রোনালদো আসায় এখন 'গ্যালাকটিকোস' গড়তে চায় আল নাস্র
লুকা মদ্রিচ ও এনগোলো কঁতের মতো তারকাদের দলে টানতে চায় সৌদি আরবের ক্লাবটি।
আল নাস্র তো বটেই, সৌদি আরবের ইতিহাসে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মাপের কোনো খেলোয়াড়কেই দেখা যায়নি দেশটির ক্লাব ফুটবলে। পর্তুগিজ মহাতারকাকে দলে টেনে বড় চমক দেখিয়েছে ক্লাবটি। কিন্তু এক তারকা দিয়ে তো আর নক্ষত্রপুঞ্জ হয় না। 'গ্যালাকটিকোস' গড়তে চাই তারার মিলনমেলা। সেটা গড়তেই আরও শীর্ষ ফুটবলারদের দিকে চোখ রাখছে দলটি।
ঘরোয়া ফুটবলে দাপট দেখালেও নব্বই দশকের পর উপসাগরীয় ও এশিয়ান প্রতিযোগিতায় সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যায়নি আল নাস্রের। ১৯৯৮ সালে এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপের শিরোপা জিতে ক্লাবের ইতিহাসে সেরা সাফল্যের দেখা পেয়েছিল তারা।
সেই সাফল্যে ছিল সাবেক ব্যালন ডি'অর বিজয়ী খ্রিস্তো স্তোইচকোভের ছোঁয়া। এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপ জয়ে আল নাস্রের একমাত্র গোলটি করেছিলেন বুলগেরিয়ান স্ট্রাইকার। ক্লাবটির জার্সিতে খেলা সবশেষ তারকা বলতেও এতদিন ছিলেন তিনি। স্তোইচকোভ অবশ্য লম্বা সময় ছিলেন না আল নাস্রে। দলটির হয়ে ম্যাচ খেলেছিলেন মাত্র দুটি।
ওই শিরোপার পর কেটে গেছে অনেকটা সময়। খরা কাটাতে পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর বিজয়ী রোনালদোকে দলে ভিড়িয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের জন্য জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আল নাস্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এই প্রতিযোগিতায় প্রাধান্য দেখিয়েছে তাদের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলাল ও আল ইতিহাদ।
দুই বছরের চুক্তিতে আল নাস্রে যোগ দিয়েছেন রোনালদো। চুক্তির আর্থিক বিষয়াদি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এখনও। তবে সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বছরে ২১ কোটি ডলারের বেশি আয় করবেন ৩৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ইউরোপ মাতিয়ে ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে হলেও এশিয়ার ফুটবলে আলো ছড়াতে এসেছেন রোনালদো।
নিঃসন্দেহে রোনালদোর আল নাস্রে যোগ দেওয়া ক্লাব ও সৌদি আরবের ফুটবল নিয়ে সবার আগ্রহ বাড়িয়ে দেবে অনেকটা। এরই মধ্যে দলটিকে অনুসরণ করতে শুরু করেছেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী, বিশেষ করে রোনালদো ভক্তরা।
এই জোয়ার কাজে লাগাতে আরও বড় কিছু নাম ক্লাবে যোগ করতে চায় দলটি। ক্লাবের আঙিনায় তারার মেলা বসিয়ে সাফল্যের চূড়ায় উঠতে চাওয়ার লক্ষ্য তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ ও চেলসি মিডফিল্ডার এনগোলো কঁতেকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করবেন তারা। তাদের ইচ্ছা, আল নাসেরকে ‘নক্ষত্রপুঞ্জ’-এ রূপ দেওয়া।
“আমরা আগামীকাল রোনালদোকে উদযাপন করব এবং কাজ চালিয়ে যাব... শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের দলে টানার জন্য।”
১৯৫৫ সালে অপেশাদার দল হিসেবে গঠিত হওয়া আল নাস্র এখন পর্যন্ত নয়টি সৌদি লিগ শিরোপা জিতেছে। নব্বই দশক ছিল দলটির জন্য সেরা সময়। ১৯৯৮ সালে এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপ ও একই বছরে এশিয়ান সুপার কাপ জেতে তারা। এরপর ২০০০ সালে ক্লাব বিশ্বকাপের প্রথম আসরে অংশ নিয়ে 'দা ইন্টারন্যাশনালস' ডাকনাম অর্জন করে ক্লাবটি।
এছাড়া আল নাস্র ছয়টি কিং কাপ, তিনটি করে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স কাপ ও সৌদি ফেডারেশন কাপ জয় করেছে। কিন্তু প্রত্যাশার চূড়ায় পৌঁছুতে পারেনি আজও। গত তিন বছরে কোনো প্রতিযোগিতায় শিরোপার দেখা পায়নি তারা। সবশেষ ২০১৯ সালে জিতেছিল সৌদি লিগ শিরোপা। রোনালদো আসায় সেই আশার পালে লাগছে নতুন হাওয়া।
রোনালদোর আগে অর্থ-সম্পদে সমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের ফুটবলে এর আগে ক্যারিয়ারের শেষের দিকে খেলে গেছেন জর্জ উইয়াহ, পেপ গুয়ার্দিওলা ও শাভি এরনান্দেসের মতো ফুটবলাররা। তবে বিশাল অঙ্কের বেতন ও তারকাখ্যাতির কারণে রোনালদোর আল নাস্রে খেলা সৌদি ফুটবলের দিকবদলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আল নাস্রে রোনালদো পাবেন ফরাসি কোচ রুদি গার্সিয়াকে। সতীর্থদের তালিকায় আছেন কলম্বিয়ান গোলরক্ষক দাভিদ ওসপিনা, ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড ভিনসেন্ট আবুবাকার ও ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লুইস গুস্তাভোরা।
ঘরোয়ার পাশাপাশি অন্য প্রতিযোগিতায় সাফল্যের লক্ষ্যে রোনালদো হতে পারেন আল নাস্রের মূল কাণ্ডারি। তার সঙ্গে যদি আরও বড় তারকাদের দলে টানতে পারে তারা, তাহলে স্বপ্নের সীমানাও আর বিস্তৃত হবে তাদের জন্য।
