Published : 27 Sep 2025, 06:36 PM
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ একটি বিতর্কিত আইন বাতিল না করলে ইউরোপে কিছু পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছে আইফোন নির্মাতা মার্কিন কোম্পানি অ্যাপল।
অনেক দিন ধরেই ইউরোপের ‘ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট’ নামের এক আইনের বিরোধিতা করে আসছে অ্যাপল। আইনটি বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির ক্ষমতা সীমিত করতে ও বাজার প্রতিযোগিতা সুরক্ষিত রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চালু করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
এ আইনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের মতো বড় প্রযুক্তি বিভিন্ন কোম্পানিকে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো খুলে দিতে হবে, যেন প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন ছোট কোম্পানিও বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পায়।
এখন অ্যাপল বলছে, এ আইনের বিধিনিষেধের কারণে ইউরোপের নাগরিকরা এরইমধ্যে কিছু ফিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বা সময়মতো সেগুলো হাতে পাচ্ছেন না এবং ভবিষ্যতে এর মানে হতে পারে, কিছু পণ্য ইউরোপে নাও যেতে পারে।
অ্যাপলের এ মন্তব্য এমন সময়ে এল যখন প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট’ আইনের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করছে ইউরোপীয় কমিশন। এ পর্যালোচনার লক্ষ্য, এ আইন কতটা সফলভাবে কাজ করছে ও ভবিষ্যতের নতুন প্রযুক্তি, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত তা মূল্যায়ন করা।
এ মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে মতামত চেয়েছিল কমিশন, যার সময়সীমা ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি বলেছে, ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট-এর কারণে ইউরোপীয় ব্যবহারকারীরা নতুন ফিচার দেরিতে পাচ্ছেন এবং এখন তারা আরও বেশি প্রাইভেসি ও নিরাপত্তার ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
কমিশনের প্রতি অ্যাপল অনুরোধ জানিয়েছে, যেন এ আইনটি ইউরোপের গ্রাহকদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে যারা অ্যাপলের পণ্য ব্যবহার করেন তা পুনর্বিবেচনা করে দেখে সংস্থাটি।
অ্যাপল আরও বলেছে, আইন মেনে চলার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ফিচার দেওয়ার কাজও চালিয়ে যাবে তারা।
বুধবার কমিশনের এক মুখপাত্র বলেছেন, “অ্যাপলের মতো গেটকিপারদের অবশ্যই থার্ড পার্টির বিভিন্ন ডিভাইস নিজেদের অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট অনুযায়ী এই নিয়ম মানা কোনো বিকল্প বা অপশন নয়, বরং তা বাধ্যতামূলক।
অ্যাপল বলেছে, এ আইনের কারণে তাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে কয়েকটি নতুন ফিচারের মুক্তি পিছিয়ে দিতে হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আইফোন থেকে ম্যাক-এ স্ক্রিন শেয়ার করা বা মিররিং এবং এয়ারপডস-এর মাধ্যমে সরাসরি অনুবাদ বা লাইভ ট্রান্সলেশনের মতো ফিচার।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোটি কোটি ডিভাইস ও পরিষেবা বিক্রি করে অ্যাপল। কোম্পানিটি বলেছে, ম্যাপস-এর লোকেশনভিত্তিক কিছু ফিচার ইউরোপে চালু পিছিয়ে দিয়েছে তারা। কারণ, ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট অনুযায়ী তাদের এসব ফিচার এমনভাবে তৈরি করতে হচ্ছে, যাতে তা অ্যাপলের বাইরে অন্যান্য ডিভাইস বা থার্ড পার্টির ডেভেলপারদের সঙ্গেও কাজ করতে পারে।
অ্যাপল বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাহিদা মেটানোর এমন কোনো উপায় তারা এখনও খুঁজে পায়নি, যা ব্যবহারকারীর ডেটার সুরক্ষা ঝুঁকিতে ফেলবে না। পাশাপাশি তাদের প্রস্তাবিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাতিলও করেছে কমিশন।
“বিষয়টি স্পষ্ট যে, আমরা ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট আইন থেকে তৈরি সকল সমস্যার সমাধান করতে পারছি না। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়েছে, আইনটি বাজারকে সাহায্য করছে না, বরং ইউরোপে ব্যবসা করাকে আরও কঠিন করে তুলছে।”
এর আগে, জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিজেদের অ্যান্টিট্রাস্ট আদেশ মেনে চলার জন্য অ্যাপ স্টোরের নিয়ম ও ফি পরিবর্তন করেছিল অ্যাপল।
আইনটি গত বছর কার্যকর হয়েছে, যেখানে বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি যেন তাদের সিস্টেম বা অ্যাপে ছোটদের প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করে দেয় সেই নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেছে কমিশন।
এদিকে, ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট আইনের নিয়মিত সমালোচনা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে কঠোরভাবে ট্রাম্পের এ মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছে কমিশন।