২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদে স্পেসএক্সের রকেট আছড়ে পড়ার জায়গা দেখাল নাসা

চাঁদে বাণিজ্যিক গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে দুটি ল্যান্ডার, পরীক্ষামূলক যন্ত্রপাতি ও খুদে রোভার নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিল স্পেসএক্সের এ রকেট।

চাঁদে স্পেসএক্সের রকেট আছড়ে পড়ার জায়গা দেখাল নাসা
দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রজাপতির ডানার মতো অন্ধকার ও উজ্জ্বল আলোর রেখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: নাসা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 10:51 AM

Updated : 16 Sep 2026, 05:11 PM

চাঁদের পৃষ্ঠে স্পেসএক্সের রকেট আছড়ে পড়ার পর তৈরি হওয়া গর্তের এযাবৎকালের সেরা ও সবচেয়ে স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

মঙ্গলবার চাঁদের কক্ষপথে থাকা একটি মহাকাশযান থেকে তোলা এ আঘাতের ‘আগের ও পরের’ ছবি উন্মোচন করেছে সংস্থাটি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মহাকাশে ভেসে থাকার পর ৫ অগাস্ট ঘণ্টায় প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কিলোমিটার গতিতে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছে ফ্যালকন রকেটের উপরের একটি অংশ।

চাঁদে বাণিজ্যিক গবেষণা চালানের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে দুটি ল্যান্ডার, পরীক্ষামূলক যন্ত্রপাতি ও খুদে একটি রোভার নিয়ে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছিল স্পেসএক্সের এ রকেট।

নাসার ‘লুনার রিকনিসন্স অরবিটার’-এর তোলা নতুন ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, নতুন তৈরি হওয়া গর্তটি চওড়ায় প্রায় ১৮ মিটার বা ৬০ ফুট এবং এর গভীরতা তিন মিটার বা ১০ ফুটের কম।

নাসার প্রকাশ পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রজাপতির ডানার মতো অন্ধকার ও উজ্জ্বল আলোর রেখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, অন্ধকার রেখাগুলো চাঁদের উপরিভাগের সেই অংশকে নির্দেশ করছে, যা শত শত বছর ধরে সৌরঝড়, মহাজাগতিক রশ্মি ও অতিক্ষুদ্র উল্কাপাতের সংস্পর্শে ছিল।

অন্যদিকে, উজ্জ্বল রেখাগুলো নির্দেশ করছে রকেটের বিকট আঘাতে চাঁদের গভীর থেকে ছিটকে আসা একদম তাজা পাথর ও ধূলিকণা।

সংঘর্ষের ঠিক এক সপ্তাহ পর চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে ৯৬ কিলোমিটার ওপর দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১ মাইল গতিতে যাওয়ার সময় গর্তটির ছবি তোলে নাসার মহাকাশযানটি।

দুর্ঘটনার ছবি ক্যামেরাবন্দী করতে ফ্লাইট কন্ট্রোলারদের মহাকাশযানটিকে কিছুটা হেলে দিতে হয়েছিল। চাঁদ নিজের অক্ষে ঘোরার পাশাপাশি অরবিটারটি প্রতি দুই ঘণ্টায় চাঁদের মেরু অঞ্চল একবার প্রদক্ষিণ করে।

ফলে দুর্ঘটনার স্থানটি ক্যামেরার আওতায় আসতে লেগে যায় প্রায় ছয় দিন। তবে এ ঘটনার ছবি প্রথম পাঠাতে পেরেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশযান ‘দানুরি’।

নাসা যখন আবারও মানুষকে চাঁদের পৃষ্ঠে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন ২০০৯ সাল থেকে চাঁদের কক্ষপথে থেকে বিশ্বস্ত প্রহরীর মতো কাজ করে যাচ্ছে তাদের এই ‘লুনার রিকনিসন্স অরবিটার’।