Published : 17 Jun 2026, 06:02 AM
বিশ্বকাপের বছরে দেশের হয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পারেননি গোল করতে। মূল মঞ্চে এসে সেই খরা কী দারুণভাবেই না কাটালেন আর্লিং হলান্ড। তার কাঁধে চড়ে, ইরাককে সহজেই হারিয়ে বিশ্বকাপে ফেরার উপলক্ষ রাঙাল নরওয়ে।
ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে ‘আই’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচটি ৪-১ গোলে জিতেছে ইউরোপের দেশটি। নরওয়ের দুটি গোল করেন হলান্ড, একটি লিও আস্টিগোর।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে এই নরওয়ে দলটি হয়ে উঠতে পারে টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স।’ দাপুটে জয়ে শুরুতেই এর প্রমাণ দিল তারা।
দেশটিকে এর আগে সবশেষ বিশ্বকাপ দেখা গিয়েছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স আসরে। এদিনের নরওয়ের একাদশের পাঁচ জনেরই সেই সময় জন্মই হয়নি, তাদের একজন হলান্ডও।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দেশের মানুষকে ২০তম মিনিটেই গোল উপহার দিতে পারতেন হলান্ড; তবে ভালো পজিশনে বল পেয়েও হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। দলকে এগিয়ে নিতে খুব বেশি সময় অবশ্য নেননি ম্যানচেস্টার সিটি তারকা।
প্রথম ‘কুলিং ব্রেকের’ পর পুনরায় খেলা শুরু হতেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের গোলমুখে বাড়ানো বল কিছুটা স্লাইডের মতো করে জালে পাঠান হলান্ড।
আধুনিক ফুটবলের এই গোলমেশিনের জাতীয় দলের হয়ে গোল হলো ৫৬টি, ৫১ ম্যাচেই।
১০ মিনিট পরেই অবশ্য দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে সমতা টানে ইরাক। বাঁ দিকের বাইলাইনে থেকে সতীর্থের কাটব্যাক ক্রস পেয়ে, সবার ওপরে লাফিয়ে জোরাল হেডে গোলটি করেন আইমেন হুসেইন।
জাতীয় দলের হয়ে এই স্ট্রাইকারের গোল হলো ৩৩টি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটা দেশটির দ্বিতীয় গোল। এর আগে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছে তারা, ১৯৮৬ আসরে। সেবার তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারের পথে একবার বল জালে পাঠিয়েছিল দলটি।
নিজেদের ভুলে চার মিনিটের মধ্যে আবার পিছিয়ে পড়ে ইরাক। সতীর্থের দুর্বল ব্যাক পাস ক্লিয়ার করতে বিলম্ব করেন দলটির গোলরক্ষক জালাল হাসান। ছুটে গিয়ে বলে আলতো একটা টোকা দেন হলান্ড এবং সেই মুহূর্তে শট নেন জালাল। ফলাফল, বল হলান্ডের পায়ে লেগে জালে জড়ায়।
আত্মঘাতী ওই ভুলের পর যেন তেতে ওঠে ইরাক। বিরতির আগের কয়েক মিনিটে একের পর এক আক্রমণ করে তারা। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আকরাম হাশিমের জোরাল ভলি ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে পারে নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার খেলার গতি কমে যায়। তেমন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়াই দ্বিতীয় পানি পানের বিরতি চলে আসে।
প্রথমার্ধের মতো এবারও বিরতি শেষে পুনরায় খেলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে গোলের দেখা মেলে। মার্টিন ওদেগোরের কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে বল জালে পাঠান লিও আস্টিগোর।
কিছুক্ষণ পর হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারতো হলান্ডের। তবে তার কোনাকুনি শট আটকে দেন গোলরক্ষক।
যার গোলে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল ইরাক, সেই আইমেন হুসেইনের নাম শেষ দিকে স্কোরলাইনে ওঠে আত্মঘাতী গোলদাতা হিসেবে। গোলরক্ষক বল পাঞ্চ ঠিকমতো করতে পারেননি, গোলমুখেই বল হুসেইনের গায়ে লেগে গোললাইনে পেরিয়ে যায়।
১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন আলফ-ইঙ্গে হলান্ড। ৩২ বছর পর, আরেকটি বিশ্বকাপে সেই যুক্তরাষ্ট্রেই আলো ছড়ালেন তার ছেলে আর্লিং হলান্ড।