Published : 27 May 2026, 05:40 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেতা কিম সু-হিউনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে এক ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
ভুয়া অডিও ও মেসেজ তৈরি করে আনা মিথ্যা অপবাদের কারণে এই শীর্ষ তারকার ক্যারিয়ার সাময়িকভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছিল, যা দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
‘হোভার ল্যাব’ নামের এক ইউটিউব চ্যানেলের মালিক কিম সে-উই ভুয়া তথ্য সাজিয়ে দাবি করেছিলেন, কিম সু-হিউন একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রেম করেছিলেন।
এ কেলেঙ্কারির কারণে জনপ্রিয় অভিনেতা কিম সু-হিউনের ক্যারিয়ার সাময়িকভাবে থমকে যায়। তবে কিম সু-হিউন প্রথম থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
মঙ্গলবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ওই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। কারণ আদালত আশঙ্কা করছে, ওই ইউটিউবার প্রমাণ নষ্ট করতে বা পালিয়ে যেতে পারেন।
আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর বুধবার কিম সু-হিউনের এজেন্সি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অবশেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে ইউটিউবারের আনা সব অভিযোগই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছিল’। কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদও জানিয়েছে এজেন্সিটি।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইউটিউবার কিম সে-উই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ‘এই পরোয়ানায় মূল তথ্যগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি’।
গ্রেপ্তারের আগে ওই ইউটিউবার আরও বলেছেন, যেসব পুলিশ ও প্রসিকিউটর তার গ্রেপ্তারের আবেদন করেছেন তিনি তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করবেন।
অভিনেতা কিম সু-হিউনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ গত বছর সামনে এসেছিল। যার কিছু দিন আগেই ২৪ বছর বয়সী অভিনেত্রী কিম সে-রন আত্মহত্যা করেছিলেন।
কিম সে-রনের মৃত্যুর কয়েক মাস পর প্রায় ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার থাকা ‘হোভার ল্যাব’ চ্যানেলটি একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয়, অভিনেত্রী কিম সে-রন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই কিম সু-হিউনের সঙ্গে প্রেম করছিলেন।
তবে পুলিশ বলেছে, এ অডিও রেকর্ডটি আসলে এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। ওই ইউটিউবার অভিনেত্রীর ফোনের টেক্সট মেসেজের কিছু স্ক্রিনশট এমনভাবে কারসাজি করেছিলেন, যেন মনে হয় তিনি কিম সু-হিউনের সঙ্গেই মেসেজে কথা বলেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘হোভার ল্যাব’কে বিতর্কিত চ্যানেল হিসেবে বিবেচিত, যা প্রায়ই রাজনীতি, বিনোদন এবং তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন মুখরোচক ও গসিপধর্মী কনটেন্ট তৈরি করে।
কিম সু-হিউনের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ পুরো দক্ষিণ কোরিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। কারণ তিনি সেখানকার একাধিক সুপারহিট টিভি সিরিয়ালের প্রধান তারকা ও দেশজুড়ে অসংখ্য নামী-দামী ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করেছেন।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘জুংআং ইলবো’র প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশের এক নথিতে বলা হয়েছে, হোভার ল্যাবের করা ‘এসব ভিত্তিহীন দাবির কারণে কিম সু-হিউনের সামাজিক অবস্থান ও সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল, যা পেশাদার অভিনেতা হিসেবে তার টিকে থাকার ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিয়েছে’।
পুলিশ আরও বলেছে, ‘এই ধাক্কা সামলে উঠতে অভিনেতা এখনও মানসিক রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন’।
২০২৫ সালের মার্চে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে এ অভিনেতাকে আর কোনো আনুষ্ঠানিক জনসমাগমে দেখা যায়নি।
ওই সংবাদ সম্মেলনে কেঁদে ফেলে কিম সু-হিউন বলেছিলেন, তিনি অভিনেত্রী কিম সে-রনের সঙ্গে এক বছর প্রেম করেছিলেন। তবে সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেই এমনটা ঘটেছিল।
তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, “যে অপরাধ আমি করিনি, তা আমি মেনে নিতে পারছি না।”
সেই মাসেই তিনি মিথ্যা অভিযোগ আনার দায়ে ওই ইউটিউবার এবং মৃত অভিনেত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেছেন।
বুধবার কিম সু-হিউনের এজেন্সির দেওয়া বিবৃতিতে এক বছর আগের সেই সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গটি টেনে বলা হয়, “এক বছর আগের সংবাদ সম্মেলনে কিম সু-হিউন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে আমাকে বিশ্বাস করার অনুরোধ করব না, তবে আমি নিজেই নিজের নির্দোষ প্রমাণ করে দেখাব’।
“পুরো একটি বছর তিনি কেবল সেই কথাটি রাখার জন্যই লড়াই করে গেছেন।”