২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পুঁজিবাজারে টানা উত্থান: সূচক বাড়ল ‘মুনাফা তোলার দিনেও’

নতুন অর্থবছরের ৫ কর্মদিবসেই সূচক বাড়ল ২৩৫ পয়েন্ট। গত ১৫ কর্মদিবসে যোগ হয়েছে ৪৯৩ পয়েন্ট।

পুঁজিবাজারে টানা উত্থান: সূচক বাড়ল ‘মুনাফা তোলার দিনেও’
নতুন অর্থবছরে পুঁজিবাজারের প্রবণতায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। ব্রোকারেজ হাউজে ঢু মারার প্রবণতাও বেড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jul 2024, 09:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:57 AM

নতুন অর্থবছরে পুঁজিবাজারে সূচক বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। টানা উত্থানের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার মধ্যেও সূচক বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলে আশা করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। 

সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দিনভর সূচকের উত্থান পতনের মধ্যে শেষ বেলায় সাধারণ সূচক ডিএসইএক্সে যোগ হয়েছে ৫ পয়েন্ট। লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কমলেও তা নয়শ কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই যা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় হওয়ার প্রবণতাকেই তুলে ধরছে।

নানা ঘটানয় চাপে থাকা পুঁজিবাজারে মূলধনি আয় কর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় টানা দরপতন। তবে প্রধান সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি নেমে যাওয়ার পর জুনের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানো।

নতুন অর্থবছরের ৫ কর্মদিবসেই সূচক বাড়ল ২৩৫ পয়েন্ট, গত ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে ১৩ দিন বেড়ে সূচকে যোগ হয়েছে ৪৯৩ পয়েন্ট।

আগের চার দিন সূচক বৃদ্ধির কারণে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারে ভালো মুনাফায় আছেন বিনিয়োগকারীরা, ফলে সোমবার বিক্রয় চাপ থাকতে পারে, এমন একটি ধারণা ছিল বিনিয়োগকারীদের।

প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা কয়েক ধাপে ‘ক্যাপিটাল গেইন’ তুলে নেওয়ার চাপে এক পর্যায়ে বেলা ১২টা ২০ মিনিটে সূচক ৩৭ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছিল।

তবে সেখান থেকে টানা উত্থান দেখে বিনিয়োগকারীরা। বাকি সময়ে যোগ হয় ৪২ পয়েন্ট।

সামান্য বেড়েছে ডিএসইর শরিয়াহ সূচকও। তবে সেরা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই৩০ সূচক সাড়ে ৪ পয়েন্টের মতো কমে গেছে।

ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও শহীদুল্লাহ সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ আনোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘গত কয়েকদিন তো সূচকে বেড়েছে। যারা এই সময়ে কিনেছিলেন, তাদের বেশিরভাগেরর শেয়ার বিক্রয়যোগ্য হয়েছে। বাজার ভালো দেখে বিক্রয় করেছেন সারা দিনে। এটি হওয়া স্বাভাবিক, বাজার ম্যাচিউরড আচরণ করেছে।’’

ইবিএল সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘একটানা উত্থানের পর সূচকের উত্থান-পতন স্বাভাবিক। অনেকেই শেয়ার বিক্রি করে নতুন শেয়ার কিনেছেন। যেখানে লাভ পেয়েছেন তা বিক্রি করেছেন।

‘‘যখন শেয়ার বিক্রি বাড়ছিল-তখন সূচক পতন হয়। আবার যখন কিনেছে তখন সূচক উত্থানে গিয়েছে। এটি স্বাভাবিক কারেকশন, বাজারে এটি হয়।’’

দিন শেষে ডিএসইতে ৮৮৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে দর এগিয়ে ছিল ১৬৪ টির, কমে ১৯৭ টির ও আগের দরে লেনদেন হয় ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের।

আগ্রহের শীর্ষে ওষুধ ও রসায়ন, দর বৃদ্ধিতে এগিয়ে বীমা 

আগের দিনের মতোই বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি কিনেছেন ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ার। মোট লেনদেনের ১৬ শতাংশের বেশি হয়েছে এই খাতে, টাকার অঙ্কে হাতবদল হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা।

তবে এই খাতের কোম্পানির ২১টিরই শেয়ার দর কমে গেছে, বেড়েছে ১১টির, একটি লেনদেন হয়েছে আগের দিনের দরে।

বিনিয়োগের প্রায় ১৩ শতাংশ হয়েছে বস্ত্র খাতে, এই খাতের ১২১ কোটি টাকার বেশি শেয়ার কিনেছেন বিনিয়োগকারীরা।

এ খাতের ৩৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে কমেছে ২৩টির।

বীমা খাতেও লেনদেন হয়েছে ১২০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ৮১ কোটি টাকা হাতবদল হয়েছে সাধারণ বীমা খাতে।

সাধারণ বীমা খাতের ৩৯টি এবং জীবন বীমা খাতের ৮টি কোম্পানির দর বেড়েছে। কমেছে চারটি করে আটটির। একটি লেনদেন হয়েছে আগের দিনের দরে।

খাদ্য খাতে হাতবদল হয়েছে ৭৫ কোটি টাকার শেয়ার,যা শতকরা হারে ৯ শতাংশের কিছু কম।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় কোনো একক খাতের প্রাধান্য দেখা যায়নি, তবে টানা দরপতনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকেই দেখা গেছে শীর্ষে, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বা মৌলভিত্তি এখানে বিবেচনায় আসেনি।

টানা চার দিন ১০ শতাংশ বা কাছাকাছি দর বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে আছে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন। এক বছরের ব্যবধান ১৮ টাকা থেকে ২৩৯ টাকায় উঠে যাওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারদর গত ২ জুলাই ৯৬ টাকায় নেমে গিয়েছিল। চার কর্মদিবস পরে তা উঠে গেছে ১৪০ টাকা ৪০ পয়সায়।

লোকসানি গোল্ডেনসন, গ্লোবাল হেভি ক্যামিকেলস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাকমি পেস্ট্রিসাইডস, বিডিথাই অ্যালুমিনিয়ম এবং মুনাফায় থাকা রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে ছিল ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ও কাট্টালি টেক্সটাইলসও।

সব মিলিয়ে ৮টি কোম্পানির দর নয় শতাংশের বেশি, তিনটির দর ৮ শতাংশের বেশি, চারটির দর ৭ শতাংশের বেশি ৮টির দর ছয় শতাংশের বেশি, ১৪টির দর ৫ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি বেড়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ৩ শতাংশের কাছাকাছি দর হারিয়েছে বেশ কিছু কোম্পানি। এগুলো হল ইউনিলিভার, বিডিল্যাপস, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলস, ইউনিয়ন ব্যাংক, দেশ গার্মেন্টস, জিএসপি ফাইন্যান্স, বে লিজিং, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়া ফান্ড, ও নিউলাইন টেক্সটাইলস।