১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গতি ৮০০ কিমি তুলতে কেবল ৫ সেকেন্ড লাগে এই চীনা ট্রেনের

২০২৫ সালের জুনে ট্রেনটিকে নিয়ে প্রথম পরীক্ষা চালানো হয়। ওই সময় কেবল সাত সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল এই ট্রেন।

গতি ৮০০ কিমি তুলতে কেবল ৫ সেকেন্ড লাগে এই চীনা ট্রেনের
স্বল্প দূরত্বের ম্যাগলেভ গতি অর্জনের ক্ষেত্রে গত ছয় মাসের মধ্যে একই ট্রেন তৃতীয়বারের মতো বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছে। ছবি: ম্যাগনিফিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 01:06 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

কেবল পাঁচ দশমিক তিন সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি নিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে চীনের পরীক্ষামূলক এক ম্যাগলেভ ট্রেন।

চীনের হুবেই প্রদেশের টেস্ট-ট্র্যাকে চালানো এই সফল পরীক্ষার ফলে ভবিষ্যতে অতি-উচ্চ গতির গণপরিবহন ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

পরীক্ষামূলকভাবে চালানো চীনের এই ম্যাগলেভ বা চৌম্বকচালিত ট্রেন গতি অর্জনের ক্ষেত্রে নিজের গড়া বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন নজির গড়েছে।

হুবেই প্রদেশের দংহু ল্যাবরেটরিতে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি টেস্ট-ট্র্যাকে চালানো এ পরীক্ষা চলাকালে ১.১ টন ওজনের ভারী ম্যাগলেভ ট্রেনটি স্থির অবস্থা থেকে কেবল পাঁচ দশমিক তিন সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে যায়।

ম্যাগলেভ ট্র্যাকিং সিস্টেমে চৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে পুরো ট্রেনটিকে রেলপথের সামান্য ওপরে শূন্যে ভাসিয়ে রাখা হয়। ফলে ট্রেনের চাকা ও রেললাইনের মধ্যকার ঘর্ষণ পুরোপুরি দূর হয়।

অন্যদিকে, ট্র্যাকে থাকা কয়েল থেকে তৈরি চৌম্বকীয় তরঙ্গ গাড়িটিকে সামনের দিকে চালিত করে।

চীনা গবেষকরা বলছেন, ট্রেনটি কেবল চরম গতিই পায়নি, বরং শক্তিশালী ব্রেকিং সিস্টেমের সাহায্যে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে থামতেও পেরেছে। ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে ছোটার পর কেবল ২০০ মিটারের মধ্যে মসৃণভাবে ট্রেনটি থেমে যায়।

স্বল্প দূরত্বের ম্যাগলেভ ত্বরণের ক্ষেত্রে গত ছয় মাসের মধ্যে ট্রেনটি একাই তৃতীয়বারের মতো বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছে।

২০২৫ সালের জুনে এই ১ দশমিক ১ টনের ট্রেনটি প্রথম পরীক্ষা করা হয়। ওই সময় কেবল সাত সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল ট্রেনটি।

পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে যথাক্রমে ঘণ্টায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার ও ৭৯৮ কিলোমিটার গতির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙে চলেছে এই ট্রেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদামাধ্যম সিসিটিভি’র প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিটি পরীক্ষা চালনার মাধ্যমে গবেষকরা উচ্চ-সক্ষমতার শক্তি সরবরাহ, বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় প্রপালশন, উচ্চ-গতির লেভিটেশন বা শূন্যে ভেসে থাকার নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি ব্রেকিং ব্যবস্থার মতো বেশ কয়েকটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সীমা পরীক্ষা করে দেখেছেন।

বর্তমানে চীন ও জাপানে নিয়মিত চলাচলকারী সাধারণ বিভিন্ন ম্যাগলেভ ট্রেনের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। তবে বাণিজ্যিকভাবে চালু থাকা বিশ্বের দ্রুততম ট্রেন চীনের ‘ফুশিং’ রেল সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে।

‘চায়না ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজি’র গবেষকরাও অতি-উচ্চ গতির ম্যাগলেভ ট্রেন তৈরির জন্য কাজ করছেন।

সম্প্রতি তাদের এক পরীক্ষায় কেবল দুই সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছানোর রেকর্ড তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিটি বর্তমান অবস্থায় মানুষ বা যাত্রী পরিবহনের উপযোগী নয়।

গবেষকরা বলছেন, এই মূল বৈজ্ঞানিক নীতিগুলো ব্যবহার করে ভবিষ্যতে মহাকাশ রকেট উৎক্ষেপণ ও যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করা সম্ভব হবে।

পাশাপাশি চীনা বিজ্ঞানীরা নিম্ন-চাপ বা ভ্যাকুয়াম টিউবের ভেতর দিয়ে চলাচলের উপযোগী অতি-উচ্চ গতির ম্যাগলেভ প্রযুক্তি বিকাশেও কাজ করছেন।

বাণিজ্যিক বা বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তিকে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। যার মধ্যে বিপুল অবকাঠামোগত ব্যয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘ দূরত্ব জুড়ে একদম নির্ভুল ও সমান্তরাল ট্র্যাক বা রেলপথ নির্মাণ করা প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।