Published : 03 Sep 2026, 06:42 PM
মঙ্গল গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মহাকাশ কোম্পানি ব্লু অরিজিন’কে বড় চুক্তি দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
৭০ কোটি ডলারের এ চুক্তির আওতায় আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে লাল গ্রহটির জন্য উচ্চসক্ষমতাওয়ালা নতুন টেলিযোগযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে বেজোসের মালিকানাধীন কোম্পানিটি।
বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় নাসা বলেছে, সম্ভাব্য ৭০ কোটি ডলারের এ চুক্তির আওতায় আগামী ২০২৮ সাল শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলের জন্য বিশেষ এক টেলিযোগযোগ অরবিটার তৈরি করবে ব্লু অরিজিন।
কার্যকর হওয়ার পর অরবিটারটি মঙ্গলে অবস্থানরত বিভিন্ন মহাকাশযানের তথ্য আদান-প্রদানের মূল মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বরে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
অরবিটারটির কাজ হবে ‘মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে ও এর আশপাশের কক্ষপথে পরিচালিত বিভিন্ন মহাকাশযানের বৈজ্ঞানিক তথ্য, ছবি, ন্যাভিগেশন সংক্রান্ত বার্তা ও মিশনের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সংযোগ রক্ষা করা’।
এ টেলিযোগযোগ ব্যবস্থা এমন এক সময়ে গড়ে তোলা হচ্ছে যখন বহুল আলোচিত ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে মানুষের উপস্থিতিকে জোরদার করছে নাসা।
প্রাথমিক কাজগুলোর অগ্রগতি কিছুটা ধীরগতির হলেও বছরের শুরুতে সফল এক মানববাহী মিশনের মাধ্যমে বড় অর্জন পেয়েছে মহাকাশ সংস্থাটি। চাঁদে পরিচালনার এসব দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা সাজাচ্ছে তারা।
সেই লক্ষ্য পূরণে ভবিষ্যতে নাসার বিপুল পরিমাণ তথ্যের প্রয়োজন হবে। ফলে লাল গ্রহ থেকে আমাদের নীল গ্রহে নিরবচ্ছিন্ন তথ্য আনা-নেওয়ার জন্য স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য এক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরিকে ‘অপরিহার্য’ হিসেবে দেখছে নাসা।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ব্লু অরিজিনের জন্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে, বছরের শুরুতে চাঁদে নামার জন্য লুনার ল্যান্ডার তৈরির বড় চুক্তি করেছিল কোম্পানিটি।
এ বছরের মে মাসে এক দুর্ঘটনাবশত বড়সড় ধাক্কা খায় কোম্পানিটির ‘নিউ গ্লেন’ রকেট কর্মসূচি। ওই সময় ব্লু অরিজিনের একটি লঞ্চপ্যাডে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী দাবি বলেছিলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই ওই লঞ্চপ্যাডের মেরামত কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেছিলেন, ২০২৮ সালের আগে লঞ্চপ্যাডটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা কম।