Published : 23 Mar 2026, 01:20 PM
নতুন ওয়াশিং মেশিন কেনার সময় অনেকেই ভাবেন এটি কতদিন টিকবে। সাধারণত একটি মেশিন ১০ বছর চলার কথা থাকলেও ব্যবহার ও যত্নের ওপর নির্ভর করে এর আয়ু কম-বেশি হতে পারে।
২০২৪ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু ব্র্যান্ডের মেশিন অন্যগুলোর তুলনায় দ্রুত নষ্ট হয় ও সারানোর চেয়ে নতুন কেনাই অনেক সময় সাশ্রয়ী। ওয়াশিং মেশিন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ও এর আয়ু সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে নিচের তথ্যগুলো জেনে নেওয়া যাক–
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট স্ল্যাশগিয়ার প্রতিবেদনে লিখেছে, নতুন কোনো গৃহস্থালি যন্ত্র কেনার সময় অনেক কিছু ভাবার থাকে। কম দামি মডেলে শুরুতে হয়ত কিছুটা ছাড় পাওয়া যায়। তবে তাতে পছন্দমতো আধুনিক সুবিধা বা বেশিদিন না-ও টিকতে পারে। যন্ত্র সারানোর খরচ অনেক সময় এত বেশি হয়ে যায় যে, নতুন কেনাই লাভজনক। ফলে নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী মডেলকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
একটি ওয়াশিং মেশিন বিশেষ করে কতদিন টিকবে তা অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ব্যবহারের ধরন, মেশিনের মডেল ও এর যত্ন কেমন নিচ্ছেন এসবই বড় প্রভাব ফেলে।
তবে একটি ওয়াশিং মেশিন গড়ে কতদিন চলতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার উপায় রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ার ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘চয়েস’ দুটি ভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
২০২৩ সালে ‘চয়েস’ তাদের জরিপে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের মতামত নিয়েছে এবং ২০১৮ সালে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘কনজিউমার এনজেড’ বিভিন্ন প্রস্তুতকারক কোম্পানির ওপর সমীক্ষা চালায়।
এ তথ্যের ভিত্তিতে তারা প্রতিটি যন্ত্রের ধরন আলাদাভাবে বিবেচনা করে বলেছে, যন্ত্রের ধরন বোঝা জরুরি, কারণ টিভির চেয়ে ওয়াশিং মেশিনের মতো যন্ত্রগুলোর ওপর অনেক বেশি চাপ পড়ে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা মত দিয়েছে, একটি ওয়াশিং মেশিন গড়ে দশ বছর পর্যন্ত টিকতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যন্ত্রের স্থায়িত্ব বা আয়ু একেকজনের হাতে একেক রকম হতে পারে। যেমন, কোনো সমস্যা দেখা দিলে কেউ হয়ত নিজেই তা সারানোর সক্ষমতা রাখেন বা পেশাদার কারো ওপর নির্ভর করেন। তবে কিছু উপায়ের মাধ্যমে এসব সাধারণ তথ্যকে নিজের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
একটি মেশিন গড়ে কতদিন চলে?
বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ একটি সাধারণ নিয়মের কথা বলেন, নতুন ওয়াশিং মেশিন কেনার পর সাধারণত এটি ১০ বছর পর্যন্ত চলবে বলে আশা কররা যেতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি, যে কোনো যন্ত্রই ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে।
পাশাপাশি, ওয়াশিং মেশিনের ধরনভেদেও এর স্থায়িত্বের পার্থক্য হয়। যেমন মেশিনটি ফ্রন্ট-লোডিং নাকি টপ-লোডিং এর ওপর এর আয়ু নির্ভর করে। ওয়াশিং মেশিন কখন নষ্ট হতে শুরু করে সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
‘চয়েস’ ২০২৩ সালের এক জরিপের মাধ্যমে নির্ধারণের চেষ্টা করেছে, কোন ব্র্যান্ডের মডেল বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই সবচেয়ে বেশিদিন টেকে। সাতটি ব্র্যান্ডের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা বলেছে, ‘ইলেকট্রোলাক্স’ ব্র্যান্ডের মেশিনগুলোতে গড়ে ৬.৩ বছরের মধ্যেই বড় কোনো ত্রুটি দেখা দেয়, যা তালিকায় সবচেয়ে দ্রুত।
অন্যদিকে, ‘মিল’ ব্র্যান্ডের মেশিনগুলো সবচেয়ে বেশি সময় অর্থাৎ ৯.৪ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। এসব মিলিয়ে দেখা যায়, ওয়াশিং মেশিনে বড় কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার গড় সময় হচ্ছে ৭.৭ বছর।
ম্যাগাজিনটি আরও বলেছে, এসব সমস্যা দেখা দেওয়ার মানে এই নয় যে যন্ত্রটির আয়ু শেষ হয়ে গেছে। এগুলোর বেশিরভাগই সারানো যায়। তবে সারানোর জন্য খরচটিও বিবেচনায় নিতে হবে। মানে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর মেশিন সারানোর চেয়ে নতুন কেনাই বেশি সাশ্রয়ী।
প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্রন্ট-লোডিং মেশিনের ক্ষেত্রে এই সময়কাল ৭ থেকে ৮.৫ বছর এবং টপ-লোডার মেশিনের ক্ষেত্রে প্রায় ৭ থেকে ৭.৭ বছর।
যেভাবে ওয়াশিং মেশিনের আয়ু বাড়াবেন
যে কোনো যন্ত্র তখনই সবচেয়ে ভালো ও দীর্ঘসময় পরিষেবা দেয় যখন এর সঠিক যত্ন মেলে। ডিটারজেন্ট ড্রয়ার পরিষ্কার করা বা মেশিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণের মতো ছোটখাটো কাজ মানুষেরা অনেক সময় অবহেলা করেন, যা মেশিনের স্থায়িত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিষয়টি ঠিক যে, যন্ত্র নষ্ট হতেই পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিলে সেগুলোকে দীর্ঘসময় সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, প্রতিটি ওয়াশিং মেশিনেরই নির্দিষ্ট ধারণসক্ষমতা থাকে। মেশিনে অতিরিক্ত কাপড় দিলে এটিকে অনেক বেশি চাপ দিয়ে কাজ করতে হয়, যা এর ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলোর ওপর অত্যাচারের মতো।
এ কারণেই একেকটি মেশিনের স্থায়িত্ব একেক রকম হয়। কিছু মেশিন ব্যবহারকারীর কোনো ভুল ছাড়াই নষ্ট হতে পারে। তবে মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের ধরনই ঠিক করে দেয় মেশিনটি কতদিন টিকবে।