Published : 01 Aug 2025, 01:32 PM
অভিমান, আক্ষেপ, ক্ষোভ, অসহায়ত্ব, সবকিছু সঙ্গী করেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন লুকাস পাকেতা। অবশেষে সেই দুঃসহ অধ্যায়ের সমাপ্তি। ফিক্সিংয়ের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার।
স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশনের শুনানির পর বেটিং আইনের চারটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ থেকে পাকেতা মুক্তি পেয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে জানায় ইংল্যান্ডের এফএ (ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন)।
২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের অগাস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চারটি ম্যাচে ইচ্ছে করেই হলুদ কার্ড পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। ম্যাচ চারটি ছিল লেস্টার সিটি, অ্যাস্টন ভিলা, লিডস ইউনাইটেড ও বোর্নমাউথের বিপক্ষে।
২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে পাকেতার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। গত বছরের মে মাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। এফএ বিবৃতিতে জানায়, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ম্যাচগুলোর এগিয়ে চলা, পরিচালনা কিংবা ম্যাচের অন্য কোনো দিক বা ঘটনা প্রভাবিত করতে ইচ্ছে করেই কার্ড দেখার চেষ্টা করা, যাতে কৌশলে বেটিংয়ের বাজারে অন্যদেরকে সুবিধা দেওয়া যায়।
এছাড়া এফএর তদন্তে প্রশ্নোত্তর পর্বের বাধ্যবাধকতা না মেনে অসহযোগীতা করা ও তথ্য না দেওয়ার দুটি অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে।
দোষী প্রমাণিত হলে আজীবন নিষেধাজ্ঞাও পেতে পারতেন ২৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। এফএ এবার বিবৃতিতে জানাল, ইন্ডিপেন্ডেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের শুনানিতে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পাকেতা শুরু থেকেই অভিযোগগুলোকে মিথ্যা দাবি করে আসছিলেন। গত অক্টোবরে তিনি এফএর কাছে আকুতি করেন, তদন্তের বিভিন্ন তথ্য সংবাদমাধ্যমে কারা ফাঁস করছে, সেটার তদন্ত করতে।

অভিযোগ মাথায় নিয়েই ওয়েস্ট হ্যাম ও ব্রাজিলের হয়ে খেলে যাচ্ছিলেন পাকেতা। গত মৌসুমে ওয়েস্ট হ্যামের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ৩৩ ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। মে মাসে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মাঠে তখন তকে সান্ত্বনা দেন সতীর্থরা। সাত মিনিট পর তাকে তুলে নেন কোচ।
পাকেতার স্ত্রী পরে সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, দুই বছর ধরে দুঃস্বপ্নের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন তারা।
অভিযোগ থেকে মুক্তির পর পাকেতা স্বাভাবিকভাবেই দারুণ উচ্ছ্বসিত।
“তদন্তের প্রথম দিন থেকেই এসব গুরুতর অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজেকে নির্দোষ বলে আসছিলাম। এই মুহূর্তে বেশি কিছু আর বলতে চাই না, শুধু প্রকাশ করতে চাই ঈশ্বরের প্রতি আমি কতটা কৃতজ্ঞ এবং আবারও ফুটবল মাঠে নামতে পারব মুখে হাসি নিয়ে।”
“আমার স্ত্রী, যে কখনও আমার হাত ছাড়েনি, আমার ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম ও সমর্থকরা, যারা সবসময় আমার জন্য গলা ফাটিয়েছেন, আমার পরিবার, বন্ধুরা, আইনী দল যারা আমার পাশে ছিলেন, সবাইকে ধন্যবাদ।”
পাকেতার মুক্তিতে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন ওয়েস্ট হ্যামের ভাইস-চেয়ারম্যান কারেন ব্র্যাডি।
“আমরা খুবই সন্তুষ্ট যে লুকাস দায়মুক্তি পেয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ক্লাব হিসেবে আমরা দৃঢ়ভাবে তার পাশে ছিলাম এবং সমর্থন করেছি।”
“অবিশ্বাস্য এমন চাপের পরও সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে লুকাস ক্লাবের হয়ে পারফর্ম করেছে, সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে। লুকাস ও তার পরিবারের জন্য সময়টা ছিল কঠিন। কিন্তু সে পুরোটা সময়ই দারুণ পেশাদার ছিল।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট হ্যামের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি পর্বেও ছিলেন পাকেতা। ওয়েস্ট হ্যাম প্রিমিয়ার লিগে নতুন মৌসুম শুরু করবে ১৬ অগাস্ট সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।