Published : 16 Jun 2026, 09:07 PM
দলের বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা ভালো হয়নি। সেই হতাশা তো আছেই, পরে সংবাদ সম্মেলনে একটি প্রশ্নে বেশ বিরক্ত হলেন মার্সেলো বিয়েলসা। বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক ফটোশুটে কেন তিনি ক্যামেরার দিকে তাকাননি, এই প্রশ্নের উত্তরে উরুগুয়ে কোচ বলেন, এজন্য কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই তার।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সব দল ও কোচরা ফিফার বিভিন্ন ফটোশুটে অংশ নিয়েছেন। বিয়েলসা সরাসরি ক্যামেরার লেন্সের দিকে না তাকিয়ে পাথরের মতো নিষ্প্রাণভাবে নিচের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসবে খুব একটা আগ্রহী মনে হচ্ছিল না তাকে। এমনও ধারণা করা হচ্ছিল, এটা হয়তো তার কোনো ধরনের প্রতিবাদ। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোরে সৌদি আরবের বিপক্ষে উরুগুয়ের ১-১ ড্রয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করেন ৭০ বছর বয়সী বিয়েলসা।
“আমার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ছবিটা যেভাবে তোলা হয়েছে, সেভাবেই তোলা হয়েছে। আমি কোনো মডেল নই। এ ব্যাপারে আমার কোনো উত্তর নেই। যারা এখন (সংবাদ সম্মেলনে) কথা বলছেন, আমি কেন তাদের দিকে তাকাচ্ছি না, সেটাও কি আমাকে ব্যাখ্যা করতে হবে? আমার দেওয়ার মতো কোনো ব্যাখ্যা নেই।”
বিশ্ব ফুটবলের অভিজ্ঞ ও সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় কোচদের একজন বিয়েলসা সংক্ষেপে অন্য একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শুরু করেন, কিন্তু এরপর নিজে থেকেই তার সেই অদ্ভুত ফটোশুটের প্রসঙ্গটি আবার তোলেন।
“আমার বিশ্বাস, আমাদের কী ব্যাখ্যা করতে হবে তার একটা সীমা আছে। আমি যদি ওপরে বা নিচে তাকাই, তাহলেই তো ব্যাখ্যা করার মতো অনেক কিছু হয়ে যায়? কিছু পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয় না। মডেলদের মতো আচরণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা আমাদের নেই। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। আমি কোনো ভুল করিনি।”
“আমি যদি চশমা পরি, তাহলে কেন পরি? আপনি কারো চোখের দিকে তাকান, কেন তা করেন? চশমা পরা বা কারো চোখের দিকে তাকানো বা নিচের দিকে তাকানোর মধ্যে কোনো ভুল নেই।”
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিয়েলসার সম্পর্ক বরাবরই শীতল। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় মানুষের চোখের দিকে না তাকানোটা এই আর্জেন্টাইন কোচের একটি বৈশিষ্ট্য। অন্য কোচদের চেয়ে তিনি একেবারেই স্বতন্ত্র। তাকে ডাকা হয় ‘এল লোকো’ নামে, স্প্যানিশ এই শব্দটির অর্থ পাগল।
সৌদি আরবের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্স নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন বিয়েলসা। ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে বেশ সংগ্রাম করতে দেখা যায় দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে হার এড়ায় দলটি।
“আমার মনে হয়, আমরা যে জিততে পারিনি, তার কারণ হলো নিজেদের সেরাটা দিতে না পারা। এ কারণেই আমরা জিততে পারিনি। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা যেমন খেলেছি, প্রথমার্ধেও সেভাবে খেলার সবকিছুই ছিল আমাদের, কিন্তু আমরা তা করতে পেরেছি মাত্র অর্ধেক সময়ে।”