Published : 23 Mar 2026, 05:48 PM
শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে খুব বাজে একটা ভুল করে ফেললেন কেপা আরিসাবালাগা। তাতে পিছিয়ে পড়ার পর, আর ঘুরে দাঁড়াতে পারল আর্সেনাল। ফাইনালে এসে ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার দায়টাও তাই পড়ছে তার কাঁধে। আর মূল গোলরক্ষককে বসিয়ে রেখে তাকে খেলানোয় সমালোচনা শুনতে হচ্ছে মিকেল আর্তেতাকে। এই স্প্যানিশ কোচ অবশ্য নিজের কাছে পরিষ্কার। বললেন, আরিসাবালাগাকে খেলিয়ে কোনো ভুল করেননি তিনি।
পাঁচ মৌসুমের শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্যে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে রোববার লিগ কাপের ফাইনালে মাঠে নামে আর্সেনাল। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তাদের শুরুটাও ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসী। প্রথমার্ধে মাঠের নিয়ন্ত্রণও ছিল তাদের হাতে।
কিন্তু বিরতির পর পাল্টাতে থাকে খেলার দৃশ্যপট। আর ৬০তম মিনিটে সবকিছু যেন পুরোপুরি বদলে যায়, আরিসাবালাগার ভুলে। বের্নার্দো সিলভার পাস ডি-বক্সে পেয়ে জোরাল শট নেন হায়ান শেহকি। নাগালের মধ্যে থাকলেও বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি স্প্যানিশ গোলরক্ষক, আলগা বল গোলমুখে পেয়ে সহজেই হেডে জালে পাঠান নিকো ও’রাইলি।
চার মিনিট পর আরেকটি হেডে ব্যবধান দ্বিগুণও করেন ও’রাইলি। পরে অনেকটা সময় বাকি থাকলেও, ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আর্সেনাল। ২-০ গোলে জিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে সিটি।
সবশেষ ২০২০ সালে মেজর কোনো শিরোপা (এফএ কাপ) জয়ের স্বাদ পাওয়া আর্সেনাল এবার মৌসুমের শুরু থেকেই আছে দারুণ ছন্দে। তাদের কোয়াড্রপল জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছিল জোরেশোরে। সেখানে মৌসুমের প্রথম শিরোপার লড়াইয়েই এভাবে ছন্দপতন! তাতে আরিসাবালাগার দায় দেখছেন অনেকে আর মূল গোলরক্ষক দাভিদ রায়াকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখায় সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নও উঠল।
আর্তেতা অবশ্য স্পষ্টভাবেই তার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করলেন।
“আমার কাছে যেটা ঠিক মনে হয়, সেটাই আমার করতে হবে আর এটাই কাজের প্রতি সততা ও ন্যায্য। আর আমার মতে, কেপা অসাধারণ এক গোলরক্ষক-এই প্রতিযোগিতায় সে সব ম্যাচ খেলেছে, আর তাই ফাইনালে অন্য কাউকে খেলালে সেটা তার প্রতি অন্যায্য হতো।”
“আমি কোনো খেলোয়াড়কে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতায় খেলানোর কথা দিতে পারি না, কারণ দিনশেষে সেটা তাদের অর্জন করতে হবে এবং অন্যান্য পজিশনের মতো এখানেও তাদের যথেষ্ট কাজ করতে হবে।”
প্রিমিয়ার লিগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্সেনালের পোস্টে নিয়মিত দেখা গেছে রায়াকে। তবে এবারের লিগ কাপে শুরু থেকেই আরিসাবালাগাকে খেলিয়েছেন আর্তেতা। কোচের আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী গোলরক্ষক।
তাই ফাইনালের একটা ভুলকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন আর্তেতা।
“এর আগে আমরা যা দেখেছি এবং এই টুর্নামেন্টে সে যা করেছে, তার ভিত্তিতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এই পর্যন্ত আসতে পুরো যাত্রায় সেই আমাদের সাহায্য করেছে।”
“আমার মতে, এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত এবং আমি সেটাই করেছি। ভুল-ভ্রান্তি ফুটবলেরই অংশ এবং সেটা আজ হয়েছে, দুর্ভাগ্যবশত খুব গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে।”