Published : 10 Sep 2026, 11:50 AM
প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব ও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের নাটকীয় বরখাস্ত ও পুনরায় বহালের আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত বায়োপিকের প্রথম অফিসিয়াল ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে।
হরর সিনেমার আবহে তৈরি এ সিনেমায় অল্টম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ট্রলারে অ্যান্ড্রু গারফিল্ড। তার অভিনয়ে এআইয়ের সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি ও প্রযুক্তি দুনিয়ার নেপথ্য রাজনীতি এক গা ছমছমে রূপ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
‘আর্টিফিশিয়াল’ নামের এ সিনেমার নির্দেশনার দায়িত্বে রয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা লুকা গুয়াদাগনিনো। এর আগে তিনি ‘কল মি বাই ইওর নেইম’, ‘চ্যালেঞ্জার্স’ ও ‘সাসপিরিয়া’র রিমেকের মতো প্রশংসিত সিনেমা পরিচালনা করেছেন।
প্রচলিত বায়োপিকের ধারা থেকে বেরিয়ে এ সিনেমার ট্রেইলারে গা ছমছমে ও মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
নেপথ্যে বাজতে থাকা এক হাড়হিম করা ও রোমহর্ষক গানের সঙ্গে অ্যান্ড্রু গারফিল্ডকে যান্ত্রিক ভঙ্গিতে অল্টম্যানের চরিত্রে এআইয়ের গুণগান গাইতে দেখা গেছে।
ট্রেইলারের একটি দৃশ্যে এআইকে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন গারফিল্ড, যেখানে তিনি চরম সতর্কতায় বলেছেন, ‘বিভিন্ন দেশ ধসে পড়বে’ ও ‘শিল্পখাতগুলো ভেঙে পড়বে’।
সিনেমার ট্রেইলার উঠে এসেছে, পরিচালক এখানে কেবল সাফল্যের গল্প বলেননি, বরং প্রযুক্তির অতিদ্রুত বিকাশ ও এর সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক পরিণতিকে সামনে এনেছেন।
ভবিষ্যতের কথা বলতে বলতে গারফিল্ডকে কোনো এক সুরক্ষিত গোপন বাঙ্কারে সারি সারি অস্ত্রের স্তূপের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
ট্রেইলারের শেষভাগে অর্জিত সাফল্যের উল্লাসের পাশাপাশি চরম হতাশা ও ক্ষোভে কোনো এক অজানা শূন্যতায় তার আর্তনাদের বেশ কিছু নাটকীয় দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রযুক্তি জগতের শীর্ষস্থানীয় নেতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, উচ্চাশা ও বিশ্বজুড়ে এআই বিপ্লবের নেপথ্য রাজনীতিকে এক ভিন্নধর্মী হরর ও মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার আঙ্গিকে বড় পর্দায় নিয়ে আসছে এ সিনেমা।
বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত এ সিনেমাটি এ বছরের বড়দিন বা ক্রিসমাস ডে-তে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। অ্যান্ড্রু গারফিল্ড ছাড়াও সিনেমাটিতে একঝাঁক তারকা অভিনেতা অভিনয় করেছেন।
ছবিটিতে আরও দেখা যাবে ইউরা বরিসভ, মনিকা বারবারো, আইক ব্যারিংহোল্টজ, জেসন শোয়ার্জম্যান ও মার্ক রাইল্যান্সের মতো খ্যাতনামা শিল্পীদের।
সিনেমাটির প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। এক সময় অনিশ্চয়তার মুখে পড়া সিনেমাটি আলোর মুখ দেখবে কি না তা নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে যথেষ্ট সংশয় ছিল।
মূল প্রযোজক ও পরিবেশক হিসেবে ‘অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস’ সিনেমাটি মুক্তির প্রস্তুতি নিলেও পরবর্তীতে ওপেনএআইয়ে ৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পর তারা এ প্রজেক্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে।
ওই সময় কোম্পানিটি বলেছিল, “অন্য কোনো স্টুডিওর মাধ্যমে সিনেমাটি মুক্তি পেলে তা সুবিধাজনক হবে।”
অ্যামাজনের হাত গুটিয়ে নেওয়ার পর নেটফ্লিক্স, ‘এ২৪’ ও ‘ফোকাস ফিচার্স’-এর মতো বড় বড় স্টুডিও ছবিটির স্বত্ব কিনতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে সিনেমাপ্রেমীদের স্বস্তি দিয়ে ছবির পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছে ‘নিয়ন’।