ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে হাগিং ফেইস হ্যাকিং নিয়ে মামলা
কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেভেলপার কোম্পানিকে এই প্রথম কোনো অনিয়ন্ত্রিত সিস্টেমের জন্য আইনি দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অনিয়ন্ত্রিত এআই এজেন্টের মাধ্যমে গেল জুলাইয়ে হাগিং ফেইসের ওপর সাইবার হামলার ঘটনায় অলাভজনক এক সংগঠনের পক্ষ থেকে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ‘লিগাল অ্যাডভোকেটস ফর সেইফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ বা এলএএসএসটি নামের অলাভজনক সংগঠনটি স্যান ফ্রান্সিসকো সুপিরিয়র কোর্টে এই মামলা করে।
কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেভেলপার কোম্পানিকে এই প্রথম কোনো অনিয়ন্ত্রিত সিস্টেমের জন্য আইনি দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আরেমিকান সংবাদমধ্যম সিএনবিসি।
ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট তাদের পরীক্ষামূলক পরিবেশ বা টেস্টিং এনভায়রনমেন্ট থেকে বেরিয়ে হাগিং ফেইসের ওপর সাইবার হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনা ছিল এআই মডেলের নিজে থেকেই ভিন্ন কোনো কোম্পানিতে হ্যাকিং ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করার প্রথম জানা ঘটনাগুলোর একটি।
পরবর্তীতে অন্যান্য এআই মডেল নির্মাতা কোম্পানিও তাদের অনিয়ন্ত্রিত এআই এজেন্টদের কারণে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সাইবার ঘটনার কথা প্রকাশ করেছে।
এ মামলায় ওপেনএআইয়ের বিভিন্ন সিস্টেমকে বিনা অনুমতিতে কোনো কম্পিউটারে প্রবেশ করা থেকে দূরে রাখতে এক নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানিয়েছে এলএএসএসটি।
অলাভজনক সংগঠনটির অভিযোগ, ওপেনএআই ক্যালিফোর্নিয়ার ‘কমপ্রিহেনসিভ কম্পিউটার ডেটা অ্যাকসেস অ্যান্ড ফ্রড অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করেছে।
“ওপেনএআই তাদের এআই এজেন্টদের আচরণের জন্য সম্পূর্ণ দায়ী।”
অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “হাগিং ফেইসের ঘটনাটি গুরুতর বিষয় ছিল এবং এর জবাবে আমরা একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে এই মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে সিএনবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি হাগিং ফেইস ও এলএএসএসটি।
এআইয়ের সাইবার হামলার ঘটনা
হাগিং ফেইসের ওপর সাইবার হামলার ঘটনার পর এআই মডেলের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক ও নিবিড় পর্যালোচনা শুরু করেছে ওপেনএআই। এ ধারাবাহিকতায় সোমবার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নতুন এক মডেল প্রকাশের পরিকল্পনা বাতিল করেছে কোম্পানিটি।
এর কয়েক দিন আগে, অস্ট্রেলিয়ার এক সরকারি ওয়েবসাইটে হ্যাকিংয়ের ঘটনাসহ এআই এজেন্টদের আরও কিছু অস্বাভাবিক কার্যকলাপের তথ্য প্রকাশ পায়।
ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের বিভিন্ন এআই সিস্টেমও মানুষকে বোকা বানাতে ভুয়া পরিচয় তৈরির মতো সাইবার ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল।
এদিকে, এ মাসের শুরুতে হাগিং ফেইস’কে প্রায় ১৩০০ কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করার চুক্তিতে পৌঁছেছে এনভিডিয়া। সাইবার হামলার পর ওপেনএআই ওই স্টার্টআপটিতে ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগের চেষ্টা করলেও প্রাথমিক পর্যায়েই সেই আলোচনা ভেঙে যায়।
বর্তমান এ আইনি লড়াইয়ে হাগিং ফেইস সরাসরি জড়িয়ে নেই।
তবে জুলাইয়ে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী ক্লেমেন্ট দেলাঙ্গে বলেছিলেন, তিনি ওপেনএআইয়ের কাছে সেরা ওপেন ও ক্লোজড মডেলগুলোর মাধ্যমে শক্তিশালী সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হাগিং ফেইস কমিউনিটিকে সহায়তার জন্য ১০ কোটি ডলারের কম্পিউটিং রিসোর্স দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
লেভেনফেল্ড পার্লস্টেইনের পার্টনার কেটি নাদ্রো সিএনবিসিকে বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা এআইয়ের নিয়ন্ত্রণহীন কর্মকাণ্ডগুলোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলোর কোনোটিতেই থার্ড পার্টি নিয়ন্ত্রিত তথ্যভাণ্ডারে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
“যখন এমন ঘটনা ঘটবে, তখন তথ্য ফাঁস এবং অন্যান্য সাইবার নিরাপত্তা বা প্রাইভেসিসংক্রান্ত আইনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিকে নিজস্বভাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জানানোর বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ভোক্তাদের পক্ষ থেকে করা অ্যান্টিট্রাস্ট মামলাও জড়িত হতে পারে।”
“আর, সেটা যদি ঘটে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানি এবং এআই ল্যাবগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত যে সহযোগিতা দেখা গেছে, তা হয়ত আর থাকবে না। কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানি তখন এআই ল্যাবের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করবে।”
