Published : 05 Sep 2025, 06:40 PM
কয়েক বছর ধরে মাঠে ভুগছে জার্মানি। দলটির হতাশার এই পালায় এবার নতুন এক অধ্যায় যোগ হয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার প্রতিপক্ষের মাঠে হেরে গেছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে হারের পর, নিজেদের দায় মেনে নিলেন জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান।
ব্রাতিস্লাভায় বৃহস্পতিবার রাতে ২-০ গোলের হার দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব শুরু করেছে জার্মানি। দুই অর্ধে একটি করে গোল করেছে স্বাগতিকরা। বাছাইয়ে ১০৪তম ম্যাচে এটি জার্মানির চতুর্থ হার, প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম।
গত জুনে নেশন্স লিগে পর্তুগাল ও ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের পর স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে এই বিপর্যয়, ১১৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার তারা টানা তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে হারল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এর আগে ৫২টি অ্যাওয়ে ম্যাচে কোনো হারের অভিজ্ঞতা ছিল না জার্মানির, এবার সেটাও হলো।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে স্লোভাকিয়ার চেয়ে জার্মানি ৪৩ ধাপ এগিয়ে, কিন্তু ম্যাচের ফলাফলে সেটার কোনো ছাপ নেই। এমন হতাশাজনক হারের পর নিজেদের দায় মেনে নিলেন আগেরদিনই পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখানো কোচ নাগেলসমান।
“আমরা খেলায় কোনো আবেগ দেখাতে পারিনি। (জয়ের জন্য মরিয়া) মনোভাব দেখানোয় প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। আমরা বিশ্বকাপে যেতে চাই, কিন্তু আজকের পারফরম্যান্সে আমরা সেই মান থেকে অনেক দূরে ছিলাম।”
“খেলোয়াড়দের মাঝে আমি আবেগটা দেখতে চাই। জার্মানির সেরা খেলোয়াড়দের আমরা বাছাই করেছি। কিন্তু, হয়তো মানের ওপর আমাদের কম গুরুত্ব দিতে হবে এবং সেই খেলোয়াড়দের আনতে হবে যারা মাঠে নিজেদের সেরাটা উজার করে দিতে প্রস্তুত।”
২০১৪ সালে শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে বড় কোনো টুর্নামেন্টে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি জার্মানি।
স্লোভাকিয়ার মাঠে পজেশন রাখায় ও গোলে শট নেওয়ায় জার্মানি আধিপত্য করলেও, তাদের ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠে। বরং আক্রমণে পিছিয়ে থাকা স্লোভাকিয়া এক্ষেত্রে সফল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দাভিদ হান্সকোর গোলে এগিয়ে যায় তারা। ওই গোলে অবদান রাখা দাভিদ স্ত্রেলেচ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে করেন দুর্দান্ত একটি গোল।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানো চেষ্টা করে জার্মানি; কিন্তু সেই প্রচেষ্টাও ধরে রাখতে পারেনি দলটি। নাগেলসমানের কণ্ঠেও সেই হতাশা প্রকাশ পেল।
“দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম পাঁচ মিনিট (আমাদের পারফরম্যান্স) কিছুটা উজ্জ্বল ছিল, কিন্তু বাকি সময়টা একেবারেই সাদামাটা।”
“নিজের দলের সামর্থ্যে আস্থা আছে আমার। কিন্তু তাদের বুঝতে হবে, প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো ফুটবলার হওয়াই কেবল যথেষ্ট নয়, ইচ্ছাশক্তি ও জয়ের আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে। হাত গুটিয়ে বসে থাকলে জেতা সম্ভব নয়।”
আগের দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া জার্মানির এবার বাছাইয়েই শুরুটা হলো দুঃস্বপ্নে।
গ্রুপ ‘এ’তে পরের ম্যাচে আগামী রোববার জার্মানি খেলবে নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। আর লুক্সেমবার্গের মুখোমুখি হবে স্লোভাকিয়া।