Published : 19 Jul 2026, 05:30 PM
শেষের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ। শিরোপা লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আসরের ১০৪তম ও ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম)।
এর আগে দেখে নেওয়া যাক কিছু পরিসংখ্যান:
১৪
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। দুই দলেরই জয় সমান ছয়টি করে, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
বিশ্বকাপ কিংবা প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে একবারই দেখা হয়েছে দল দুটির। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
১২
দল দুটির সবশেষ দুই ম্যাচে গোল হয়েছে মোট ১২টি। ২০১০ সালে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা জয় পায় ৪-১ গোলে। ২০১৮ সালের প্রীতি ম্যাচে ৬-১ গোলে জেতে স্পেন। হ্যাটট্রিক করেন ইস্কো। চোটের কারণে ম্যাচটি খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি।
১
আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকারও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাধারী স্পেন। এই দুটি প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
এই ফাইনালের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আছে আরও একটি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম (আর্জেন্টিনা) ও দ্বিতীয় (স্পেন) স্থানে থাকা দুটি দলের বিশ্বকাপের যেকোনো রাউন্ডে মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাও এটিই প্রথম।
২
২০১০ সালের শিরোপা জয়ী স্পেনের এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। বড় টুর্নামেন্টে সব মিলিয়ে তাদের ছয়টি ফাইনালের পাঁচটিতেই তারা জয়ী হয়েছে। তাদের পাঁচটি ইউরো ফাইনালের চারটিতে তারা ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে।
৩
২০২২ সালের শিরোপা জয়ী আর্জেন্টিনার সামনে ৬৪ বছরে প্রথম ও বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। এই স্বাদ পেয়েছে কেবল ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) ও ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২)।
৭
আর্জেন্টিনার এটি সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল। তাদের চেয়ে বেশি ফাইনাল খেলেছে শুধু জার্মানি (আটবার)। আর্জেন্টাইনরা তিনবার হয়েছে চ্যাম্পিয়ন (১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২) ও তিনবার রানার্সআপ (১৯৩০, ১৯৯০, ২০১৪)।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা তাদের সাত ম্যাচেই জিতেছে। ২০০২ সালে ব্রাজিলের (যারা সাত ম্যাচের সবকটি জিতেছিল) পর প্রথম দল হিসেবে এক আসরে শতভাগ জয়ের কীর্তি গড়ার হাতছানি লিওনেল স্কালোনির দলের সামনে।
৩৭
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন তাদের সবশেষ ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত আছে, যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে যৌথ রেকর্ড। ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেকে স্প্যানিশরা ২৭ ম্যাচ জিতেছে এবং ১০টি ড্র করেছে। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থেকে রেকর্ডটি প্রথম গড়েছিল ইতালি।
১৯
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ১৯টি গোল করেছে- যা গড়ে ম্যাচ প্রতি ২.৭১টি। ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের করা সমান সংখ্যক গোলের পর এটিই বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো দলের সর্বোচ্চ। এক আসরে কোনো দলের এর চেয়ে বেশি গোলের ঘটনা আছে কেবল চারটি: ১৯৫০ সালে ব্রাজিল ২২টি, ১৯৫৮ সালে ফ্রান্স ২৩টি, ১৯৫৪ সালে পশ্চিম জার্মানি ২৫টি ও একই আসরে হাঙ্গেরি ২৭টি।
স্পেন এবার গোল করেছে ১৩টি এটি, যা ১৯৮৬ সালে করা তাদের আগের সর্বোচ্চ গোলের চেয়ে দুটি বেশি এবং ২০১০ সালে শিরোপাজয়ী অভিযানের চেয়ে পাঁচটি বেশি।
১৩
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা টানা ১৩ ম্যাচে দুই বা এর বেশি গোল করেছে- যা কোনো দলের রেকর্ড। সবশেষ তারা কোনো ম্যাচে অন্তত দুটি গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে, যেখানে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা।
বিশ্ব মঞ্চে আলবিসেলেস্তেরা টানা ১৬টি ম্যাচে গোল করেছে। তাদের চেয়ে বেশি টানা ম্যাচে গোল করেছে কেবল হাঙ্গেরি (১৯৩৪ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত ১৭ ম্যাচে), জার্মানি (১৯৮৬ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ১৮ ম্যাচে), জার্মানি (১৯৩৪ থেকে ১৯৫৮ পর্যন্ত ১৮ ম্যাচে) ও ব্রাজিল (১৯৩০ থেকে ১৯৫৮ পর্যন্ত ১৮ ম্যাচে)।
২
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ফাইনালে (২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬) খেলার কীর্তি গড়ার দুয়ারে মেসি। ব্রাজিলের কাফুর (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) পাশে বসবেন তিনি। এছাড়া ফাইনালে খেলা সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড়ও হবেন মেসি (৩৯ বছর ২৫ দিন)।
৩
বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হবেন লামিন ইয়ামাল (১৯ বছর ৬ দিন)। তার চেয়ে কম বয়সে ফাইনালে খেলেছেন, ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের হয়ে পেলে (১৭ বছর ২৪৯ দিন) ও ১৯৮২ সালে ইতালির হয়ে জুজেপ্পে বের্গমি (১৮ বছর ২০১ দিন)।
২০
মেসি বনাম ইয়ামালের লড়াই হবে ফাইনালের মূল আকর্ষণ। সব কিছু ঠিক থাকলে দুজনই থাকবেন শুরুর একাদশে। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে দুই দলের শুরুর একাদশের দুই খেলোয়াড়ের বয়সের পার্থক্য হবে ২০ বছরেরও বেশি।
১
চলতি আসরে স্পেন কেবল একটি গোল হজম করেছে। সবচেয়ে কম গোল হজম করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড গড়ার হাতছানি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের সামনে। ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন যথাক্রমে ১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পথে সবচেয়ে কম দুটি করে গোল হজম করেছিল।
আর্জেন্টিনা এবার সাতটি গোল হজম করেছে। তাদের আগে সবশেষ কোনো দল ছয়টির বেশি গোল হজম করে বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছিল ১৯৯৮ সালে, ব্রাজিল।
৫
আর্জেন্টিনা পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে এবার পাঁচটি গোল করেছে- যা বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো দলের যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে দুটি গোল করেছেন মেসি, শিওভানি লো সোলসো, হুলিয়ান আলভারেস ও এন্সো ফের্নান্দেস একটি করে।
৬৪৮
এই বিশ্বকাপে স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি ৬৪৮টি পাস সম্পন্ন করেছেন, যা বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে নিজেরই করা ৬৩৮টি পাসের রেকর্ড ভেঙেছেন ৩০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।
এই তালিকায় রদ্রির ঠিক পরে থাকা খেলোয়াড়ও স্পেনেরই আরেক মিডফিল্ডার- ২০১০ বিশ্বকাপে ৫৯৯টি সফল পাস দিয়েছিলেন শাভি এর্নান্দেস।
চলতি আসরে সর্বোচ্চ পাসের তালিকায় রদ্রির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন তার সতীর্থ পাউ কুবার্সি (৫৪৭) ও এমেরিক লাপোখ্ত (৫৩৩)।