Published : 05 Oct 2025, 04:20 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলগুলোকে আরও উন্নত করতে যে বিশাল পরিমাণ তথ্য দিয়ে শেখানো হয় সেই নতুন ও মানসম্মত তথ্য প্রায় ফুরিয়ে গিয়েছে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষ এক ব্যাংকের ডেটা প্রধান।
শীর্ষ মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যাস-স্যাকস-এর প্রধান ডেটা কর্মকর্তা ও ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান নীমা রাফায়েল বলেছেন, বর্তমানে প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন ডেটার সংকটে পড়েছে ওপেনএআইয়ের তৈরি চ্যাটজিপিটি ও মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলের ‘জেমিনাই’য়ের মতো বিভিন্ন এআই মডেল।
ব্যাংকটির ‘এক্সচেঞ্জ’ পডকাস্টে রাফায়েল বলেছেন, এ সমস্যা এআইয়ের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
“এরইমধ্যে ডেটার ঘাটতিতে পড়েছি আমরা।”
রাফায়েল আরও বলেছেন, এখন বিভিন্ন এআই মডেল এমন সিন্থেটিক বা কৃত্রিমভাবে তৈরি ডেটার ওপর নির্ভর করছে, যেগুলো মানুষ নয়, বরং এআই নিজেই তৈরি করেছে।
“আমার ধারণা, ভবিষ্যতে বিভিন্ন এআই মডেল যদি কেবল নিজের তৈরি করা বা সিন্থেটিক ডেটা দিয়েই প্রশিক্ষিত হয় তবে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা বা চিন্তাভাবনা থেকে পাওয়া আসল তথ্য তাতে কতটা থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এতে সৃজনশীলতাও থেমে যেতে পারে। কারণ সবকিছু তখন একই ঘরানার বা ‘এআইয়ের তৈরি’ হবে, যা গভীর চিন্তার বিষয়।”
এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টি এবারই প্রথম নয়। এর আগেও এ সমস্যাটি নিয়ে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা, যা ‘পিক ডেটা’ নামে পরিচিত। এ ধারণা অনুযায়ী, এরইমধ্যে ইন্টারনেটে থাকা বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রায় পুরোপুরি ব্যবহার করে ফেলেছে বিভিন্ন এআই মডেল।
ডিসেম্বরে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় অনুমান করা হয়েছিল, ২০২৮ সালের মধ্যেই এআইকে প্রশিক্ষণের জন্য ‘ডেটা সংকটের এক মুহূর্ত’ আসবে।
ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, “ইন্টারনেট মানব জ্ঞানের এক বিশাল সমুদ্র হলেও তা অসীম নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষকরা প্রায় সবটুকুই শুষে নিয়েছে।”
গত বছর ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া সুটস্কেভার বলেছিলেন, প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটার অভাব হলে এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন ‘নিঃসন্দেহে শেষ হয়ে যাবে’।
সুটস্কেভারর মতে, এমন পরিস্থিতি অনেকটা জ্বালানি তেলের মতো, যেমন তেল বা কয়লা সীমিত সম্পদ, তেমনি মানুষের তৈরি করা কনটেন্ট বা জ্ঞানও সীমিত।
“আমরা এখন ‘পিক ডেটা’ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি, অর্থাৎ এআই প্রশিক্ষণের জন্য ইন্টারনেটে যে পরিমাণ তথ্য ছিল এর প্রায় সবই ব্যবহার হয়ে গিয়েছে। এখন নতুন করে আর তেমন কিছু যোগ হচ্ছে না, ফলে আমাদের যা ডেটা আছে তা দিয়েই কাজ চালাতে হবে। ইন্টারনেট কেবল একটাই, এর বাইরে নতুন বড় উৎস নেই।”
নতুন ডেটার অভাব বিভিন্ন এআই কোম্পানিকে বাধ্য করতে পারে তাদের বর্তমান প্রশিক্ষণ পদ্ধতি থেকে সরে আসতে এবং চ্যাটজিপিটির মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের বদলে ‘এজেন্টিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজেন্টিক এআই তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে।
এরইমধ্যে বিভিন্ন ধরনের এআই এজেন্ট তৈরি করছে বেশিরভাগ বড় এআই কোম্পানি।
এআই এজেন্ট এমন এক স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম, যা মানুষের মতো নিজে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, বিভিন্ন অনলাইন কাজ যেমন ইমেল পাঠানো, ডকুমেন্ট তৈরি, গবেষণা বা অনলাইন অর্ডারের মতো কাজ নিজেরাই করতে পারে এবং মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তা করতে পারে এরা।