‘স্বপ্না  থাকলে আরও গোল হতো’, বললেন সাবিনা

ম্যাচের শুরুতেই প্রতিপক্ষের কড়া ট্যাকলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন সিরাত জাহান স্বপ্না।

কাঠমান্ডু থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Sept 2022, 11:29 AM
Updated : 16 Sept 2022, 11:29 AM

ম্যাচ শুরুর ৯৪ সেকেন্ডেই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে দুর্দান্ত কিছুর ইঙ্গিত দেন সিরাত জাহান স্বপ্না। তবে কিছুক্ষণ পরই প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের কড়া ট্যাকলে খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তাকে ছাড়াও দল অবশ্য ঠিকই ভুটানের জালে করে গোল উৎসব।  তবে স্বপ্না মাঠে থাকলে ভুটানের জালে বাংলাদেশ আরও বেশি গোল করতে পারত বলে মনে করেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।

স্কোরলাইন দেখাচ্ছে গোল একেবারে কম পায়নি বাংলাদেশ। নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে শুক্রবার মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমি-ফাইনালে ৮-০ গোলে জিতেছে তারা।

স্বপ্না গোলের শুরুটা করে দেওয়ার পর হ্যাটট্রিক উপহার দেন সাবিনা। একবার করে জালের দেখা পান কৃষ্ণা রানী সরকার, ঋতুপর্ণা চাকমা, মাসুরা পারভীন ও তহুরা খাতুন।  

এ নিয়ে সাফে ২২ গোল হলো সাবিনার। এর মধ্যে চলতি আসরে চার ম্যাচে ৮ গোল নিয়ে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। স্বপ্নার গোল ৪টি। দ্বাদশ মিনিটে আক্রমণভাগের সতীর্থকে মাঠ ছাড়তে দেখে মন খারাপ হয়েছিল সাবিনারও।

“সত্যি বলতে কী, ও (স্বপ্না) প্রতিপক্ষের জন্য অনেক চাপ। ও থাকলে অবশ্যই ভালো হতো। আরও গোল হতো। যেহেতু হয়নি, কী আর করা।”

চলতি সাফে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হ্যাটট্রিকের আনন্দে ডানা মেললেন সাবিনা। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ম্যাচে পেয়েছিলেন প্রথম হ্যাটট্রিক। অধিনায়ক জানালেন ফাইনালেও গোলের ধারায় থাকার আশাবাদ।

“আমি খুব খুশি । আমাদের লক্ষ্য ছিল ফাইনালে যাওয়া। আমরা যেতে পেরেছি; এজন্য খুশি। আমি সব সময় সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। যেহেতু ম্যাচ এখনও বাকি আছে। সুযোগ পেলে গোল করার চেষ্টা করব।”

“ভারতের সঙ্গে গোল পাইনি, কারণ একেক দলের সঙ্গে একেক রকম পরিকল্পনা থাকে। যেহেতু ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। কোচ যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে খেলেছি। তারপরও আমি গোলের চেষ্টা করেছি, কিন্তু হয়নি।”

২০১৬ সালের পর এই প্রথম ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। দেশে থাকতে, নেপালে এসে শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্ন ঘুরেফিরে একাধিকবার জানান সাবিনা। ভুটানকে উড়িয়ে দেওয়ার পর ফের মনে করিয়ে দিলেন তা।

“এবার আমরা একটা স্বপ্ন নিয়ে এসেছি। চেয়েছি দেশকে ভালো কিছু উপহার দেব আমরা। নিজের সর্বোচ্চটা সব সময় দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ভুটান উন্নতি করেছে। যদি তাদের খেলা দেখেন, ওরা গোল খেয়েছে, কিন্তু ওদের উন্নতি হয়েছে। নেপালের সঙ্গে চেষ্টা করেছে। আজও চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের নারী ফুটবলেও উন্নতি হয়েছে এবং সেটার প্রমাণ আমরা মাঠে দিচ্ছি।”

দলকে এক সুঁতোয় গেঁথে রাখা কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানালেন সাবিনা।

“আমি এই জয়ের সব কৃতিত্ব স্যারকে দেব। মহিলা ফুটবলের শুরু থেকে উনি আছেন। উনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল উনি পাচ্ছেন।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক