
‘এক্স-৩৩’ নামে ডাকা এ প্লেনটি নকশা হয়েছিল ‘এসএসটিও (সিংগল স্টেজ টু অরবিট)’ নামে পরিচিত ধারণার ভিত্তিতে। প্রচলিত স্পেস ফ্লাইটের মতোই রকেটের বিভিন্ন স্তর আলাদা হতে থাকে এ ধারণায়, যেখানে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট বেছে নেওয়ার পরিবর্তে রকেটের ওজন কমাতে এর ইঞ্জিন ও জ্বালানী ফেলে দেওয়া হয়।
এক্স-৩৩’র নকশা এমনভাবে করা হয়েছিল যাতে এটি একটি রকেটের মতোই উলম্বভাবে উৎক্ষেপণ করা যায়। এর লক্ষ্য ছিল, মহাকাশ কক্ষপথে প্রতি পাউন্ড পেলোড বহনের খরচ ১০ হাজার ডলার থেকে মাত্র এক হাজার ডলারে কমিয়ে আনা।
তবে, কারিগরি ত্রুটির কারণে ২০০১ সালে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। পাশাপাশি, আরও বেশ কিছু একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে নাসা।
“আমি এক্স-৩৩ প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একেবারে দ্বারপ্রান্তে থাকার পরও আমরা এর থেকে সরে আসি। কারণ হচ্ছে, আমরা যে খরচ ধরে বাজি ধরেছিলাম, এর সম্ভাব্য খরচ তার চেয়েও বেড়ে যাচ্ছিল। যাওয়ার বিষয়টি।”- বলেন এক্স-৩৩’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও ‘ইউএসএএফ’র সাবেক নভোচারী লিভিংস্টোন হোল্ডার।
তবে, ২০১৬ সালে সিয়াটলভিত্তিক কোম্পানি ‘রেডিয়ান অ্যারোস্পেস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসাবে এসএসটিও’র স্বপ্নটি নতুন করে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি।
“এক্স-৩৩’র পর থেকে প্রেক্ষাপট নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। আমাদের কাছে বিভিন্ন এমন শংকর উপাদান আছে, যেগুলো ওজনে হালকা, টেকসই হওয়ার পাশাপাশি এদের তাপ সহ্যসীমা আগের তুলনায় অনেক বেশি। আর কতোটা দক্ষ উপায়ে জ্বালানী ব্যবহার করা যায় ও এ সিস্টেমের ভর কেমন হওয়া উচিৎ, সে প্রশ্নগুলো বিবেচনায় নিলে এর প্রপালশন ব্যবস্থাও আগের চেয়ে ভাল।”
এর রেন্ডারিংয়ে দেখা গেছে, নাসা’র এক্স-৩৩ আসলে একটি পরীক্ষামূলক পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান ছিল, যার লক্ষ্য ছিল এসএসটিও’র সম্ভাবনা যাচাই করে দেখা। পরিকল্পনাটি পরে বাতিল হয়ে যায়।
সেই লক্ষ্যে, ‘রেডিয়ান ওয়ান’ নামের নতুন স্পেস প্লেন বানিয়েছে কোম্পানিটি, যা খুবই অস্বাভাবিক একটি সিস্টেম। আর এটি জায়গা নেবে রকেটের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উলম্ব লঞ্চপ্যাডের।
অপচয়মূলক পর্যায়
এমআইটি’র অ্যারোনটিক্স ও অ্যাস্ট্রনটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ও নাসার পাঁচটি স্পেস শাটল মিশনে অংশ নেওয়া জেফ্রি হফম্যান বলছেন, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ঠেলে কক্ষপথে পৌঁছাতে হলে সাধারণত একটি রকেটকে ঘণ্টায় ২৮ হাজার একশ কিলোমিটারের বেশি গতি অর্জন করতে হয়।
“সমস্যাটা হল, আপনি ওপরের দিকে যাচ্ছেন। আর আপনার কাছে উৎক্ষেপণ করার মতো রকেট ও পেলোড নেই। আর আপনাকে নিজের বহন করা সকল জ্বালানীও সঙ্গে নিতে হবে,” বলেন তিনি।
হফম্যান আরও যোগ করেন, ওই গতিতে পৌঁছাতে গিয়ে একটি রকেট যে ভর নিয়ে ওঠে, তার ৯৫ শতাংশই খরচ হয়ে যায় জ্বালানিতে।
“মাত্র একটি ধাপ পেরিয়ে কক্ষপথে পৌঁছাতে যারা আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। কিন্তু এর জন্য রকেটের কাঠামো, ইঞ্জিন ও পেলোড গোটা সিস্টেমের ভরের পাঁচ শতাংশের বেশি হতে পারে না। আর এমন কাঠামো কীভাবে তৈরি করতে হয়, তা আমরা জানি না।”
এজন্যই মহাকাশ কক্ষপথে পৌঁছাতে এখন পর্যন্ত ব্যবহার করা সকল রকেটেই একাধিক পর্যায় ছিল। তবে, স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন ৯-এর মতো আধুনিক বিভিন্ন রকেটে মাত্র দুটি পর্যায় থাকে, যেখানে অ্যাপলো মিশনের স্যাটার্ন ৫-এর মতো পুরোনো রকেটে ছিল তিনটি।
“আপনি যদি প্রথম ধাপেই সকল প্রপেলান্ট ব্যবহার করে ফেলেন, তখন আপনাকে কেবল এ অংশটি ফেলে দিতে হবে এবং গোটা কাঠামো নিয়ে বাকি অংশটায় যেতে হবে না। এর ফলে, আপনি লঞ্চ প্যাড থেকে আরও বেশি পেলোড বহনের সুযোগ পাবেন,” ব্যাখ্যা করছেন হফম্যান।