চ্যালেঞ্জার কাপ জিতে দেশে ফিরে নিয়মিত খেলার দাবি জানালেন আমিরুলরা
খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ সিগফ্রেড আইকমান।
জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে চ্যালেঞ্জার কাপ জিতে আসা আমিরুল-রকিবুলদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নিল হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েই আগামীর ভাবনায় নিয়মিত খেলার দাবি জানালেন খেলোয়াড়রা।
পুল পর্বে হতাশ হতে হলেও ১৭তম স্থান নির্ধারণী পর্বে এসে ওমান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত চ্যালেঞ্জার কাপ জয় করে বাংলাদেশ। তামিলনাড়ু থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরে আসে দল।
সেরা ষোলোয় থাকার লক্ষ্য পূরণ না হলেও, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে তুষ্টির কথা বললেন কোচ সিগফ্রেড আইকমান। ভারতের টার্ফে দলের অর্জনের কৃতিত্ব তিনি দিলেন সবাইকে।
“আমার মনে হয়, ছেলেরা অসাধারণ খেলেছে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো-তারা পুরোপুরি দল হিসেবে খেলেছে। সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছে, কেউ নিজের জন্য খেলেনি। তারা শুধু দলের ফলের জন্য খেলেছে। আমরা সবাই মিলে আক্রমণ করেছি, সবাই মিলে রক্ষণ করেছি। যদি কেউ কিছু করতে না পারে, অন্যরা তার কঠিন কাজটা করে দিয়েছে।”
“এই দলের পেছনে কোচিং স্টাফ ও সাপোর্ট স্টাফও ছিল—সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছে। এটা কোনো একজনের কৃতিত্ব নয়, পুরো দলের ফল। আমার মনে হয় এটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে। অনেক দিন পর বাংলাদেশ হকি সত্যিকারের এক পরিবার হয়ে খেলেছে। এই ঐক্য আর বন্ধনই এটিকে বিশেষ করেছে।”
এই সাফল্য টেনে নিতে হলে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা আমিরুল ইসলাম (১৮টি গোল) দেখছেন হকি নিয়মিত মাঠে রাখার প্রয়োজনীয়তা।
“আমাদের লক্ষ্য ছিল, ফাইনাল খেলা (স্থান নির্ধারণী পর্বে চূড়ান্ত ম্যাচ খেলা)। আমাদের লক্ষ্য ছিল খুব ভালো একটা খেলা উপহার দেওয়া। সেটা আমরা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং সফল হয়েছি। এখন আমি বলব যে, যদি খেলাটা নিয়মিত মাঠে থাকে, তাহলে আপনারা দেখবেন যে, আমাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো হবে এবং ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো ফল আনব।”
“সেক্ষেত্রে বলব, আমাদের লিগটাকে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে, কারণ লিগের কোনো বিকল্প নেই। এই প্রিমিয়ার লিগ, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো, এই টুর্নামেন্টগুলো যখন নিয়মিত হবে, তখন বিদেশী যারা বা শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়রা আসবে, তখন তাদের থেকে আমরা নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারব এবং সেক্ষেত্রে দেখবেন, আমাদের দেশের খেলোয়াড়দের খেলার মান উন্নত হবে।”
বিমানবন্দরে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দ্রুত লিগ আয়োজনের।
“এটা শুধু আমিরুলই না, প্রতিটি হকি খেলোয়াড়েরই চাহিদা (লিগ খেলা)। আমরা প্রায় তিন মাস আগে একটা মিটিং করছিলাম প্রথম বিভাগের ক্লাবদের ডেকে। বললাম, আমরা লিগটা শুরু করতে চাই, কারণ লিগ তো আমরা খেলব না, লিগ ওনারা খেলবে। ওনারা আমাদেরকে জানালো টাকা পয়সার অভাবের কথা। ওনারা এই ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত সময় চাইছিল। আমরা এই মাসেই একটা চিঠি দিব ক্লাবগুলোকে। তাদের বলব, আপনারা আসেন, মিটিং করি, আমরা ক্লাব লিগটা শুরু করে দিতে চাই।”
