Published : 31 Aug 2026, 01:47 PM
ম্যাচ চলার সময় থেকেই অস্বস্তিগুলো দৃশ্যমান হচ্ছিল। ম্যাচের মাঝপথে বমি করলেন একবার। পিঠ ও কাঁধের সমস্যা বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্ট। তবু প্রথম তিন সেটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু পরে আর পেরে উঠলেন না নোভাক জোকোভিচ। অবাছাই মারিয়ানো নাভোনের কাছে হেরে অবিশ্বাস্যভাবে ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিলেন কিংবদন্তি। ম্যাচের পর চোখে দেখা গেল জলের ধারা।
গোটা ক্যারিয়ারেই আগে কখনও ইউএস ওপেনে তৃতীয় রাউন্ডের আগে বিদায় নেননি জোকোভিচ। গ্র্যান্ড স্ল্যামেও প্রায় ভুলে যাওয়া এক স্বাদ পেলেন রেকর্ড শিরোপাজয়ী তারকা। গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ড থেকে সবশেষ বাদ পড়েছিলেন তিনি সেই ২০০৬ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে।
২৫ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ার চেষ্টায় থাকা তারকা রোববার ৭-৬(৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ গেমে হেরে যান আর্জেন্টিনার নাভোনের কাছে।
চোট ও অসুস্থতার কারণে ম্যাচের শেষ দিকে ঠিকঠাক সার্ভ করতে পারছিলেন না জোকোভিচ।
সবশেষ যখন তিনি গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে পড়েন, তখনও লড়ছিলেন পায়ের নিচে জমিন শক্ত করতে। গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় তো বহুদূর, কোনো এটিপি শিরোপাও তার ছিল না। পরের সময়ে ইতিহাস গড়ে তিনি জিতেছেন রেকর্ড ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামসহ ১০১টি এটিপি ট্যুর সিঙ্গলস শিরোপা। এই ৩৯ বছর বয়সে এসে আবার কোনো আসরে শুরুতেই শেষ হলো তার পথচলা।
ম্যাচের পর অশ্রুসিক্ত জোকোভিচ বললেন, শরীরের সঙ্গে লড়াইয়েই পেরে ওঠেননি তিনি। প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিতে অবশ্য ভুললেন না।
“এটা তো পরিষ্কারই যে, কোর্টে আমার জন্য অনুভূতিটা ছিল ভয়াবহ। দুর্ভাগ্যবশত, এই বছর প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই এই সমস্যা হানা দিচ্ছে। বমি করা, বমি বমি ভাব, এসব গুরুতর সমস্যা। এর জের ধরে আমার পুরো শরীর ভেঙে পড়তে শুরু করে, মূলত পেশিতে টান ধরে এবং ব্যথা হয়।
হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত পিঠ আর কাঁধ দুটোই ভেঙে পড়ল। ম্যাচটা শেষ করতে পারলাম না। চতুর্থ সেটে এক ব্রেক এগিয়ে ছিলাম, কিন্তু ম্যাচের চতুর্থ গেম থেকেই পুরোটা সময় ধরে ধুঁকেছি। আবারও বলছি, আমি তার জয়কে খুব বেশি ছোট করে দেখতে চাই না। তাকে অভিনন্দন। সে একজন ভালো মানুষ, একজন লড়াকু। কিন্তু আমি ম্যাচটা উপভোগ করিনি।”
এমন বিপর্যয়ের আভাস অবশ্য ছিল। সপ্তাহ দুয়েক আগে সিনসিনাটি ওপেনে প্রথম রাউন্ডে হেরে যান জোকোভিচ। ফর্ম ও ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নকে সঙ্গী করেই নিজের ২০তম ইউএস ওপেনে তিনি এসেছিলেন।
এই ম্যাচে আর্দ্র আবহাওয়ায় তিনি প্রথম সেটে দ্রুত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কোর্টের ছাদ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার পর নাভোনে ৪-৪ সমতা ফেরান।
জোকোভিচের অস্বস্তি তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। নাভোনে এরপর খেলা টাইব্রেকে নিয়ে যান এবং সেটটি জিতে নেন। দর্শকদের মধ্যে তুমুল উল্লাস ও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে তাতে।
দ্বিতীয় সেটে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ান জোকোভিচ। তৃতীয় সেটের সময় কোর্টের পাশের একটি ডাস্টবিনে বমি করার পর তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, হয়তো সেরে উঠেছেন। নাভোনের সার্ভিস ব্রেক করে তিনি ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে যান এবং সার্ভ খুব ভালো করতে না পারলেও সেটটি জিতে নেন।
কিন্তু চতুর্থ সেট জিতে জবাব দেন নাভোনে। পিঠের সমস্যার কারণে শেষের দিকে জোকোভিচের সার্ভ একরকম অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর ভাগ্য নির্ধারণী সেটে স্নায়ুর চাপ সামলে ৪ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটে ঐতিহাসিক জয়ে নিজেকে রাঙান নাভোনে।
ম্যাচের পর জোকোভিচ জানালেন, শরীর বিদ্রোহ করলেও তিনি মাঠ থেকে বের হতে চাননি।
“চতুর্থ বা পঞ্চম সেটে এসে আর হাল ছাড়তে চাইনি। ম্যাচটি শেষ করতে চেয়েছিলাম।”
নাভোনের জন্য এই জয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ঘটনা। ২৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন কখনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের তৃতীয় রাউন্ড পার হতে পারেননি, ইউওস ওপেনে তার সেরা সাফল্য দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রাখা।
যাকে তিনি মনে করেন সর্বকালের সেরা, যাকে আদর্শ মেনে গড়েছেন নিজেকে, তাকে হারিয়ে যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না নাভোনে নিজেই।
“সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের বিপক্ষে পাঁচ সেটের ম্যাচ খেলা এবং জয়, এমন কিছু তো প্রতিদিন হয় না। আমি খুবই। আমার জন্য এটা অনেক বড় ব্যাপার। স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।”
পরে তিনি ইএসপিএনকে বলেন যে, নিজের কীর্তি এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি।
“অ্যাড্রেনালিনের প্রভাব কমতে কিছুটা সময় লাগবে। এইমাত্র ফোনটা হাতে নিয়েছি আর ফোনটা বেজেই চলেছে। ধারণা করতে পারছি, দেশে নিশ্চয়ই বেশ তোলপাড় চলছে।”