স্পাইওয়্যার তৈরি করেছে অস্ট্রীয় সফটওয়্যার নির্মাতা: মাইক্রোসফট

স্পাইওয়্যার তৈরির কথা স্বীকার না করলেও কাজের ক্ষেত্র হিসেবে ‘বিজনেস ইনটেলিজেন্স’-এর উল্লেখ রয়েছে নির্মাতার সাইটে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 July 2022, 10:29 AM
Updated : 31 July 2022, 10:35 AM

অস্ট্রিয়ার এক কোম্পানির বিরুদ্ধে হ্যাকিং টুল নির্মাণের অভিযোগ তুলেছে মাইক্রোসফট। অন্তত তিনটি দেশের সেবাগ্রাহকদের কম্পিউটারে কোম্পানিটির তৈরি স্পাইওয়্যার পাওয়ার কথা জানিয়েছে এই সফটওয়্যার জায়ান্ট।

কিন্তু অস্ট্রিয়ার কোম্পানি ‘ডিএসআইআরএফ’ দাবি করছে, কেবল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্যই ‘সাবজিরো’ নামের ওই সফটওয়্যার বানিয়েছিল তারা।

সাবজিরো স্পাইওয়্যারের পাসওয়ার্ড এবং ‘লগ-ইন ক্রেডিনশিয়াল’-এর মতো স্পর্শকাতর ডেটা চুরি করার সক্ষমতা আছে বলে মাইক্রোসফট বুধবারেই অভিযোগ তুলেছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ব্যাংক, আইনি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আছে বলে উল্লেখ করলেও তাদের নাম বা সংখ্যা জানায়নি কোম্পানিটি।

মাইক্রোসফটের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ডিএসআইআরএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, “সাবজিরো অস্ট্রিয়ান ডিএসআইআরএফ-এর একটি সফটওয়্যার, যা কেবল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্মিত হয়েছিল। এটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রচার বা বিক্রি করা হয় নয়।”

স্পাইওয়্যার তৈরির কথা স্বীকার না করলেও কাজের ক্ষেত্র হিসেবে ‘বিজনেস ইনটেলিজেন্স’-এর উল্লেখ রয়েছে নির্মাতার সাইটে।

এ প্রসঙ্গে রয়টার্সের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মাইক্রোসফট।

বৃহস্পতিবারের এক ব্লগ পোস্টে মাইক্রোসফট বলে, ডিএসআইআরএফ চারটি ‘জিরো-ডে এক্সপ্লয়েট’ তৈরি করেছিল; হ্যাকার এবং স্পাইয়ের জন্য এ ধরনের দুর্বলতা খুবই কার্যকরী কারণ সফটওয়্যার আপডেট করা থাকলেও ওই দুর্বলতাগুলো থেকে যায়।

অন্যদিকে, ‘সাবজিরো’র প্রচারে ডিএসআইআরএফের নিজস্ব একটি উপস্থাপনা ২০২১ সালে প্রকাশ করেছিল এক জার্মান দৈনিক। ওই উপস্থাপনায় বাণিজ্যিক ক্রেতা হিসেবে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছিল ডিএসআইআরএফ।

উল্লেখিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ‘সিগনা রিটেইল’ এবং ডেনটনস’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছে রয়টার্স। সাবজিরো ব্যবহারে বিষয়টি অস্বীকার করে গেছে উভয় কোম্পানি। জার্মানের দৈনিকের ওই প্রতিবেদনে অনুমতি ছাড়াই তাদের নাম ব্যবহারের দাবি করেছে উভয় প্রতিষ্ঠান।

দুই কোম্পানির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রয়টার্স ডিএসআইআরএফের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হয়নি অস্ট্রিয়ান এই স্পাইওয়্যার নির্মাতা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক